মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী Best Online Education

Best Online Education
By -
0

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী Best Online Education


মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্রের-রাষ্ট্রপতির-ক্ষমতা-ও-কার্যাবলী



  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী আলোচনা কর


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী কী? সংবিধান অনুযায়ী নির্বাহী, আইনগত, বিচারিক ও সামরিক ক্ষমতা সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।  শিক্ষামূলক প্রবন্ধ।



মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা :


 উত্তর। বিশ্বের গণতান্ত্রিনক দেশগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা ক্ষমতা ও মর্যাদার অধিকারী হলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। অধ্যাপক স্ট্রং (C. E. Strong)-এর মতে, “পৃথিবীর অন্য কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মার্কিন রাষ্ট্রপতির ন্যায় ক্ষমতাধর রাষ্ট্রপ্রধান দেখা যায় না।”। তিনি একাধারে রাষ্ট্রের প্রধান এবং সরকারের প্রধান। তিনি ইংল্যাণ্ডের রাজার মত রাজত্ব করেন, আবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মত শাসনও করেন। তাই ব্রোগান বলেছেন, “He is the formal head of the nation; he is also the effective head of the executive.” বস্তুতপক্ষে রাষ্ট্রপতিই হলেন মার্কিন শাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় চরিত্র’ ।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলীকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করে আলােচনা করা হল :


১) মার্কিন রাষ্ট্রপতির শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা :


(ক) আইন প্রয়োেগ : শাসন বিভাগের প্রধান হিসাবে মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রধান দায়িত্ব হল আইন বিভাগ প্রণীত আইনসমূহ এবং বিচারালয়গুলির রায়গুলিকে যথাযথভাবে কার্যকর করা। এই উদ্দেশ্যে তাঁকে নীতি নির্ধারণ করতে হয়, প্রশাসনিক আদেশ জারী করতে হয়, বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও কর্মচারীদের প্রয়ােজন মত নির্দেশ দিতে হয়।


(খ) নিয়ােগ সংক্রান্ত ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতির হাতে ব্যাপক নিয়ােগ সংক্রান্ত ক্ষমতা ন্যস্ত আছে। তিনি সরকারী কর্মচারীদের, যুক্তরাষ্ট্রীয় আদালতসমূহের বিচারকদের, ক্যাবিনেট সদস্যদের, দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের নিয়ােগ করেন। উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারীদের নিয়ােগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে সিনেটের অনুমতি নিতে হয়। বর্তমানে সিনেট প্রচলিত সৌজন্যবিধির  জন্য সাধারণত এইসব নিয়ােগগুলিকে অনুমােদন করে দেয়।


(গ) সামরিক ক্ষমতা:


রাষ্ট্রপতি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিকনায়ক। সৈন্যবাহিনী সংগঠন, বিদেশে সৈন্য প্রেরণ, কোন দেশ আক্রমণ, যুদ্ধবিরতি ঘােষণা প্রভৃতি রাষ্ট্রপতির সামরিক ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত। যুদ্ধকালীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতির সামরিক ক্ষমতা উল্লেখযােগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।


(ঘ) বৈদেশিক ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণে চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনিই আন্তর্জাতিক বিষয়ে দেশের একমাত্র মুখপাত্র। তিনি যে কোন রাষ্ট্রের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন বা চুক্তি সম্পাদন করতে পারেন। তবে এরূপ সন্ধি বা চুক্তি কার্যকর মার্কিন করার জন্য সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমােদন প্রয়ােজন। তিনি কোন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেন, আবার ছিন্ন করতেও পারেন।


(ঙ) জরুরী অবস্থা-বিষয়ক ক্ষমতা; সংবিধানে উল্লেখ না থাকলেও মার্কিন রাষ্ট্রপতি দেশের সংকটজনক অবস্থায় জরুরী ক্ষমতা প্রয়ােগ করতে পারেন। কংগ্রেস তথা জনসাধারণ রাষ্ট্রপতির এই ক্ষমতাকে স্বীকার করে নিয়েছেন। গৃহযুদ্ধের সময় আব্রাহাম লিঙ্কন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উড্রো উইলসন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় টুম্যান ও আইজেন হাওয়ার, ত্রিশের দশকে দেশের অর্থনৈতিক সংকটের সময় রুজভেল্ট প্রভৃতি রাষ্ট্রনায়করা এই ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন।


২) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা :


  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতিটি প্রয়ােগ করা হয়েছে। তাই তত্ত্বগত বিচারে রাষ্ট্রপতি যেহেতু শাসন বিভাগের প্রধান, সেহেতু আইন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর কোন ক্ষমতা না থাকারই কথা। তিনি কংগ্রেসের সদস্য নন। তিনি আইনসভার অধিবেশন আহ্বান করতে, স্থগিত রাখতে বা আইন সভার নিম্নকক্ষকে ভেঙে দিতে পারেন তিনি আইনসভায় বিল উত্থাপন করতে বা বিতর্কে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। তাই অধ্যাপক ল্যাস্কি  বলেছেন, স্বাভাবিক অবস্থায় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর আইন বিষয়ক ক্ষমতাকে ঈর্ষা করতে বাধ্য।


কিন্তু তত্ত্বগতভাবে বিচার না করে বাস্তবের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে দেখা যাবে মার্কিন রাষ্ট্রপতি আইন সংক্রান্ত বিষয়েও উল্লেখযােগ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অধ্যাপক ফাইনার  যথার্থই মন্তব্য করেছেন, “He has become a very active legislative leader." যে সমস্ত উপায়ে রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের আইন সংক্রান্ত কার্যাবলীর ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন সেগুলি নিম্নে আলােচনা করা হল :


(ক) বাণী প্রেরণ : সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি মাঝে মাঝে কংগ্রেসের কাছে দেশের অবস্থা সম্পর্কে বাণী (Presidential message) পাঠাতে পারেন। এই সকল বাণীর মধ্যে শুধু দেশের অবস্থা সম্পর্কে সংবাদই থাকে না, বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়ােজনীয় সুপারিশও থাকে। উদাহরণস্বরূপ ১৯৫৪ সালে রাষ্ট্রপতি আইজেনহাওয়ার কংগ্রেসের নিকট যে বাণী প্রেরণ করেন তাতে দেশের কৃষি সমস্যা, অর্থ সমস্যা, শ্রম সমস্যা, পররাষ্ট্রনীতি প্রভৃতি ৬৫টি বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়। কংগ্রেসের পক্ষে এই সমস্ত সুপারিশগুলিকে অগ্রাহ্য করা সম্ভব হয় না, কারণ এগুলির পিছনে জনগণের সমর্থনও থাকে।


(খ) ভিটো প্রয়ােগের ক্ষমতা : রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া কংগ্রেস কর্তৃক গৃহীত কোন বিল আইনে পরিণত হতে পারে না। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি কোন বিলে সম্মতি দিতে পারেন, নাও দিতে পারেন অথবা সম্মতি দান স্থগিত রাখতে পারেন। একে বলা হয় রাষ্ট্রপতির ভিটো ক্ষমতা। বস্তুত এই ভিটো ক্ষমতা প্রয়ােগের মাধ্যমে অথবা প্রয়ােগের হুমকি দেখিয়ে তিনি কংগ্রেসের আইন সংক্রান্ত ক্ষমতাকে যথেষ্ট প্রভাবিত করতে পারেন। 


(গ) বিশেষ অধিবেশন আহ্বান : সাধারণভাবে কংগ্রেসের অধিবেশন আহ্বান করতে না পারলেও রাষ্ট্রপতি জরুরী কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়ােজনে বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন। জনমত তাঁর পক্ষে থাকলে, এবং কংগ্রেসে তার দলীয় সদস্যরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে, এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেন।


(ঘ) প্রশাসনিক নির্দেশ দান; সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে অর্ডিন্যান্স (Ordinance) বা ‘শাসন বিভাগীয় আদেশ’ (executive order) জারি করার যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তার মাধ্যমেও তিনি আইন সংক্রান্ত ব্যাপারে যথেষ্ট প্রভাব খাটাতে পারেন।


(ঙ) চাকুরি বিতরণ: চাকুরি প্রদান ও অন্যান্য সুযােগ সুবিধা বিতরণের (distribution of spoils) মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের অনেক সদস্যকে নিজ বশে রাখতে সমর্থ হন।


(চ) জনমতের ওপর প্রভাব: রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের নিকট যেসব সুপারিশগুলি পাঠান সেগুলি বেতার, দূরদর্শন, সংবাদপত্র প্রভৃতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে থাকে। রাষ্ট্রপতির ইচ্ছা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন না করলে জনসমর্থন হারাতে হবে—এই ভয়ে কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধাচারণ করতে পারে না।


সুতরাং দেখা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসৃত হলেও রাষ্ট্রপতি বিভিন্নভাবে কংগ্রেসের আইন সংক্রান্ত ক্ষমতার ওপর প্রভাব খাটাতে পারেন।


(৩)মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা : 


 রাষ্ট্রপতি সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ােগ করেন। তবে তাদের অপসারণের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই। রাষ্ট্রপতি দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তির দণ্ডাদেশ হ্রাস করতে পারেন, দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখতে পারেন অথবা দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা প্রদর্শন করতে পারেন।


(8) মার্কিন রাষ্ট্রপতির অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা;


  ১৯২১ সালের বাজেট ও হিসাব রক্ষা আইন অনুসারে রাষ্ট্রপতি সরকারী ব্যয় নির্বাহের জন্য কংগ্রেসের নিকট প্রয়ােজনীয় অর্থ দাবি করতে পারেন, বিভিন্ন বিভাগের আনুমানিক ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে, হ্রাস করতে অথবা সংশােধন করতে পারেন। তিনি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব বা বাজেট পেশ করেন কংগ্রেসের নিকট। এছাড়া বিভিন্ন পরিপূরক ব্যয় বরাদ্দের দাবিও তিনি কংগ্রেসের নিকট উত্থাপন করতে পারেন।


৫ে ) বিশ্ব-নেতা হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ভূমিকা : 


 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়, ৯০-এর দশকে এসে তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ঐ সময় থেকে সােভিয়েত রাশিয়া তথা আরও কয়েকটি সমাজতান্ত্রিক দেশের বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব-রাজনীতির নিয়ামক শক্তি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। বলাবাহুল্য বিশ্বরাজনীতির এই নতুন প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ও তৎপরতা আগের থেকে বহুগুণ বেড়ে গেছে।


উপরােক্ত আলােচনা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  রাষ্ট্রপতির ব্যাপক ক্ষমতা ও পদমর্যাদা সম্পর্কে সহজেই অনুমান করা যায়। অগ এবং রে  মন্তব্য করেছেন যে, “কেবলমাত্র ইউরােপের স্বৈরাচারী শাসকদের বাদ দিলে অন্য কোথাও মার্কিন রাষ্ট্রপতির মত ক্ষমতা সম্পন্ন শাসকপ্রধানের সন্ধান পাওয়া যায় না। অনুরূপভাবে স্ট্রং (C. F. Strong) বলেছেন, “মার্কিন রাষ্ট্রপতির ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রপ্রধান পৃথিবীর আর কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দেখা যায় না। অবশ্য রাষ্ট্রপতি পদের ক্ষমতা ও মর্যাদা অনেকখানি নির্ভর করে পদাধিকারীর ব্যক্তিত্ব ও কর্মদক্ষতার ওপর।



---


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী  New Answer



---


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী


ভূমিকা


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে রাষ্ট্রপতি একই সঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে (Article II) রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা শুধু প্রশাসনিক নয়—আইন, বিচার, পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। তাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী মার্কিন শাসনব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।



---


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির অবস্থান


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি—


দেশের রাষ্ট্রপ্রধান


দেশের সরকারপ্রধান


নির্বাহী বিভাগের প্রধান


সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক (Commander-in-Chief)



এই তিনটি ভূমিকা একসঙ্গে পালন করায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী।



---


রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রধান উৎস


রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার উৎস তিনটি—


1. মার্কিন সংবিধান



2. কংগ্রেস প্রণীত আইন



3. প্রথা ও বিচারালয়ের ব্যাখ্যা





---


মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ


রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে সাধারণত পাঁচটি ভাগে ভাগ করা যায়—


1. নির্বাহী ক্ষমতা



2. আইনগত ক্ষমতা



3. বিচারিক ক্ষমতা



4. সামরিক ক্ষমতা



5. কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র ক্ষমতা




নিচে প্রতিটি ক্ষমতা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।



---


১. নির্বাহী ক্ষমতা (Executive Powers)


(ক) প্রশাসনের প্রধান


রাষ্ট্রপতি যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রধান। সমস্ত সরকারি দপ্তর ও সংস্থা তাঁর অধীনে কাজ করে।


(খ) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ


রাষ্ট্রপতি নিয়োগ করেন—


মন্ত্রী (Cabinet Members)


সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য ফেডারেল আদালতের বিচারপতি


রাষ্ট্রদূত


গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের



(সেনেটের অনুমোদন সাপেক্ষে)


(গ) আইন কার্যকর করা


কংগ্রেস প্রণীত আইন কার্যকর করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির।


(ঘ) নির্বাহী আদেশ জারি


রাষ্ট্রপতি Executive Order জারি করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা আইন বলেই কার্যকর হয়।



---


২. আইনগত ক্ষমতা (Legislative Powers)


(ক) আইন অনুমোদন ও ভেটো ক্ষমতা


কংগ্রেস পাস করা কোনো বিল—


রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করলে তা আইন হয়


আপত্তি করলে ভেটো করতে পারেন



এটি রাষ্ট্রপতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ক্ষমতা।


(খ) কংগ্রেসে বার্তা প্রদান


রাষ্ট্রপতি প্রতিবছর কংগ্রেসে State of the Union Address দেন, যেখানে তিনি সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন।


(গ) বিশেষ অধিবেশন আহ্বান


প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারেন।



---


৩. বিচারিক ক্ষমতা (Judicial Powers)


(ক) ক্ষমা প্রদানের অধিকার


রাষ্ট্রপতি—


অপরাধীর শাস্তি মকুব


সাজা লঘু


সম্পূর্ণ ক্ষমা



দিতে পারেন (রাষ্ট্রদ্রোহ ছাড়া)।


(খ) বিচারপতি নিয়োগ


রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্ট ও ফেডারেল আদালতের বিচারপতি নিয়োগ করেন, যা বিচারব্যবস্থায় তাঁর প্রভাব বাড়ায়।



---


৪. সামরিক ক্ষমতা (Military Powers)


(ক) সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক


রাষ্ট্রপতি যুক্তরাষ্ট্রের—


স্থলবাহিনী


নৌবাহিনী


বিমানবাহিনী



এর সর্বাধিনায়ক।


(খ) যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত


যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের হলেও রাষ্ট্রপতি বাস্তবে যুদ্ধ পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেন।


(গ) জাতীয় নিরাপত্তা


দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রপতি জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।



---


৫. কূটনৈতিক বা পররাষ্ট্র ক্ষমতা (Diplomatic Powers)


(ক) আন্তর্জাতিক চুক্তি


রাষ্ট্রপতি বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করেন (সেনেটের অনুমোদন প্রয়োজন)।


(খ) রাষ্ট্রদূত নিয়োগ


রাষ্ট্রপতি বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন।


(গ) বিদেশি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি


নতুন রাষ্ট্র বা সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে।



---


রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব ও কার্যাবলী


রাষ্ট্রপতির প্রধান কার্যাবলী হলো—


সংবিধান রক্ষা করা


দেশের আইন কার্যকর করা


জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা


অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া


আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা রক্ষা করা




---


ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা


যদিও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বিস্তৃত, তবুও তা সীমাহীন নয়।


সীমাবদ্ধতার কারণ—


কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ


বিচার বিভাগের নজরদারি


সংবিধান


জনমত ও গণমাধ্যম



এই ব্যবস্থা Checks and Balances নামে পরিচিত।



---


Checks and Balances ব্যবস্থা


মার্কিন শাসনব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ক্ষমতার ভারসাম্য।


কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির ভেটো অতিক্রম করতে পারে


আদালত রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারে


কংগ্রেস ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারে




---


শিক্ষামূলক গুরুত্ব (Exam Importance)


পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট


রাষ্ট্রপতি = রাষ্ট্রপ্রধান + সরকারপ্রধান


ক্ষমতার পাঁচটি প্রধান ভাগ


ভেটো ক্ষমতা


সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক


Checks and Balances



এই পয়েন্টগুলো লিখলে উত্তর পূর্ণতা পায়।



---


উপসংহার


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী নির্বাহী প্রধান। সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ও আন্তর্জাতিক ভূমিকার কারণে তাঁর ক্ষমতা ব্যাপক। তবে Checks and Balances ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ক্ষমতা নিয়ন্ত্রিত। ফলে মার্কিন শাসনব্যবস্থা একদিকে শক্তিশালী, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ও ভারসাম্যপূর্ণ।



---


✍️ নম্বর বাড়ানোর টিপস


✔ ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ লিখুন

✔ সাংবিধানিক শব্দ ব্যবহার করুন

✔ ভূমিকা ও উপসংহার রাখুন

✔ উদাহরণমূলক বাক্য লিখুন



---



FAQs: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কার্যাবলী


1. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কে?


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি হলেন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান হিসেবে দেশ পরিচালনা করেন।



---


2. মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রধান উৎস কী?


রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার প্রধান উৎস হলো মার্কিন সংবিধান, বিশেষ করে সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ (Article II)।



---


3. মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রধান ক্ষমতাগুলি কী কী?


মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রধান ক্ষমতাগুলি হলো—নির্বাহী ক্ষমতা, আইনগত ক্ষমতা, বিচারিক ক্ষমতা, সামরিক ক্ষমতা এবং কূটনৈতিক ক্ষমতা।



---


4. মার্কিন রাষ্ট্রপতি কি আইন প্রণয়ন করতে পারেন?


না, আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কংগ্রেসের। তবে রাষ্ট্রপতি কোনো বিল অনুমোদন বা ভেটো করতে পারেন।



---


5. ভেটো ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?


ভেটো ক্ষমতা হলো রাষ্ট্রপতির সেই অধিকার, যার মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলকে আইনে পরিণত হতে বাধা দিতে পারেন।



---


6. মার্কিন রাষ্ট্রপতির বিচারিক ক্ষমতা কী?


রাষ্ট্রপতির বিচারিক ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে অপরাধীদের ক্ষমা প্রদান, শাস্তি লঘু করা এবং ফেডারেল আদালতের বিচারপতি নিয়োগ।



---


7. রাষ্ট্রপতি কি সেনাবাহিনীর প্রধান?


হ্যাঁ, মার্কিন রাষ্ট্রপতি যুক্তরাষ্ট্রের স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (Commander-in-Chief)।



---


8. মার্কিন রাষ্ট্রপতি কি যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারেন?


না, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা কংগ্রেসের। তবে যুদ্ধ পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপতি নেন।



---


9. পররাষ্ট্রনীতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী?


রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক চুক্তি করেন, বিদেশি রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন এবং নতুন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেন।



---


10. Checks and Balances বলতে কী বোঝায়?


Checks and Balances হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে এক বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, যাতে কেউ অতিরিক্ত ক্ষমতাশালী না হয়।



---


11. মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কি সীমাহীন?


না, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সংবিধান, কংগ্রেস, বিচার বিভাগ ও জনমতের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ।



---


12. মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে কীভাবে অপসারণ করা যায়?


রাষ্ট্রপতিকে Impeachment প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণ করা যায়, যা কংগ্রেস পরিচালনা করে।



---


13. পরীক্ষায় এই বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?


এই বিষয়টি মার্কিন শাসনব্যবস্থা বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্কুল-কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরীক্ষায় নিয়মিত প্রশ্ন আসে।



---


14. পরীক্ষায় উত্তর লেখার সময় কোন বিষয়গুলি উল্লেখ করা উচিত?


ক্ষমতার শ্রেণিবিভাগ, সংবিধানের উল্লেখ, Checks and Balances এবং উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করলে বেশি নম্বর পাওয়া যায়।



---


15. মার্কিন রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা গণতন্ত্রের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?


কারণ রাষ্ট্রপতির শক্তিশালী নেতৃত্বের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমতার উপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বজায় থাকে।



---



Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default