যুক্তিবিজ্ঞানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর অবরোহ ও আরোহ যুক্তি ||

Best Online Education
By -
0

 যুক্তিবিজ্ঞানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর অবরোহ ও আরোহ যুক্তি ||

যুক্তিবিজ্ঞানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর অবরোহ ও আরোহ যুক্তি



যুক্তিবিজ্ঞানের স্বরূপ প্রশ্ন উত্তর অবরোহ ও আরোহ যুক্তি || এই আর্টিকেলটিতে অবরোহ ও আরোহ যুক্তি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।



যুক্তিবিজ্ঞানের স্বরূপ (Nature of Logic)


* যুক্তিবিজ্ঞানের অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়:


ভূমিকা, যুক্তির স্বরূপ, অবরোহ ও আরোহ যুক্তি – উদাহরণসহ আলোচনা। যুক্তি ও যুক্তির আকার। যুক্তির বৈধতা ও সত্যতা, যুক্তির অবৈধতা, অবৈধতা ও সত্যতা। নির্দেশিকা।



→ ভূমিকা ঃ যুক্তিবিজ্ঞানের ইংরেজি প্রতিশব্দ হল Logic। গ্রিক শব্দ Logike থেকে লাতিন শব্দ Logos শব্দটি উদ্ভূত। Logos শব্দের অর্থ চিন্তা। সুতরাং, ব্যুৎপত্তির দিক থেকে Logic শব্দের অর্থ চিন্তাসম্পর্কীয় বিজ্ঞান। চিন্তার সাহায্যে আমরা জ্ঞান লাভ করি। এই জ্ঞান প্ৰত্যক্ষ হতে পারে, আবার অনুমানের সাহায্যেও পেতে পারি। প্রত্যক্ষের ক্ষেত্রে ভুল হবার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। 


 অনুমানলব্ধ জ্ঞানের ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। Logic-এর আলোচ্য বিষয় হল অনুমান-লব্ধ জ্ঞান। কীভাবে অনুমান করলে অনুমান যথার্থ বা বৈধ হবে, বা বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি কী, তা Logic-এর প্রধান আলোচ্য বিষয়। এজন্য বলা হয়, যুক্তিবিজ্ঞান বা তর্কবিদ্যা হল বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি সম্পৰ্কীয় বিজ্ঞান ।


নিয়ম (Law) হল সাধারণ সত্যসম্পর্কীয় বিবৃতি। সত্যতা বিশেষ হতে পারে, আবার সার্বিক হতে পারে। চিন্তার সূত্রগুলি সাধারণ সত্য, সব বৈধ চিন্তার মধ্যে নিহিত। এই সাধারণ সত্যের সঙ্গে বৈধ চিন্তার সংগতি থাকা চাই ।


চিন্তা (Thought) শব্দটি চিন্তনপ্রক্রিয়া (process) এবং ওই প্রক্রিয়ার ফলকে বোঝায়। চিন্তনের ফলগুলি (product) হল পদ, বচন এবং যুক্তি। এগুলি যুক্তিবিদ্যার বিষয়বস্তু। বৈধ (Valid) শব্দটির দুটি অর্থ আছে। সংকীর্ণ অর্থে একটি চিন্তা বৈধ হবে যদি এর মধ্যে আত্মঅসংগতি (self-contradiction) না থাকে।


  একে আকারগত সত্যতা (Formal Truth) বলা হয়। ব্যাপক অর্থে একটি চিন্তা বৈধ হবে যদি এর সঙ্গে বাস্তব জগতের মিল থাকে । এই অর্থে সত্যতাকে বস্তুগত সত্যতা (Material Truth) বলা হয়। উভয় প্রকার সত্যতা যুক্তিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।


যুক্তিবিজ্ঞান বা তর্কবিদ্যাকে বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি সম্পর্কীয় বিজ্ঞান বলা হয়। কোনো বিষয় সম্বন্ধে আমাদের চিন্তা বৈধ হতে পারে, আবার অবৈধ হতে পারে। চিন্তাকে যুক্তির আকারে প্রকাশ করা হয়। যুক্তি নিয়মানুগ হলে বৈধ হবে, নিয়মানুগ না হলে অবৈধ হবে। কীভাবে যুক্তি বৈধ হবে, তার নিয়মাবলি যুক্তিবিজ্ঞান আলোচনা করে ।



যুক্তি দু-প্রকারের - - অবরোহ যুক্তি (deductive argument) ও আরোহ যুক্তি (inductive argument)। উভয় প্রকার যুক্তির গঠনগত পার্থক্য ও বৈধতা বিচার করা যুক্তিবিজ্ঞানের উদ্দেশ্য।



যুক্তিবিজ্ঞানের প্রকৃতি অবরোহ এবং আরোহ বিষয়মুখী প্রশ্নোত্তর


প্রশ্ন ১। যুক্তিবিজ্ঞান কাকে বলে ?


বৈধ চিন্তার নিয়মাবলি সম্পর্কীয় বিজ্ঞানকে যুক্তিবিজ্ঞান বলে।


 প্রশ্ন ২। আকারগত বৈধতা কাকে বলে ?


উত্তর : যুক্তিটি নিয়ম অনুসারে গঠন করা হলে যুক্তির আকারগত বৈধতা থাকে। 


৩. হেতুবাক্য কাকে বলে ?


যার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত করা হয়, তাকে হেতুবাক্য বলে। 


৪.সিদ্ধান্ত বলতে কী বোঝায় ?


উত্তর : হেতুবাক্য থেকে যা প্রতিপাদিত হয়, তাকে সিদ্ধান্ত বলে ৷



 ৫. অবরোহ যুক্তির বৈধতা বলতে কী বোঝায়?


উত্তর :


বৈধ যুক্তির নিয়মাবলি অনুসরণ করা।


 প্রশ্ন ৬। বচনের আকার বলতে কী বোঝায়?


উত্তর : বচনের কাঠামোকে বোঝায়। এই কাঠামোতে কেবল পদগ্রাহক থাকে ৷ 


৭. যুক্তির অবয়ব কী ?


যুক্তির কাঠামোকে যুক্তির অবয়ব বলে। এই কাঠামোতে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত থাকে।


৮.অনুমান ও যুক্তির পার্থক্য কী ?


 উত্তর : অনুমানের ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে।


৯। বৈধতা বলতে কী বোঝায়? বৈধতা ও সত্যতার মধ্যে পার্থক্য কী? কোনো বৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত কী মিথ্যা হতে পারে ?


ও উত্তর : যুক্তিবিজ্ঞানে বৈধতা বলতে আকারগত বৈধতাকে বোঝায়। সত্যতা হল বচনের ধর্ম। একটিমাত্র ক্ষেত্র ছাড়া বৈধতা ও সত্যতার মধ্যে সম্বন্ধ নেই। এই ক্ষেত্রটি হল, যে যুক্তির আশ্রয়বাক্য সত্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা, সেই যুক্তি অবৈধ হয়। বৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে ।


প্রশ্ন ১০। আরোহ যুক্তি কী বৈধ বা অবৈধ হতে পারে ?


উত্তর : । না। আরোহ যুক্তি সম্ভাব্য, সুনিশ্চিত বা কম সম্ভাব্য হয় ।


১১. আশ্রয়বাক্য সত্য, কিন্তু সিদ্ধান্ত মিথ্যা হলে অবরোহ যুক্তি কী বৈধ হতে পারে ?


উত্তর : না। এক্ষেত্রে যুক্তি অবৈধ হবে।


প্রশ্ন ১২। যুক্তির অবৈধতার সঙ্গে সিদ্ধান্তের সত্যতা বা মিথ্যাত্বের কী কোনো  নেই ?


উত্তর :


অধিকাংশ ক্ষেত্রে থাকে না। তবে একটি ক্ষেত্রে আছে। যে যুক্তির আশ্রয়বাক্য সত্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা, সেই যুক্তি অবৈধ হয়।


প্রশ্ন ১৩। যুক্তি কত প্রকার ও কী কী ?


যুক্তি প্রধানত দু-প্রকার। অবরোহ যুক্তি এবং আরোহ যুক্তি।

-


 প্রশ্ন ১৪। কোন্ যুক্তির সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যকে অতিক্রম করে যায়? 



আরোহ যুক্তি ।


 প্রশ্ন ১৫। কোন্ যুক্তির গতি বিশেষ থেকে সার্বিকের দিকে?


 আরোহ যুক্তি ।


প্রশ্ন ১৬। কোন্ যুক্তির সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত নয়, সম্ভাব্য ?


 আরোহ যুক্তি।


স্ প্রশ্ন ১৭। কোন্ যুক্তির আশ্রয়বাক্য সত্য হলে সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে ? 


আরোহ যুক্তি।


 প্রশ্ন ১৮। কোন যুক্তির আশ্রয়বাক্য সত্য হলে সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে না ?


 অবরোহ যুক্তি


প্রশ্ন ১৯। কোন্ যুক্তির সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের মধ্যে নিহিত থাকে ?


 অবরোহ যুক্তি ।


 প্রশ্ন ২০। কোন্ যুক্তির সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় ?


 অবরোহ যুক্তি ।


 প্রশ্ন ২১ কোন্ যুক্তির সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হয় না ?


 অবরোহ যুক্তি


প্রশ্ন ২২। কোন্ যুক্তি বস্তুগতভাবে সত্য হতে পারে ?


উত্তর : আরোহ যুক্তি।


একটি বৈধ যুক্তির হেতুবাক্য সত্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা, এমন হতে পারে না। সুতরাং, যুক্তি বাক্যের বৈধতা এবং হেতুবাক্য ও সিদ্ধান্তের সত্যতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে। এই সম্বন্ধের ভিত্তিতে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :


যুক্তিবিজ্ঞানের স্বরূপ ছোট প্রশ্ন


প্রশ্ন ১। হেতুবাক্য সত্য, সিদ্ধান্ত সত্য যুক্তি বৈধ, না অবৈধ?


 বৈধ হতে পারে, আবার অবৈধও হতে পারে ।


২. হেতুবাক্য সত্য, সিদ্ধান্ত মিথ্যা – যুক্তি বৈধ, না অবৈধ ?


 অবৈধ।



প্রশ্ন ৩। যুক্তিবাক্য মিথ্যা, সিদ্ধান্ত সত্য যুক্তি বৈধ, না অবৈধ?


যুক্তি বৈধ বা অবৈধ হতে পারে।

 


৪.যুক্তিবাক্য মিথ্যা, সিদ্ধান্ত মিথ্যা — যুক্তি বৈধ, না অবৈধ?


 যুক্তি অবৈধ বা বৈধ হতে পারে ।


প্রশ্ন ৫। অবৈধ যুক্তির হেতুবাক্য সত্য, সিদ্ধান্ত কী হতে পারে ?


 সিদ্ধান্ত সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।



৬.অবৈধ যুক্তির হেতুবাক্য মিথ্যা, সিদ্ধান্ত কী হতে পারে ?


 সিদ্ধান্ত সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।


প্রশ্ন ৭৷ অবৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত সত্য হলে হেতুবাক্য কী হবে? 


হেতুবাক্য সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।


প্রশ্ন ৮। অবৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত মিথ্যা হলে হেতুবাক্য কী হবে ? 


হেতুবাক্য সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।


প্রশ্ন ৯। বৈধ যুক্তির হেতুবাক্য সত্য হলে সিদ্ধান্ত কী হবে ?



সিদ্ধান্ত সত্য হবে।


 ১০।  : বৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত সত্য হলে হেতুবাক্য কী হবে?


 হেতুবাক্য সত্য হতে পারে, আবার মিথ্যাও হতে পারে । 



১১.বৈধ ও অবৈধ যুক্তির মধ্যে পার্থক্য কী ? 


বৈধ যুক্তির নিয়মাবলী অনুসরণ করলে যুক্তি বৈধ হয়, নিয়ম অনুসরণ না করলে যুক্তি অবৈধ হয়।



কোটি সত্য, কোনটি মিথ্যা বল, মিথ্যা হলে সংশোধন কর : 



১.একটি বচন বৈধ বা অবৈধ হতে পারে। 


উক্তিটি মিথ্যা। বচন সত্য বা মিথ্যা হয়। যুক্তি বৈধ বা অবৈধ হয়। 


২.বৈধ যুক্তির সিদ্ধান্তকে সত্য হতেই হবে।


 উক্তিটি মিথ্যা। বৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যাও হতে পারে। 



৩.শুধু বচনই সত্য বা মিথ্যা হতে পারে। 


উক্তিটি সত্য। সত্য বা মিথ্যা কেবল বচনের ধর্ম।


 ৪.যুক্তি সম্পর্কে কেবল বৈধ বা অবৈধ কথা দুটি প্রযোজ্য। 


উক্তিটি সত্য। 



৫. কোনো যুক্তি অবৈধ হলেই তার সিদ্ধান্ত মিথ্যা হবে - একথা কি ঠিক?


উক্তিটি মিথ্যা, সিদ্ধান্ত সত্য বা মিথ্যা হতে পারে।


৬.অবৈধ যুক্তির সিদ্ধান্ত সত্য অথচ যুক্তিবাক্য মিথ্যা হতে পারে। 


উক্তিটি সত্য। যুক্তিবাক্য মিথ্যা হতে পারে।



প্রশ্ন ৭। কোনো বৈধ যুক্তির হেতুবাক্য সত্য হলে, সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে না। 


উক্তিটি সত্য।


৮. বৈধ যুক্তির যুক্তিবাক্য মিথ্যা হলে সিদ্ধান্ত সত্য হতে পারে না।


 উক্তিটি মিথ্যা। সিদ্ধান্ত সত্য হতে পারে আবার মিথ্যাও হতে পারে।


৯. একটি যুক্তি অবৈধ হবে যদি তার যুক্তিবাক্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা হয়।



উক্তিটি মিথ্যা। বৈধ যুক্তির আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে। 




সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর যুক্তিবিজ্ঞানের স্বরূপ 


* প্রশ্ন ১। যুক্তি কী ?



? উত্তর ঃ যুক্তির বৈধতা বিচার করা যুক্তিবিজ্ঞান বা লজিক-এর প্রধান কাজ। যুক্তি হল পরস্প সম্পর্কযুক্ত এমন এক বচনসমষ্টি যার অন্তর্ভুক্ত কোনো একটি বচনের সত্যতা অন্য বচন বা বচনগুলির সত্যতার ভিত্তিতে প্রমাণ করা হয়। যে বচনের সত্যতা প্রমাণ করা হয়, তাকে সদ্ধান্ত (Conclusion) এবং যে বচন বা বচনসমষ্টির ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত করা হয়, সেগুলির প্রত্যেকটিকে হেতুবাক্য বা আশ্রয়বাক্য (Premise) বলে।



 প্রশ্ন ২। যুক্তির অবয়ব কাকে বলে ?


 উত্তর ঃ প্রতিটি যুক্তির একটি কাঠামো আছে। এক বা একাধিক বচন দ্বারা এই কাঠামো গঠন করা হয়। যেসব বচন দিয়ে যুক্তি গঠিত হয়, সেগুলি পৃথকভাবে অথবা সেগুলির সম্মিলিত যুক্তির অবয়ব বলে।


প্রশ্ন ৩। অবরোহ যুক্তি কাকে বলে ?


3 উত্তর ঃ যে যুক্তিতে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় এবং সিদ্ধান্ত কখনও আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হয় না, তাকে অবরোহ যুক্তি বলে।


ঊ প্রশ্ন ৪। আরোহ যুক্তি কাকে বলে ?


উত্তর ঃ যে যুক্তিতে কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ সম্বন্ধের উপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বচন সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহ যুক্তি বলে। এই যুক্তির সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হয় ।


 প্রশ্ন ৫। অমাধ্যম যুক্তি কাকে বলে ?


 উত্তর ঃ এটি এক শ্রেণির অবরোহ অনুমান। এই অনুমানের একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে, অর্থের পরিবর্তন না করে, বিধিসম্মতভাবে সরাসরি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত করা হয় ।


 প্রশ্ন ৬। মাধ্যম যুক্তি কাকে বলে ?


 উত্তর ঃ যে অবরোহ অনুমানে একটি আশ্রয়বাক্য থেকে অন্য একটি আশ্রয়বাক্যের মাধ্যমে, সিদ্ধান্ত বিধিসম্মতভাবে এবং অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে মাধ্যম অনুমান বা যুক্তি বলে। 



 প্রশ্ন ৭। অমিশ্র নিরপেক্ষ ন্যায় কাকে বলে ?


* উত্তর : যে ন্যায়ের প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্য নিরপেক্ষ বচন এবং সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ বচন, তাকে অমিশ্র নিরপেক্ষ ন্যায় বলে।


 প্রশ্ন ৮। প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় কাকে বলে ?


 উত্তর ঃ যে ন্যায়ের প্রধান আশ্রয়বাক্য প্রাকল্পিক বচন, অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ বচন হয়, তাকে প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় বলে।


প্রশ্ন ৯। বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় কাকে বলে ?


উত্তর : যে ন্যায়ের প্রধান আশ্রয়বাক্য বৈকল্পিক বচন, অপ্রধান আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত নিরপেক্ষ বচন হয়, তাকে বৈকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় বলে।


 প্রশ্ন ১০। যুক্তির অবয়ব বলতে কী বোঝায় ?


্ উত্তর ঃ যেসব বচন দিয়ে যুক্তি গঠন করা হয়, সেগুলি পৃথকভাবে অথবা সেগুলির সম্মিলিত রূপকে যুক্তির অবয়ব বলে। যুক্তি প্রধানত দু-প্রকার, অবরোহ যুক্তি ও আরোহ যুক্তি। উভয় প্রকার যুক্তি একাধিক বচন দ্বারা গঠন করা হয়। কিন্তু যে-কোনো বাক্য সমষ্টি যুক্তি গঠন করতে পারে না বা যুক্তির অবয়ব হিসাবেও গণ্য হতে পারে না। যেসব বাক্যদ্বারা যুক্তির অবয়ব গঠন করা হবে সেগুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা চাই। এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার ফলে বলা যায় যে, এর সিদ্ধান্ত সত্য কেন না আশ্রয় বাক্যগুলি সত্য ।


 প্রশ্ন ১১। যুক্তির অবয়বের উপাদান কী?


উত্তর ঃ যেসব বাক্যসমষ্টি দ্বারা যুক্তির অবয়ব গঠন করা হবে, সেগুলির পৃথকভাবে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার যোগ্যতা থাকা চাই। যে বাক্য সত্য বা মিথ্যা হতে পারে, সেই বাক্যকে বচন (Proposition) বলে। সুতরাং যুক্তির অবয়ব পরস্পর সংযুক্ত বচন দ্বারা গঠিত হয়। 


 প্রশ্ন ১২। যুক্তির আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত কাকে বলে ?


- * উত্তর : যেসব বচন দ্বারা অনুমানের বা যুক্তির অবয়ব গঠন করা হয়, সেইসব বচনকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয় আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত। যে বচনের সত্যতা প্রমাণ করা হয় সেই বচনকে সিদ্ধান্ত এবং যে বচনের বা বচনসমষ্টির সত্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা হয় সেগুলির প্রত্যেকটিকে আশ্রয়বাক্য বলা হয়। একটি যুক্তিতে একটি সিদ্ধান্ত থাকে। কিন্তু এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থাকে। অমাধ্যম অনুমানে একটি আশ্রয়বাক্য ও মাধ্যম অনুমানে দুটি আশ্রয়বাক্য থাকে ।


 প্রশ্ন ১৩। যুক্তির বৈধতা বা অবৈধতা ও সত্যতার মধ্যে সম্বন্ধ কী ?


উত্তর ঃ যুক্তি আকারগত দিক থেকে বৈধ হতে পারে। আবার অবৈধ হতে পারে। যে নিয়ম অনুসরণ করলে যুক্তি বৈধ হয়, সেই নিয়ম লঙ্ঘন করলে যুক্তি অবৈধ হয়। আকারগত অবৈধ এমন যুক্তির সঙ্গে তার অবয়ব-বচনের সত্য-মিথ্যার কোনো সম্বন্ধ নেই। অবয়ব-বচন সত্য বা মিথ্যা হলেও কোনো অবরোহ যুক্তি বৈধ বা অবৈধ হতে পারে ।




* প্রশ্ন ১৪। আশ্রয় বাক্য মিথ্যা ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা এমন অবৈধ যুক্তির দৃষ্টান্ত দাও ?


 উত্তর ঃ A – সব বিদ্বান ব্যক্তি হয় অসৎ ব্যক্তি।-- মিথ্যা


A – সব ছাত্র হয় অসৎ ব্যক্তি। --মিথ্যা


..A- • সব ছাত্র হয় বিদ্বান ব্যক্তি । - - মিথ্যা


 [যুক্তিটির অবয়ব বাক্যগুলি মিথ্যা ও যুক্তিটি অবৈধ, এটি অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট।]


 * প্রশ্ন ১৫। আশ্রয় বাক্য সত্য ও সিদ্ধান্ত সত্য এমন অবৈধ যুক্তির দৃষ্টান্ত দাও ৷ -


 উত্তর : A - - - সব বিদ্বান ব্যক্তি হন পণ্ডিত ব্যক্তি। --সত্য


A সব নৈয়ায়িক হল পণ্ডিত ব্যক্তি। -  - সত্য 


 A — সব নৈয়ায়িক হন বিদ্বান ব্যক্তি। সত্য -


 [যুক্তিটি অবৈধ কিন্তু এর অবয়ববাক্যগুলি সত্য । ]


 সুতরাং যুক্তির অবৈধতার সঙ্গে অবয়ববাক্যের সত্য-মিথ্যার কোনো সম্পর্ক নেই। অবশ্য একটি ক্ষেত্র ছাড়া - যে যুক্তির আশ্রয়বাক্য সত্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা সেই যুক্তি অবশ্যই অবৈধ


যুক্তির বৈধতা ও অবৈধতার সঙ্গে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের সত্যতা ও মিথ্যাত্বের সম্বন্ধ ।


সত্যতা বচনের ধর্ম। কেবল বচন সত্য বা মিথ্যা হতে পারে। বৈধতা যুক্তির ধর্ম। যুক্তি বৈধ বা অবৈধ হয়। যুক্তির ক্ষেত্রে সত্য মিথ্যা শব্দ বৈধতার প্রতিশব্দ ।


 (১) যুক্তির বৈধতা যুক্তিবাক্যের সত্যতার উপর অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভর করে না। যেমন,


 A – সকল মানুষ হয় অমর ব্যক্তি। – মিথ্যা। - - A - সকল রাজা হয় মানুষ ৷ - সত্য। - · 

 A – সকল রাজা হয় অমর ব্যক্তি। -মিথ্যা


যুক্তিটির প্রথম আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত মিথ্যা, অথচ যুক্তিটি বৈধ। এটি প্রথম সংস্থানের বৈধ মূর্তি। এর নাম BARBARA


২.হেতুবাক্য ও সিদ্ধান্ত সত্য হলেও কোনো যুক্তি অবৈধ হতে পারে। যেমন,


 O - কোনো কোনো বালক নয় পরিশ্রমী ব্যক্তি--- আবর্তনীয়, সত্য।

 O - কোনো কোনো পরিশ্রমী ব্যক্তি নয় বালক - - আবর্তনীয়, সত্য। 


 এ থেকে বলা যায়, যেসব বাক্যের দ্বারা যুক্তি গঠন করা হয় সেগুলি পৃথক-পৃথকভাবে সত্য বা মিথ্যা হতে পারে, কিন্তু যুক্তিটি বৈধ বা অবৈধ হতে পারে। অবশ্য আরোহ-অনুমানে আশ্রয়বাক্যের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব বিবেচনা করা হয়। বিষয়টি নীচে দেখানো,



 আশ্রয় বাক্য --সত্য,  সিদ্ধান্ত - সত্য, অবরোহ যুক্তি - বৈধ /অবৈধ 



আশ্রয় বাক্য --সত্য,  সিদ্ধান্ত - মিথ্যা , অবরোহ যুক্তি -  /অবৈধ



আশ্রয় বাক্য -- মিথ্যা ,  সিদ্ধান্ত - সত্য  , অবরোহ যুক্তি - বৈধ /অবৈধ



আশ্রয় বাক্য -- মিথ্যা ,  সিদ্ধান্ত - মিথ্যা   , অবরোহ যুক্তি - বৈধ /অবৈধ



 প্রশ্ন ১৬। যুক্তি কী ?


উত্তর ঃ অনুমানের ভাষায় প্রকাশিত রূপকে যুক্তি বলে। দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায়ই অনুমান করে থাকি। যদি কোনো শিশু আগুনে হাত দেয় তবে অনুমান করি তার হাত পুড়বে, আকাশে কালো মেঘ দেখলে অনুমান করি বৃষ্টি হবে। যদি কেউ প্রশ্ন করে, কেন বৃষ্টি হবে ? তখন আমরা যুক্তি দিয়ে থাকি। আমরা বলি :


যদি আকাশে কালো মেঘ করে তবে বৃষ্টি হয়।


বর্তমান সময়ে আকাশে কালো মেঘ জমেছে।


.. এখন বৃষ্টি হবে।


এটি একটি যুক্তি। যুক্তিটি একাধিক বচনদ্বারা গঠন করা হয়েছে। এই যুক্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, “এখন বৃষ্টি হবে” – এই বচনটি সত্য, কারণ যুক্তির অপর বচন দুটি সত্য। -


 প্রশ্ন ১৭। অনুমান ও যুক্তির পার্থক্য দেখাও ?



উত্তর ঃ অনুমানের সঙ্গে যুক্তির পার্থক্য আছে। অনুমান হল 'একরকম মানসিক প্রক্রিয়া (process), যার সাহায্যে এক বা একাধিক জ্ঞাত তথ্যের ভিত্তিতে নতুন তথ্যকে জানি । অনুমান প্রক্রিয়াটিকে যখন বাক্যে প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে যুক্তি বলা হয়। সুতরাং, যুক্তি হল পরস্পর সংযুক্ত এমন এক বচনসমষ্টি যার অন্তর্ভুক্ত কোনো একটি বচনের সত্যতা অপর বচন বা বচনগুলির সত্যতার ভিত্তিতে প্রমাণ করা হয়।


 প্রশ্ন ১৮। ন্যায় অনুমানের দৃষ্টান্ত দাও।


উত্তর ঃ দৃষ্টান্ত : A A

 A - - - সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব - হেতুবাক্য 


A -- সকল কবি হয় মানুষ


A -- সকল কবি হয় মরণশীল জীব – সিদ্ধান্ত -


যুক্তিটি ন্যায় অনুমানের (syllogism) দৃষ্টান্ত। যুক্তিটির সিদ্ধান্ত দুটি হেতুবাক্য বা আশ্রয়বাক্য থেকে নিঃসৃত করা হয়েছে। যুক্তিটির তৃতীয় বাক্যটি হল সিদ্ধান্ত। প্রথম ও দ্বিতীয়টি হল আশ্রয়বাক্য। সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য দুটি থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। আবার কোনো যুক্তির সিদ্ধান্ত একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে নিঃসৃত হতে পারে। এরূপ যুক্তিকে অমাধ্যম অনুমান বা যুক্তি বলে।



 প্রশ্ন ১৯। অমাধ্যম অনুমানের দৃষ্টান্ত দাও ৷


• উত্তর ঃ দৃষ্টান্ত : A -- সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব --- আশ্রয়বাক্য


I – কোনো কোনো মরণশীল জীব হয় মানুষ --সিদ্ধান্ত


I – কোনো কোনো মরণশীল জীব হয় মানুষ


দৃষ্টান্তে যুক্তির সিদ্ধান্তের সত্যতা আশ্রয়বাক্যের সত্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। উভয় যুক্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, এর সিদ্ধান্ত সত্য, কারণ এর আশ্রয়বাক্য বা বাক্যগুলি সত্য।


এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অনুমান ও যুক্তির মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তর্কবিদ্যায় যুক্তির প্রতিশব্দরূপে ‘অনুমান’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, যুক্তিবিজ্ঞানে ব্যবহৃত অনুমান শব্দটির অর্থ অনুমান প্রক্রিয়া নয়, অনুমানের ভাষায় প্রকাশিত রূপ। এই অর্থে অনুমান ও যুক্তি অভিন্ন ৷


২০ যুক্তির আকার – এই দুটির পার্থক্য দেখাও।



যুক্তি ও উত্তর : প্রত্যেকটি যুক্তির একটি অবয়ব থাকে। এই অবয়ব বচন দ্বারা গঠিত। অপরদিকে যুক্তির আকার বর্ণপ্রতীক বা পদগ্রাহক বা বচনাকার দ্বারা গঠিত হয়। আবার, যুক্তি-আকারের পদগ্রাহক বা বচনাকারকে যখন কোনো নির্দিষ্ট পদ বা বচন দ্বারা পরিবর্তন করা হয়, তখন যুক্তি পাওয়া যায় ।


দৈনন্দিন জীবনে অজ্ঞাত বিষয়কে জানার জন্য আমরা অনুমান করি। কোনো বিষয়কে প্রমাণ করার জন্য আমরা যুক্তি গঠন করি। প্রতিটি যুক্তি বৈধ হয়েছে, না অবৈধ হয়েছে, তা বিচার করা যুক্তিবিদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই কারণে যুক্তি-আকারের উল্লেখের প্রয়োজন হয়।


 প্রশ্ন ২১। একাধিক যুক্তি কি অভিন্ন আকারের হতে পারে?


উত্তর : একাধিক যুক্তি একটি অভিন্ন আকারের হতে পারে। আবার, একটি যুক্তি-আকার থেকে বিভিন্ন যুক্তি গঠন করা যেতে পারে। যুক্তিবিদ্যার বক্তব্য হল যদি কোনো যুক্তি-আকার বৈধ হয়, তবে ওই আকারের অনুরূপ যে-কোনো যুক্তি বৈধ হবে। আবার, কোনো আকার অবৈধ হলে ওই আকারের অনুরূপ যে-কোনো যুক্তি অবৈধ হবে।


- প্রশ্ন ২২। যুক্তির উপাদান ও আকার কী? যুক্তির বৈধতা কোটির দ্বারা নির্ধারিত হয়? 


 উত্তর ঃ যুক্তির দুটি দিক আছে উপাদান ও আকার। যুক্তির বক্তব্য বিষয় হল, তার উপাদান এবং বক্তব্য বিষয়কে যেভাবে প্রকাশ করা হয়, তা-ই হল যুক্তির আকার। যুক্তির উপাদান বিভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাদের আকার অভিন্ন হতে পারে। যুক্তির আকার হল যুক্তির কাঠামো বা ছাঁচ, যার মাধ্যমে যুক্তির উপাদানকে প্রকাশ করা যায়।


দৃষ্টান্ত ঃ (১) A সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।


A  রাম হয় মানুষ।


A রাম হয় মরণশীল জীব ।


(২) A সকল মার্কসবাদী হয় সাম্যবাদী।


A সকল সমাজতন্ত্রবাদী হয় মার্কসবাদী।


A – সকল সমাজতন্ত্রবাদী হয় সাম্যবাদী।



Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default