সিন্ধু সভ্যতা: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, সামাজিক জীবন ও পতনের কারণ – সম্পূর্ণ গাইড (Indus Valley Civilization)

Best Online Education
By -
0

 

সিন্ধু সভ্যতা: ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য, সামাজিক জীবন ও ধ্বংসের কারণ – বিস্তারিত আলোচনা

সিন্ধু-সভ্যতা


  

ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের পাতায় এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় হলো সিন্ধু সভ্যতা (Indus Valley Civilization)। প্রায় ৫০০০ বছর আগে গড়ে ওঠা এই নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা সমসাময়িক মেসোপটেমিয়া বা মিশরীয় সভ্যতার চেয়েও আয়তনে বিশাল এবং প্রযুক্তিতে উন্নত ছিল। ছাত্রছাত্রী এবং ইতিহাস পিপাসু মানুষের জন্য এই নিবন্ধে সিন্ধু সভ্যতার প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হলো।

ভূমিকা: সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কার ও বিস্তার

বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে (১৯২১-২২ সাল নাগাদ) দয়ারাম সাহানি এবং রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যথাক্রমে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদড়ো আবিষ্কৃত হলে ভারতের ইতিহাসের প্রাচীনত্ব এক ধাক্কায় কয়েক হাজার বছর পিছিয়ে যায়। জন মার্শালের নেতৃত্বে এই খননকার্য প্রমাণ করে যে, বৈদিক যুগের বহু আগেই ভারতে এক উন্নত নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল।

এই সভ্যতা উত্তরে জম্মুর মান্ডা থেকে দক্ষিণে মহারাষ্ট্রের দাইমাবাদ এবং পশ্চিমে বালোচিস্তানের সুতকাগেন্ডর থেকে পূর্বে উত্তরপ্রদেশের আলমগীরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। বর্তমানের পাকিস্তান, উত্তর-পশ্চিম ভারত এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে প্রায় ১৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই সভ্যতা বিরাজ করত।

সিন্ধু সভ্যতাকে কেন 'হরপ্পা সভ্যতা' বলা হয়?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সিন্ধু সভ্যতা এবং হরপ্পা সভ্যতা কি আলাদা? উত্তর হলো—না, দুটি একই। তবে নামকরনের পেছনে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক যুক্তি রয়েছে।

১. প্রথম আবিষ্কৃত কেন্দ্র: প্রত্নতত্ত্বের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অজানা সংস্কৃতির প্রথম নিদর্শন যে স্থানে পাওয়া যায়, সেই স্থানের নামানুসারেই ওই সভ্যতার নামকরণ করা হয়। ১৯২১ সালে দয়ারাম সাহানি বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মন্টগোমারি জেলায় 'হরপ্পা' নামক স্থানে প্রথম এই সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন। তাই একে হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়। ২. ভৌগোলিক ব্যাপ্তি: শুরুতে সিন্ধু নদের অববাহিকায় এর কেন্দ্রগুলি পাওয়া গিয়েছিল বলে একে সিন্ধু সভ্যতা বলা হতো। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায়, এই সভ্যতার কেন্দ্রগুলি শুধু সিন্ধু নদের তীরে নয়, বরং সরস্বতী (ঘাগ্ঘর-হাকরা) নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল। তাই ভৌগোলিক নামের চেয়ে স্থানভিত্তিক নাম 'হরপ্পা সভ্যতা' অধিক যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন আধুনিক ঐতিহাসিকরা।

মেহেরগড় ও সিন্ধু সভ্যতার মধ্যে পার্থক্য

সিন্ধু সভ্যতার পূর্বসূরি হিসেবে মেহেরগড় সভ্যতাকে ধরা হয়। তবে দুটির মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে যা ছাত্রছাত্রীদের জানা প্রয়োজন:

বিষয়

মেহেরগড় সভ্যতা

সিন্ধু/হরপ্পা সভ্যতা

সময়কাল

খ্রিঃ পূঃ ৭০০০ - ২৫০০ অব্দ (নব্য প্রস্তর যুগ থেকে তাম্র-প্রস্তর যুগ)।

খ্রিঃ পূঃ ৩৩০০ - ১৩০০ অব্দ (মূল পর্ব: ২৬০০-১৯০০ খ্রিঃ পূঃ)। এটি ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা।

প্রকৃতি

এটি ছিল মূলত গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক সংস্কৃতি।

এটি ছিল পুরোদস্তুর নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা।

ধাতুর ব্যবহার

পাথরের ব্যবহার বেশি ছিল, শেষের দিকে তামার ব্যবহার শুরু হয়।

তামার পাশাপাশি টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ (Bronze) তৈরির ব্যাপক ব্যবহার ছিল।

লিপি

কোনো লিপির পাঠোদ্ধার বা অস্তিত্ব সেভাবে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব চিত্রলিপি (Pictographic script) ছিল, যদিও তা এখনো পাঠোদ্ধার করা যায়নি।

নগর পরিকল্পনা

বাড়িঘর থাকলেও উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা বা গ্রিড প্যাটার্নে শহর তৈরির নিদর্শন নেই।

উন্নত নগর পরিকল্পনা, ড্রেনেজ সিস্টেম এবং পোড়া ইটের ব্যবহার ছিল এর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

সিন্ধু সভ্যতার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ

সিন্ধু সভ্যতার অনন্যতা এর নগর পরিকল্পনায়। নিচে এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করা হলো:

১. নগর পরিকল্পনা (Town Planning)

হরপ্পার শহরগুলি ছিল সুপরিকল্পিত। শহরগুলি সাধারণত দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল:

  • সিটাডেল (Citadel): শহরের পশ্চিম দিকে উঁচু বেদির ওপর নির্মিত দুর্গ এলাকা, যেখানে সম্ভবত শাসকবর্গ বা পুরোহিতরা থাকতেন।

  • লোয়ার টাউন (Lower Town): পূর্ব দিকের নিচু এলাকা, যেখানে সাধারণ মানুষ বসবাস করত।

২. রাস্তাঘাট ও গ্রিড পদ্ধতি

শহরগুলির রাস্তা একে অপরকে সমকোণে (৯০ ডিগ্রি) ছেদ করত। একে বলা হয় 'গ্রিড প্যাটার্ন'। প্রধান রাস্তাগুলি ছিল চওড়া (প্রায় ৩০ ফুট) এবং গলিগুলি ছিল সরু। রাস্তার মোড়ে ল্যাম্পপোস্টের অস্তিত্ব দেখে বোঝা যায় যে, রাতে আলোর ব্যবস্থাও ছিল।

৩. নিকাশি ব্যবস্থা (Drainage System)

সিন্ধু সভ্যতার নিকাশি ব্যবস্থা ছিল আধুনিক যুগের মতোই উন্নত। প্রতিটি বাড়ির নোংরা জল ছোট নালার মাধ্যমে রাস্তার বড় ঢাকা নর্দমায় গিয়ে পড়ত। নর্দমাগুলি পরিষ্কার করার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে 'ম্যানহোল' (Manhole) ছিল। এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বোধ তাদের উন্নত মানসিকতার পরিচয় দেয়।

৪. শস্যাগার ও স্নানাগার

  • বৃহৎ শস্যাগার (Great Granary): হরপ্পায় বিশাল শস্যাগার পাওয়া গেছে। এটি আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য শস্য মজুত রাখতে বা কর হিসেবে আদায় করা শস্য রাখতে ব্যবহৃত হতো।

  • বৃহৎ স্নানাগার (Great Bath): মহেঞ্জোদড়োতে একটি বিশাল স্নানাগার পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিকদের মতে, এটি কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বা পবিত্র স্নানের জন্য ব্যবহৃত হতো। এর তলদেশ বিটুমিন দিয়ে জলরোধী করা হয়েছিল।

৫. পোড়া ইটের ব্যবহার

সমসাময়িক মিশরীয় সভ্যতায় রোদে শুকানো ইট ব্যবহার করা হলেও, সিন্ধু সভ্যতায় আগুনে পোড়ানো ইটের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়। ইটের মাপের অনুপাত ছিল ১:২:৪।

সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক জীবন

সিন্ধু সভ্যতার সামাজিক কাঠামো ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।

  • শ্রেণিবিভাজন: সমাজ সম্ভবত তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল—শাসকগোষ্ঠী (পুরোহিত বা বনিক), ধনী বনিক ও কারিগর এবং সাধারণ শ্রমিক বা কৃষক। দুর্গে বসবাসকারীরা ছিল উচ্চবিত্ত।

  • খাদ্যাভ্যাস: এদের প্রধান খাদ্য ছিল গম, যব, বার্লি, খেজুর, দুধ, মাছ এবং মাংস। তিল ও সরিষার তেলের ব্যবহারও তারা জানত।

  • পোশাক ও অলঙ্কার: সুতি ও পশমের পোশাকের প্রচলন ছিল। নারী-পুরুষ উভয়েই অলঙ্কার পরতে ভালোবাসত। সোনা, রুপা, তামা, ব্রোঞ্জ এবং হাতির দাঁতের গয়না (হার, বালা, আংটি) ব্যবহৃত হতো। চানহুদারোতে লিপস্টিক এবং ভ্যানিটি ব্যাগের মতো প্রসাধন সামগ্রীর নিদর্শন পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে নারীরা সাজসজ্জায় সচেতন ছিলেন।

  • নারীর স্থান: প্রচুর পরিমাণে মাতৃমূর্তির (Mother Goddess) নিদর্শন দেখে ঐতিহাসিকরা অনুমান করেন যে, সিন্ধু সমাজ সম্ভবত মাতৃতান্ত্রিক ছিল। সমাজে নারীদের সম্মানীয় স্থান ছিল।

  • বিনোদ: পাশা খেলা, ষাঁড়ের লড়াই, নাচ-গান এবং শিকার ছিল তাদের বিনোদনের মাধ্যম। শিশুদের জন্য পোড়ামাটির খেলনা গাড়ি, পুতুল ও ঝুমঝুমি পাওয়া গেছে।

সিন্ধু সভ্যতার ধর্মীয় জীবন

সিন্ধু সভ্যতায় কোনো মন্দির বা উপাসনালয় পাওয়া যায়নি। তাদের ধর্মবিশ্বাস ছিল মূলত প্রকৃতি এবং প্রতীকী পূজা কেন্দ্রিক।

১. মাতৃপূজা: পোড়ামাটির বহু নারীমূর্তি পাওয়া গেছে, যা থেকে বোঝা যায় তারা উর্বরতার দেবী বা মাতৃশক্তির পূজা করত। ২. পশুপতি শিব: মহেঞ্জোদড়োতে প্রাপ্ত একটি সিলে যোগাসনে বসা তিন মুখবিশিষ্ট এক পুরুষের ছবি দেখা যায়, যার চারপাশে হাতি, বাঘ, গণ্ডার এবং মহিষ রয়েছে। পায়ের কাছে দুটি হরিণ। ঐতিহাসিকরা একে 'আদি শিব' বা 'পশুপতি' বলে অভিহিত করেছেন। ৩. প্রকৃতি ও প্রাণী পূজা: তারা অশ্বত্থ গাছ (Peepal tree), ষাঁড় (বিশেষ করে কুঁজবিশিষ্ট ষাঁড়), সাপ এবং পায়রাকে পবিত্র মনে করত। ৪. লিঙ্গ ও যোনি পূজা: পাথর নির্মিত লিঙ্গ ও যোনি মূর্তির নিদর্শন প্রমাণ করে যে, তারা সৃজনী শক্তির উপাসনা করত। ৫. জাদুবিশ্বাস: মাদুলি বা কবচের ব্যবহার দেখে মনে করা হয়, তারা ভূত-প্রেত বা অশুভ শক্তিতে বিশ্বাস করত এবং তা থেকে বাঁচতে তাবিজ ব্যবহার করত।

সিন্ধু সভ্যতার অর্থনৈতিক জীবন

সিন্ধু অর্থনীতি ছিল কৃষি, শিল্প এবং বাণিজ্যের এক চমৎকার সংমিশ্রণ।

১. কৃষি (Agriculture)

অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি। সিন্ধু নদের উর্বর পলিমাটিতে তারা গম, যব, বার্লি, মটরশুঁটি, তিল, সরিষা এবং কার্পাস (তুলো) চাষ করত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পৃথিবীতে প্রথম তুলো চাষের কৃতিত্ব সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরাই পায়। গ্রিকরা এই তুলোকে 'সিনডন' (Sindon) বলত। কালিবঙ্গানে লাঙল দিয়ে জমি চাষের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

২. পশুপালন

গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল, শূকর এবং উট পালন করা হতো। তারা হাতিকে পোষ মানিয়েছিল। ঘোড়ার ব্যবহার সম্পর্কে বিতর্ক রয়েছে, যদিও সুরকোটাদায় ঘোড়ার হাড়ের মতো কিছু নিদর্শন মিলেছে, তবে ঘোড়ার ব্যাপক প্রচলন ছিল না।

৩. শিল্প ও কারিগরি

  • ধাতুশিল্প: তামা ও টিন মিশিয়ে ব্রোঞ্জ তৈরিতে তারা দক্ষ ছিল। ব্রোঞ্জের 'নৃত্যরতা নারীমূর্তি' (Dancing Girl) তার প্রমাণ।

  • মৃৎশিল্প: কুমোরের চাকা ব্যবহার করে তারা লাল-কালো মাটির পাত্র তৈরি করত।

  • সিলমোহর: স্টিয়াটাইট পাথর দিয়ে তৈরি হাজার হাজার সিলমোহর পাওয়া গেছে। এগুলিতে একশৃঙ্গ ষাঁড়, হাতি বা অন্যান্য প্রাণীর ছবি খোদাই করা থাকত। এগুলি সম্ভবত বাণিজ্যের কাজে ব্র্যান্ডিং হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

৪. বাণিজ্য (Trade)

সিন্ধু সভ্যতা ছিল বাণিজ্য প্রধান। তাদের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য চলত রাজস্থান (তামা), কর্ণাটক (সোনা), এবং আফগানিস্তান (টিন) এর সাথে। বৈদেশিক বাণিজ্য চলত মূলত মেসোপটেমিয়া (সুমেরীয় সভ্যতা), পারস্য এবং ওমানের সাথে। সুমেরীয়রা সিন্ধু অঞ্চলকে 'মেলুহা' (Meluhha) নামে ডাকত। লোথালে আবিষ্কৃত বিশ্বের প্রাচীনতম ডকয়ার্ড বা বন্দর প্রমাণ করে যে তাদের নৌ-বাণিজ্য কতটা উন্নত ছিল। বিনিময় প্রথা (Barter System) ছিল বাণিজ্যের মাধ্যম।

সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসের কারণ

এত উন্নত একটি সভ্যতা কীভাবে ধ্বংস হলো, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোনো একটি কারণে নয়, বরং একাধিক কারণে এই সভ্যতা ধাপে ধাপে বিলুপ্ত হয়েছে।

১. পরিবেশগত পরিবর্তন ও জলবায়ু: আধুনিক গবেষণায় (IIT Kharagpur এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের মতে) প্রায় ৯০০ বছর ধরে চলা খরা এবং বর্ষার অভাব এই সভ্যতার পতনের প্রধান কারণ। সরস্বতী নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং সিন্ধু নদের গতিপথ পরিবর্তন কৃষি ব্যবস্থা ধসিয়ে দেয়। ২. বন্যা: মহেঞ্জোদড়োতে বারবার বন্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সিন্ধু নদের বিধ্বংসী বন্যা বারবার শহরগুলিকে প্লাবিত করত, যা নগর জীবনকে অস্থির করে তুলেছিল। ৩. ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন: টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে ভূমিকম্প বা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় জলের উৎস শুকিয়ে যায়, ফলে মানুষ শহর ছাড়তে বাধ্য হয়। ৪. আর্য আক্রমণ তত্ত্ব (বিতর্কিত): স্যার মর্টিমার হুইলারের মতে, আর্যদের আক্রমণেই এই সভ্যতা ধ্বংস হয়। মহেঞ্জোদড়োতে প্রাপ্ত স্তূপীকৃত কঙ্কালকে তিনি 'গণহত্যা'র প্রমাণ বলেছিলেন। তবে আধুনিক বিজ্ঞান ও ডিএনএ (DNA) টেস্ট (যেমন রাখিগড়ির কঙ্কাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য) এই তত্ত্বকে অনেকটাই নস্যাৎ করেছে। এখন মনে করা হয়, এটি কোনো বহিরাগত আক্রমণ নয়, বরং অভ্যন্তরীণ এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছিল। ৫. বাণিজ্যের পতন: মেসোপটেমিয়ার সাথে বাণিজ্যে ভাটা পড়ায় সিন্ধু সভ্যতার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।

উপসংহার ও ব্যক্তিগত পরামর্শ

সিন্ধু সভ্যতা আমাদের শেখায় যে, ৫০০০ বছর আগেও ভারতীয়রা নগর পরিকল্পনা এবং স্যানিটেশনে কতটা অগ্রগামী ছিল। তাদের ধর্মনিরপেক্ষতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পরিবেশ সচেতনতা আজকের যুগেও প্রাসঙ্গিক।

ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরামর্শ: পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে পয়েন্ট করে লিখবে। যেমন—নগর পরিকল্পনার মধ্যে 'গ্রিড সিস্টেম' এবং 'নিকাশি ব্যবস্থা' আলাদা সাব-পয়েন্ট করবে। ম্যাপ একে প্রধান কেন্দ্রগুলো (হরপ্পা, মহেঞ্জোদড়ো, লোথাল, কালিবঙ্গান, ধোলাভিরা) চিহ্নিত করতে পারলে পরীক্ষক খুশি হবেন। আর্য আক্রমণের তত্ত্বটি লিখলে অবশ্যই ব্র্যাকেটে উল্লেখ করবে যে এটি আধুনিক গবেষণায় বিতর্কিত।

তথ্যসূত্র ও আরও জানুন: আপনি যদি এই বিষয়ে আরও গভীরে জানতে চান, তবে Archaeological Survey of India (ASI) এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা UNESCO World Heritage এর পেজটি ভিজিট করতে পারেন (ধোলাভিরা এখন বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান)।

আপনার যদি এই আর্টিকেলটি ভালো লেগে থাকে, তবে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং ইতিহাসের অজানা তথ্য জানতে আমাদের ব্লগে নিয়মিত চোখ রাখুন।


Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default