বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর || অষ্টম শ্রেণী বাংলা

Best Online Education
By -
0

 বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর || অষ্টম শ্রেণী বাংলা 


বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর 


বোঝাপড়া

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর


বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর || অষ্টম শ্রেণী বাংলা এই আর্টিকেলটি তে বোঝাপড়া কবিতার নামকরণ, উৎস, বিষয়বস্তু এবং বিভিন্ন প্রশ্ন-উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।


বোঝাপড়া কবিতার উৎস


 উৎস: কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বোঝাপড়া' কবিতাটি তাঁর 'ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।


বোঝাপড়া কবিতার বিষয়বস্তু


সারসংক্ষেপ: আমাদের জীবনে ভালো বা মন্দ যাই আসুক না কেন, যা সত্য তাকে সহজে মেনে নেওয়ার জন্য মনকে বোঝাতে হবে। কোনো ব্যক্তি একজনের কাছে প্রিয় হতে পারে—আবার অন্য কারও কাছ থেকে সে ভালোবাসা না-ও পেতে পারে। কেউ অন্যের জন্য নিজের সর্বস্ব দিতেও পিছপা হয় না, আবার কেউ অন্যের জন্য ভেবেও দেখে না। কারণ প্রতিটি মানুষেরই স্বভাব ও চরিত্র আলাদা হয়। 


 স্বার্থের কারণে কখনও আমরা অন্যদের ঠকাই, আবার কখনও অন্যদের কাছে ঠকে যাই। সুদূর অতীত থেকেই চলে আসছে এইভাবে অল্পবিস্তর মেনে নেওয়া ও মানিয়ে নেওয়ার পালা। একে এড়িয়ে যাওয়া আমাদের কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। জীবনে অনেক সময়ে নানারকম বিপদ-আপদ আসে। কখনও আনন্দের মাঝেও হঠাৎই নেমে আসে বিপর্যয়। তখন তা নিয়ে নিষ্ফল অভিযোগ না করে সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হয়। 


 প্রত্যেক মানুষের স্বভাব অন্যের থেকে আলাদা। তাই কখনোই আশা করা উচিত নয় যে, সবাই আমাদের মনের মতো হবে। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে মানুষে মানুষে এই ভিন্নতার কথা। মেনে নিতে পারলেই মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের জটিলতা দূর হয়ে যায়। ফলে জীবনও হয়ে ওঠে সুখের। বস্তুই হোক বা ব্যক্তি, জীবনে কোনো কিছুই অপরিহার্য নয়। ভালোমন্দ মিলিয়ে এই পৃথিবী বাস্তবিকই সুন্দর।

  এই জীবনও সুখময়। তবে তা উপভোগ করার জন্য বাস্তব পরিস্থিতিকে মেনে নিতে হয়, ভাগ্যকেও স্বীকার করতে হয়।


 বোঝাপড়া কবিতার নামকরণ :


নামকরণ: যে-কোনো সাহিত্যসৃষ্টির অন্যতম প্রধান উপকরণ হল এর নামকরণ। নামকরণের মধ্য দিয়েই স্রষ্টা তাঁর রচনা সম্পর্কে পাঠককে এক আগাম ধারণা দিয়ে থাকেন। ‘বোঝাপড়া' শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল মীমাংসা বা মানিয়ে নেওয়া। আলোচ্য কবিতায় কবি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, জীবনে ভালোমন্দ যা-ই আসুক না কেন, বিচলিত না হয়ে সেই সত্যকেই গ্রহণ করতে হবে। 


 একমাত্র এভাবেই জীবনের নানান দ্বন্দ্ব ও বিরোধের অবসান ঘটানো সম্ভব। বিভেদ ও সংঘাত, না-পাওয়ার বেদনা চিরকাল ধরে মানবসমাজকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। একে অস্বীকার করা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। আর সে কারণেই দুঃখে বা সুখে খুব বেশি বিচলিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কবি। তাই তিনি বলেছেন—“ভেসে থাকতে পারো যদি/ সেইটে সবার চেয়ে শ্রেয়, না পারো তো বিনা বাক্যে/টুপ করিয়া ডুবে যেয়ো।”


কবির দেখানো পথই হল দুঃখ ও দুঃসহ বেদনা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র পথ। নিজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটালেই দ্বন্দ্ব ও অসংগতিতে ভরা এই পৃথিবীতে শান্তি খুঁজে পাওয়া যাবে। সকলের দিকে বন্ধুর মতো হাত বাড়ালেই প্রকৃত সুখের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। জীবনও তখন হয়ে উঠবে অর্থপূর্ণ।


  অন্ধকার ঘরে প্রদীপ জ্বলে ওঠার মতোই জীবন তখন স্নিগ্ধ আলোয় ভরে উঠবে। ব্যক্তিগত ক্ষতির কথা ভুলে মনের সঙ্গে এই বোঝাপড়া করে নেওয়ার কথাই কবি এই কবিতায় বলেছেন। তাই বলা যায়, এদিক থেকে কবিতার ‘বোঝাপড়া' নামকরণ যথাযথ ও সার্থক হয়েছে।



বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর অনুশীলনী:


হাতেকলমে'র সমাধান



নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও ।


১.১ জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত কোন্ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত লিখতেন ?


উত্তর: জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত ‘ভারতী’ ও ‘বালক’ পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত লিখতেন।


১.২ ভারতের কোন্ প্রতিবেশী দেশে তাঁর লেখা গান জাতীয় সংগীত উ হিসেবে গাওয়া হয় ?


উত্তর: ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা গান জাতীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া হয়।



2.নীচের প্রশ্নগুলির কয়েকটি বাক্যে উত্তর দাও ।


২. ১“সেইটে সবার চেয়ে শ্রেয়।”— কোটি সবার চেয়ে শ্রেয় ?


উত্তর: কবির মতে, জীবনের খারাপ সময়ে অথবা বিপদের সময়ে ভেঙে না পড়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয়। চলার পথে এই মানিয়ে নেওয়াই সবার চেয়ে শ্রেয়।


২২ “ঘটনা সামান্য খুবই।”—কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে ?


উত্তর: [ মানুষের জীবন অনিশ্চিত। কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায়, যা মানুষকে দিশেহারা করে তোলে। কিন্তু সেইসব ঘটনা এমনও নয় যে, তা আর কারও জীবনে ঘটেনি। এই সহজ ব্যাপারটিকেই এখানে ‘সামান্য’ ঘটনা বলা হয়েছে।


২.৩ “তেমন করে হাত বাড়ালে/সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি।” —উদ্ধৃতিটির নিহিতার্থ স্পষ্ট করো।


উত্তর: জীবনে আমরা যা চাই, সব সময় তা পাই না। না পাওয়ার বেদনা আমাদের মনকে বিষণ্ণ করে তোলে। আমরা যদি আমাদের সামর্থ্যের সঙ্গে চাহিদাগুলির সামঞ্জস্য বজায় রাখি, তবে জীবনে সহজেই সুখী হওয়া যায় ৷


 ২.৪ “মরণ এলে হঠাৎ দেখি/মরার চেয়ে বাঁচাই ভালো।”—ব্যাখ্যা করো। 


] উত্তর: প্রতিকূল পরিস্থিতিতে মানুষ কখনো-কখনো জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে মৃত্যু কামনা করে। সে মনে করে মৃত্যুতেই বুঝি সব দুঃখের অবসান। কিন্তু মৃত্যু যখন সামনে এসে দাঁড়ায়, তখন মানুষ আকুল হয়ে ভাবে, এ জীবন বড়ো সুন্দর। মানুষ আর প্রকৃতির মাঝে থাকার মধ্যেই রয়েছে জীবনের সার্থকতা।


২.৫ “তাহারে বাদ দিয়েও দেখি/বিশ্বভুবন মস্ত ডাগর।”—উদ্ধৃতিটির মধ্য দিয়ে জীবনের কোন্ সত্য প্রকাশ পেয়েছে ?


উত্তর: এই বিশ্বসংসারে সব কিছুই পরিবর্তনশীল। প্রিয়জনের বিচ্ছেদে কোনো ব্যক্তি গভীর শোক পেলেও বিশ্বসংসার কিন্তু তার স্বাভাবিক নিয়মেই চলে। কারণ ব্যক্তিগত ক্ষুদ্র চাওয়া-পাওয়া, মোহ বা আসক্তির চেয়েও মানবজীবন মহত্তর। জীবনের এই সহজ এবং সর্বজনীন সত্যটিই প্রশ্নে উদ্ধৃত পক্তি দুটির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।


২.৬ কীভাবে মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করতে হবে ?


উত্তর: জীবনে চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে অনেক ফারাক থাকে। যদি আমরা চাহিদার ওপর বেশি নজর দিই ও ভেঙে যাওয়া স্বপ্নগুলো নিয়ে হাহাকার করতে থাকি, তাহলে কোনোদিনই জীবনে সুখী হতে পারব না। আমাদের সুখী থাকার উপকরণটুকুও জীবন থেকে তখন হারিয়ে যাবে। তাই নাপাওয়ার কষ্ট ও হতাশা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঝেড়ে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে খানিক কেঁদে মনের বোঝা হালকা করে নিতে হবে। এভাবেই নিজেদের মনকে বশে রাখতে হবে। সারো।” – কবি কো


২.৭ “দোহাই তবে এ কার্যটা/যত শীঘ্র পারো -- কবি কোন কার্যের কথা বলেছেন? সেই কার্যটি শীঘ্র সারতে হবে কেন? বলা হয়েছে।



উত্তর: উদ্দিষ্ট  কার্য, মিথ্যা অহংকার আর আমিত্বে পূর্ণ মানুষ নিজেকে অন্য মানুষজনের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। ধীরে ধীরে একা হয়ে যায় সে। এমন মানুষ যত তাড়াতাড়ি নিজের ভুল বুঝতে পারে, ততই মঙ্গল। ‘এ কার্যটা’ বলতে এই ভুল বুঝে নিজেকে শুধরে নেওয়ার কথাই


→ শীঘ্র শেষ করার কারণ: ভুল শুধরে নেওয়ার কাজটি মানুষকে যত শীঘ্র সম্ভব সারতে হবে। কারণ, মানুষের জীবনের ব্যাপ্তি কম। সেই স্বল্প পরিসরেই ভুল ত্রুটি শুধরে নিজেকে ক্ষুদ্র গণ্ডির বাইরে নিয়ে গিয়ে জীবনকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। এই শুধরে নেওয়ার প্রক্রিয়া মানুষকে নতুনভাবে বাঁচার উৎসাহ দান করবে।


২.৮ কখন আঁধার ঘরে প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব ?


উত্তর: জীবনে কেবল ব্যর্থতার হিসাব কষে চলা, অন্যের পাওয়ার সঙ্গে নিজের না-পাওয়ার তুলনা করা, হাহাকারে জীবনকে ভরিয়ে তোলাএসব অতিক্রম করে মনকে বুঝিয়ে এগিয়ে চলার কাজ শুরু করলে আঁধার ঘরে প্রদীপ জ্বালানো যায়। অর্থাৎ এভাবেই নিজের হতাশাগ্রস্ত জীবনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলা সম্ভব হয় । /


২.৯ “ভুলে যা ভাই, কাহার সঙ্গে/কতটুকুন তফাত হলো।”—এই উদ্ধৃতির মধ্যে জীবনের চলার ক্ষেত্রে কোন্ পথের ঠিকানা মেলে ?


উত্তর: : চলার পথের হদিশ: মানুষের চেহারা ও প্রকৃতির মতোই তাদের চাওয়া-পাওয়াগুলোও ভিন্ন ভিন্ন। জীবনে কে কত বেশি পেল, জীবনপথে কে কতখানি এগিয়ে গেল—এইসব তুলনা জীবনের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি করে। তাই পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাব ভুলে জীবনকে মঙ্গলময় ও আলোকিত করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে হবে। সেই পথেরই সন্ধান মেলে প্রশ্নে উল্লিখিত উদ্ধৃতিটির মধ্যে।


 ২.১০ “অনেক ঝঞ্ঝা কাটিয়ে বুঝি/এলে সুখের বন্দরেতে, ” কাটিয়ে আসা' বলতে কী বোঝ ?


 উত্তর: জীবনের নানান ওঠা-পড়াকে অতিক্রম করলে তবেই আমাদের জীবনে সাফল্য আসে। জাহাজ তার দীর্ঘ পথ পেরিয়ে, অনেক বাধা অতিক্রম করে বন্দরে আসে। মানুষকেও অনেক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে সাফল্য লাভ করতে হয়। এই প্রতিকূল পরিবেশ জয় করাকেই ঝঞ্ঝা কাটিয়ে আসা' বলা হয়েছে।


বোঝাপড়া কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর:


৩ নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো ।


৩.১ “ভালো মন্দ যাহাই আসুক/সত্যেরে লও সহজে।” –তুমি কি কবির সঙ্গে একমত? জীবনে চলার পথে নানা বাধাকে তুমি কীভাবে অতিক্রম করতে চাও ?


উত্তর: আমার মত : “ভালো মন্দ যাহাই আসুক/সত্যেরে লও সহজে”—‘বোঝাপড়া' কবিতায় কবির উল্লিখিত এই মতামতকে আমি সমর্থন করি।


জীবনের বাধা অতিক্রম করার উপায় : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বোঝাপড়া’ কবিতা পড়ে আমি শিক্ষালাভ করেছি যে, হঠাৎ পাওয়া আনন্দে আত্মহারা হয়ে যেমন জীবনকে তাচ্ছিল্য করব না, তেমনই সামান্য দুঃখকষ্টে ভেঙেও পড়ব না। এতে জীবনের ছন্দ বাধাপ্রাপ্ত হতে পারে। চলার পথে বাধা এলে আমি গুরুজনদের এবং বন্ধুদের পরামর্শ নিতে লজ্জাবোধ করব না।


  বিপদ বা বাধাকে এড়িয়ে না গিয়ে তাকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। তবুও যদি কখনও দুর্বল হয়ে পড়ি, তবে মহাপুরুষদের জীবনী পাঠ করে মনের জোর বৃদ্ধি করব। জীবনকে সুন্দর করে তোলার জন্য মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব। কারণ একাত্মবোধই জীবনে সাফল্যলাভের অন্যতম উপায়।



৩.২ “মনেরে আজ কহ যে,/ভালো মন্দ যাহাই আসুক/সত্যেরে লও সহজে।”—কবির মতো তুমি কি কখনও মনের সঙ্গে কথা বল ? সত্যকে মেনে নেবার জন্য মনকে তুমি কীভাবে বোঝাবে—একটি পরিস্থিতি কল্পনা করে বুঝিয়ে লেখো। []


উত্তর: হ্যাঁ, কবির মতো আমিও মাঝে মাঝে নিজের সঙ্গে মনে মনে কথা বলি।


কাল্পনিক পরিস্থিতির সাহায্যে ব্যাখ্যা: জীবনে আমাদের নানারকম বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কিন্তু চলার পথে বাধা পেয়ে থমকে গেলে চলবে না। আমি প্রতিবছর পরীক্ষায় ভালো ফল করি। কিন্তু এমনও হতে পারে, কোনো এক বছর আমি আশানুরূপ ফল করতে পারলাম না। তাই বলে আমি তখন হতাশ হয়ে পড়ব না। বরং ব্যাপারটাকে সহজে মেনে নিয়ে আমি পরীক্ষায় খারাপ ফল হওয়ার কারণটা খুঁজে বার করার চেষ্টা করব। 


 নিজেকে বোঝাব যে, এই পরীক্ষাই জীবনের শেষ পরীক্ষা নয় ৷ তা ছাড়া আমি উপযুক্ত পরিশ্রম করিনি, তাই আমার পরীক্ষার ফল খারাপ হয়েছে। মন থেকে যাবতীয় হতাশা ঝেড়ে ফেলে আমি নতুন উদ্যমে নিজেকে তৈরি করব আগামী পরীক্ষার জন্য ।


৩. ৩“তেমন করে হাত বাড়ালে/সুখ পাওয়া যায় অনেকখানি।” ‘তেমন করে’ কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও। এখানে কবি কী ধরনের সুখের ইঙ্গিত করেছেন— লেখো।


উত্তর: ‘তেমন করে' কথার অর্থ: জীবনে যেমন দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা রয়েছে, তেমনই রয়েছে হঠাৎ করে পাওয়া আনন্দও। শুধু দুঃখ-কষ্টের কথা চিন্তা না করে জীবনটাকে ইতিবাচক দিক থেকে দেখতে হবে। মানুষ দুঃখ পায় তার অতিরিক্ত আশার জন্য। বেশি আশা না করে যদি নিজের জিনিস নিয়ে সুখী হওয়া যায়, তবে জীবনযাপন সহজ হয়ে যায়। এখানে ‘তেমন করে' বলতে এভাবেই জীবন কাটানোর কথা বোঝানো হয়েছে।


* সুখের ধরন: আমরা যদি নিজেদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে পারি, তবে দুঃখ-দুর্দশার সংকীর্ণ জগতের বাইরে থাকা বিশ্বভুবনকে মস্ত বড়ো বলে মনে হয়। তখন আকাশ হয়ে ওঠে আরও নীল, ভোরের আলো হয়ে ওঠে মধুর, মৃত্যুর চেয়ে জীবনকেই অনেক বেশি কাঙ্ক্ষিত বলে মনে হয়। নিজের সুখে সমস্ত জগৎকেই তখন সুখী বলে বোধ হয়।


৪. নীচের শব্দগুলির দল বিশ্লেষণ করে মুক্তদল ও রুদ্ধদল চিহ্নিত করো—বোঝাপড়া, কতকটা, সত্যেরে, পাঁজরগুলো, বিশ্বভুবন, অশ্রুসাগর



উত্তর: বোঝাপড়া—বো (মুক্ত) · ঝা (মুক্ত) · প (মুক্ত) · ড়া (মুক্ত) কতকটা—ক (মুক্ত)/. তক্ (রুদ্ধ) · টা (মুক্ত)

সত্যেরে—সত্ (রুদ্ধ) · তে (মুক্ত) · রে (মুক্ত • পাঁজরগুলো—পাঁ (মুক্ত) · জর্ (রুদ্ধ) · গু (মুক্ত) · লো (মুক্ত) → বিশ্বভুবন—বিশ্ (রুদ্ধ) · শো (মুক্ত) · ভু (মুক্ত) · বন্ (রুদ্ধ ) ⋅ . . অশ্রুসাগর—অশ্ (রুদ্ধ) · রু (মুক্ত) · সা (মুক্ত) · গর্ (রুদ্ধ ) .


৫. নীচের প্রতিটি শব্দের তিনটি করে সমার্থক শব্দ লেখো—মন, জখম, ঝঞ্ঝা, ঝগড়া, সামান্য, শঙ্কা, আকাশ


উত্তর: শব্দ সমার্থক মন - চিত্ত, হৃদয়, অন্তর

 জখম- আহত, বিক্ষত, আঘাতপ্রাপ্ত 

ঝঞ্ঝা - ঝড়, ঝটিকা, তুফান

 ঝগড়া- কলহ, বিবাদ, তর্কাতর্কি |

 সামান্য - অল্প, কম, নগণ্য |

 শঙ্কা - ভয়, ডর, আতঙ্ক |

 আকাশ - গগন, অম্বর, আশমান


৬.নীচের প্রতিটি শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ দিয়ে শব্দজোড় তৈরি করে বাক্য রচনা করো—আঁধার, সত্য, দোষ, আকাশ,সুখ []


উত্তর:


বিপরীতার্থক


শব্দ


বাক্য রচনা



আঁধার- আলো= জঙ্গলের আলো-আঁধার পথে প্রতি পদক্ষেপেই বিপদের ভয় ।


সত্য-  অসত্য = কোনো বিষয়ের সত্য-অসত্য বিচার করে তবেই সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


দোষ -  গুণ =যে-কোনো মানুষের চরিত্রে দোষ-গুণ উভয়ই থাকে, এটিই স্বাভাবিক ।


আকাশ - পাতাল = দিনরাত আকাশ-পাতাল অত কী ভাবছ?


| সুখ-দুঃখ= সুখ-দুঃখ মানবজীবনের নিত্যদিনের

সঙ্গী।


===


বোঝাপড়া কবিতার প্রশ্ন উত্তর mcq:



বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন [MCQ] ও উত্তর (ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো


প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান


১. ‘বোঝাপড়া’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের কবিতা? – (ক) পত্রপুট খ )ক্ষণিকা (গ) গীতাঞ্জলি (ঘ) পুনশ্চ



২. ‘বোঝাপড়া’ কবিতার রচয়িতা হলেন- ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গ বিষ্ণু দে (ঘ) তারাপদ রায়


৩. পরের ভোগে থাকবে- ক) ফাঁকি খ )বাকি (গ) ঘ ) খাঁটি


৪.----আমল থেকে/চলে আসছে এমনি রকম—তোমারি কি এমন ভাগ্য/বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!” ক) প্রাচীন যুগেরই খ) সত্যযুগেরই (গ) কলিযুগের (ঘ) মান্ধাতারই



৫. “তোমারি কি এমন ভাগ্য...”—যাকে উদ্দেশ্য করে কথাটি বলা হয়েছে তার এমন ভাগ্য নয় যে—(ক) সে সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারবে খ) সে জীবনে সবরকম প্রতিকূলতা বাঁচিয়ে চলতে পারবে গ) মান্ধাতার আমল থেকে চলে আসা নিয়ম সে পালটে ফেলবে (ঘ) চিরকাল বিধির সঙ্গে বিবাদে জয়ী হবে   


৬. সহজে মেনে নিতে হবে ক ) সত্যকে খ ) অসত্যকে গ) মিথ্যাকে 



৭, “ভালো মন্দ যাহাই আসুক ক) আনন্দকে (খ) মজাকে গ) দুঃখকে লও সহজে।” সত্যেরে


উত্তর ১. (খ) ক্ষণিকা ২. (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৩. খ) বাকি ৪. (ঘ) মান্ধাতারই ৫. খ) সে জীবনে সবরকম প্রতিকূলতা বাঁচিয়ে চলতে পারবে ৬. (ক) সত্যকে ৭. (ঘ) সত্যেরে



MCQ] ও উত্তর (ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো


১. ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় কবি ঝঞ্ঝা কেটে জীবনে বলেছেন।— আসার কথা বলেছেন ক) দুঃখ খ) কষ্ট গ) সুখ ঘ) বন্ধুত্ব


২.“অনেক ঝঞ্ঝা কাটিয়ে বুঝি”—এই পঙ্ক্তির পরের পঙ্ক্তিটি হল— (ক) বহিয়ে দিলাম অশ্রুসাগর খ এলে সুখের বন্দরেতে গ) সেইখানে হয় জাহাজডুবি (ঘ) টুপ করিয়া ডুবে যেয়ো


৩.“জলের তলে----ছিল।”—জলের তলে ছিল- পাহাড়


ক ) পাহাড় খ) কুডুল গ) প্রদীপ ঘ) জাহাজ



৪. পাঁজরগুলো কেঁপে উঠেছিল- 

ক ) বিনা বাক্যে (খ) নিজের দোষে গ) চক্ষু বুজে (ঘ) আর্তরবে


৫. ভেসে থাকতে না পেরে টুপ করে ডুবে যাওয়ার ঘটনাটি হল 

ক) সামান্য (খ) অপূর্ব (গ) দারুণ ঘ) অসাধারণ


৬. “শঙ্কা যেথায় করে না কেউ/সেইখানে হয়


ক) ভরাডুবি (খ) জাহাজ-ডুবি গ) বাঘের দেখা ঘ) বিপদ


উত্তর সুখ ২. খ) এলে সুখের বন্দরেতে ৩. (ক) পাহাড় ৪. ঘ আর্তরবে ৫. খ) অপূর্ব ৬. (খ) জাহাজ-ডুবি



MCQ] ও উত্তর (ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো)


১. তোমার মাপে হওনি সবাই, তুমি হওনি সবার—ক )মতে খ )সমান

গ )মাপে     ঘ )  তরে


গ )মাপে


২. ‘তেমন করে হাত বাড়ালে’ যা পাওয়া যায়, তা হল —

ক )অশ্রুসাগর খ )ফাঁকি  গ )মরণ    ঘ )সুখ


ঘ )সুখ


৩. “আকাশ তবু ............ থাকে”—


ক)উদার   খ )সুনীল গ )মধুর   ঘ,)বিশাল

     

খ )সুনীল


৪. যা ‘মধুর ঠোঁকে’ তা হ—

ক) সুখ     খ) ভোরের আলো গ) আকাশ (খ) সত্য


খ) ভোরের আলো


৫. “যাহার লাগি চক্ষু বুজে বহিয়ে দিলাম ............”—ক দুঃখের সাগর খ ) অশ্রু নদী  গ )অশ্রুসাগর     ঘ )রক্তনদী



গ )অশ্রুসাগর



MCQ] ও উত্তর (ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো)


১. নিজের ছায়া মস্ত করে ---- বসে বসে

ক উদয়চলে

খ পূর্বাচলে 

গ অস্তাচলে 

ঘ মধ্যেচলে


গ অস্তাচলে


২. জীবনখানা নিজের দোষে- 

ক বরবাদ 

খ অশান্ত 

গ আধার করে তোলে 


 গ আধার করে তোলে


৩. "জীবনখানার নিজের দোষে,---- বিবাদ করে


ক ভগবানের সঙ্গে 

খ বিধির সঙ্গে 

গ ঈশ্বরের সঙ্গে 

ঘ মানুষের সঙ্গে 


খ বিধির সঙ্গে


৪. "বিধির সঙ্গো বিবাদ করে নিজের পায়ে-- মারো 

ক কুঠার 

খ ছেনি

গ হাতুড়ি 

ঘ কুড়ুল


 ঘ কুড়ুল


৫. "দোহাই তবে এ কারটা/হাত শীঘ্র পারো সারো"- যে কারট সারিতে বলা হয়েছে


ক নিজের পায়ে কুড়ুল মারা 

খ অন্যকে টিটকারি দেওয়া

গ টুপ করে ডুবে যাওয়া 

ঘ সিকি পয়সা ধার নেওয়া


ক )নিজের পায়ে কুড়ুল মারা


৬. "লও সহজে"-


ক সতোরে 

খ জীবনকে 

গ সুন্দরকে

 ঘ দুঃখেরে


ক )সতোরে


অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর


১. ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় কবি মনকে কী বলতে চেয়েছেন ?


 অথবা, “মনেরে আজ কহ যে”–মনকে কবি কী বলতে বলেছেন ? 


‘বোঝাপড়া’ কবিতায় কবি মনকে বলতে চেয়েছেন যে, ভালো বা মন্দ যা-ই আসুক, সত্যকে সহজভাবে স্বীকার করে নিতে হবে।


২.‘বোঝাপড়া’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ?


‘বোঝাপড়া’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।


৩. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় কোন্ বিষয়কে সহজে গ্রহণ করতে বলেছেন? 


→ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় জীবনের সত্যকে সহজে গ্রহণ করতে বলেছেন।


 ৪. “মনেরে আজ কহ যে, ভালোমন্দ যাহাই আসুক সহজে।” (শূন্যস্থানটি পূরণ করো) 


“মনেরে আজ কহ যে, ভালোমন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।”


৫.মান্ধাতার আমল থেকে কী নিয়ম চলে আসছে?


মান্ধাতার আমল থেকে এই নিয়মই চলে আসছে যে, প্রত্যেকেই কিছু ফাঁকি দেয় এবং কিছু ফাঁকির মধ্যে নিজেও পড়ে।


৬. “মান্ধাতারই আমল থেকে”– ‘মান্ধাতার আমল' বলতে কী বোঝ ? 


 ‘মান্ধাতার আমল’ একটি প্রচলিত বাগ্ধারা। মান্ধাতা ছিলেন অতি প্রাচীনকালের সূর্যবংশীয় এক রাজা। বহু প্রাচীনকালের অনুষঙ্গ ব্যবহার করতে মান্ধাতার আমল' বাগধারাটি প্রয়োগ করা হয়।


৭. “তোমারি কি এমন ভাগ্য...”–উদ্ধৃতিটি কার রচিত ?


[ ] প্রশ্নে উল্লিখিত উদ্ধৃতিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ।



ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর


১.‘বোঝাপড়া’ কবিতায় কবি প্রকৃতপক্ষে কোন্ বোঝাপড়ার কথা বলেছেন ? 


‘বোঝাপড়া’ কবিতায় কবি প্রকৃতপক্ষে মনের সঙ্গে বোঝাপড়া অর্থাৎ সহিয়ুতা অভ্যাস করার কথা বলেছেন।


২.“মান্ধাতার আমল থেকে/ চলে আসছে এমনি রকম—” কবি কোন্ রকমের কথা বলেছেন ?  অথবা, “চলে আসছে এমনি রকম”—‘এমনি রকম' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?


এমনি রকম' বলতে মানুষের স্বভাবের বৈচিত্র্যের কথা বলা হয়েছে।


পৃথিবীতে নানা ধরনের মানুষ রয়েছে। একজন মানুষ সবাইকে ভালোবাসতে পারে না, কাউকে কাউকে প্রতারণাও করে। সে নিজেও সবসময় অন্য মানুষের ভালোবাসা পায় না, কখনো-কখনো প্রতারিতও হয়। জীবনপথে চলতে গেলে ফাঁকি দেওয়া ও প্রতারিত হওয়াকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব না। যুগ যুগ ধরে এমনটাই ঘটে চলেছে। ‘এমনি রকম' বলতে কবি এই বিষয়টিকেই বোঝাতে চেয়েছেন।


৩. “বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!”—এখানে কোন্ জখমের কথা বলা হয়েছে?



→ কোনো মানুষ সারাজীবন ধরে শুধুই যে মানুষের ভালোবাসা অর্জন করে, এমন নয়। তাকে বহু প্রতারণার সম্মুখীন হতে হয়। এভাবেই জীবনে অনেকের কাছ থেকেই তারে নানারকম আঘাত বা জখম পেতে হয়। ‘বোঝাপড়া' কবিতায় কবি বলেছেন, কোনো মানুষই ভাগ্যবলে এই জখম বাঁচিয়ে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারে না।


৪. “মনেরে আজ কহ যে,”—কবি মনকে কী করতে বলেছেন ? 


‘বোঝাপড়া’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে, ভালোমন্দ যা-ই আসুক না কেন, সত্য বা বাস্তবকে সহজভাবে গ্রহণ করতে হবে। মানুষের অবহেলা, অপ্রত্যাশিত বিপর্যয়, বন্ধু বা স্বজন বিচ্ছেদ, অবিচার ও বঞ্ছনা, ভাগ্যের প্রতি দোষারোপ সব সরিয়ে রেখে নতুন উদ্যমে জীবনকে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই প্রকৃত সুখ খুঁজে পাওয়া যাবে।


৫. “মনেরে আজ কহ যে”—কার উক্তি ? মনকে কী বলার কথা বলা হয়েছে?


আলোচ্য উক্তিটি ‘বোঝাপড়া’কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উক্তি। মনের প্রতি বক্তব্য: কবি পৃথিবীর সকল মানুষকে বলেছেন তাদের মনকে বোঝাতে যে, জীবনে ভালো বা মন্দ যাই আসুক না কেন, সেই সহজে গ্রহণ করতে পারে।


৬. “তোমারি কি এমন ভাগ্য/বাঁচিয়ে যাবে সকল জখম!”—পঙ্ক্তিটির মর্মার্থ লেখো।


— সুখ ও দুঃখ নিয়েই জীবন—এ কথা সকলেই জানে। তবুও সামান্য দুঃখেই মানুষ কাতর হয়ে পড়ে। অন্যের দুঃখ মেনে নিলেও নিজের দুঃখ আমাদের ক্ষতবিক্ষত করে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ভাগ্যের বিবর্তনে সকলের ভাগ্যেই দুঃখ আসবে। এত সৌভাগ্যবান কেউ নেই যে সেই জখম থেকে বাঁচতে পারবে।



class 8 bangla bojhapora question answer


অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর


১.কীভাবে সুখের বন্দরে আসা যায় ?


অনেক ঝঞ্ঝা কাটিয়ে তবে সুখের বন্দরে পৌঁছোনো যায়।


২. বুকের অন্দরেতে' কী লাগল ?


* জলের তলায় লুকোনো পাহাড় বুকের অন্দরেতে লাগল ।


৩. “সেইটে সবার চেয়ে শ্রেয়”—কোটিকে শ্রেয় বলেছেন ? 


→ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, প্রতি মুহূর্তে সবার সঙ্গে ঝগড়া করে মরার চেয়ে সদ্ভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকাই শ্রেয়।


৪ “সেইখানে হয় জাহাজ-ডুবি।”—কোথায় জাহাজডুবি হয় বলে কবি মনে করেন ? 


সব ঝড়-ঝঞ্ঝা কাটিয়ে ওঠার পর জাহাজযাত্রীর মনে যখন বন্দরে পৌঁছোনো নিয়ে আর কোনো শঙ্কা থাকে না, তখনই অপ্রত্যাশিতভাবে জাহাজডুবি ঘটে।


৫. যেখানে কেউ শঙ্কা করে না সেখানে কী হয়? 


যেখানে কেউ শঙ্কা করে না, সেখানেই জাহাজডুবি হয়, অর্থাৎ অপ্রত্যাশিত আঘাত আসে।


৬. ‘বোঝাপড়া' কবিতার কবির মতে 'সবার চেয়ে শ্রেয়' কী?


 ‘বোঝাপড়া’ কবিতার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতে, সবার চেয়ে শ্রেয় হল সব ঝড়-ঝাপটা সামলে জীবনসমুদ্রে ভেসে থাকা।




    বাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

প্রতি প্রশ্নের পূর্ণমান ২


১.“মুহুর্তকে পাঁজরগুলো / উঠল কৈছে আঁটরবে”—কেন এমন হল?



সুখে থাকতে থাকতে সুখেরই যখন মানুষের অভ্যাস হয়ে যায়, দুঃখের সামান্য আঘাতেও যখন মানুষ করে না, তখনই হঠাৎ অপ্রত্যাশিত দুঃখের আঘাতে বুকের পাঁজর কেঁপে ওঠে। 


২. “মুহুর্তকে পাঁজরগুলো উঠল কৈছে আঁটরবে”—কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলা হয়েছে? পাঁজরগুলোর আঁটরবে কৈছে ওঠার তাৎপর্য কী?


উত্তর: অনেক সময় ধরে দুঃখের সহজে লড়াই করে সুখের মুখ দেখতে না-দেখতেই কারও জীবনে আচমকা নেমে আসে গভীর বিপদ । এই বিয়টি বোঝাতে এই উক্ত কঠাটি বলা হয়েছে।


তাৎপর্য: হঠাৎ পাওয়া মানসিক আঘাতে মনের ভিতর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। এই কষ্টের বর্ণনা দিতেই পাঁজরগুলোর আঁটরবে কৈছে ওঠা বলা হয়েছে।



অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

প্রতি প্রশ্নের পূর্ণমান ৫


১.“এমনি কিসের টানাটানি?”—কোন টানাটানির কথা এখানে বলা হয়েছে?


পৃথিবীতে সব কিছুই আমাদের মাপমতো বা মনের মতো হয় না। তবুও মনের মতো কিছু পাওয়ার জন্য আমরা যে অতিরিক্ত আকুলতা দেখাই, তার কথাই এখানে বলা হয়েছে।। 


২. বিশ্বজবন কাকে বাদ দিয়েও ‘মস্ত ডাগর’ হয়ে থাকে?


যার সঙ্গে বিচ্ছেদের কারণে মানুষ আকুল হয়ে কেঁদে ভাসায়, তাকে বাদ দিয়েও বিশ্বজবন অর্থাৎ পৃথিবী ‘মস্ত ডাগর’ অর্থাৎ একইরকম আনন্দময় ও বৈচিত্র্যময় জড়িয়ে ধরা থাকে।


৩.“আকাশ তবু সুনীল থাকে, মধুর ঠোঁকে”—কী মধুর ঠোঁকে?



বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় কবি ভোরের আলো তথা পৃথিবীর রূপ মধুর ঠোক্কার কথা বলেছেন।


৪. “মরণ এলে হায়াত/মরার চেয়ে বাঁচাই ভালো”—পঙ্ক্তি দুটি কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?


পঙ্ক্তি দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘বোঝাপড়া’ কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।




১."তুমি মর কারও ঠেলায়/ কেউ বা মরে তোমার চাপে।" কবিতার এই দুটি পঙ্ক্তির অর্থ কী?


'বোঝাপড়া' কবিতায় এই দুটি পঙ্ক্তি মানুষ জীবনের চিরকালীন সত্যকে তুলে ধরেছে। পৃথিবীতে কেউ সবসময় থেকেই সুন্দর অথবা পূর্ণতা প্রাপ্ত নয়। সকলের মধ্যেই কিছু দোষ-ত্রুটি ও ভালোমন্দ আছে। অন্যের কারণে মানুষ যেমন অসুখী বোধ করে, তেমনই তার নিজের স্বভাবও অন্যের দুঃখের কারণ হয়ে উঠতে পারে।


২."তেমন করে হাত বাড়ালে"- 'তেমন করে' বলতে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?


কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ 'তেমন করে' বলতে মানুষের প্রতি বন্ধুর হাত বাড়ানোর কথা বলেছেন। মানুষে মানুষে স্বভাবগত ও আচরণগত বৈষম্য আছে। সৈ বৈষম্যকে মেনে নিয়ে শুধু মানবিকতাকে পাথেয় করে একে অপরের প্রতি হাত বাড়ানোই মানুষের মতো কাজ। এই কাজটুকেই কবি 'তেমন করে হাত' বাড়ানো বলে বর্ণনা করেছেন।


৩. "তাহারে বাদ দিয়েেও দেখি"-তাকে বাদ দিয়ে কী দেখা যায়?


প্রিয়জনকে বিচ্ছেদে মানুষ শোক গ্রহণ করলেও পৃথিবী কিন্দু তার আপন নিয়মেই চলে। মানুষও ধীরে ধীরে এই চলমান জগতের সঙ্গে নিজেই মিলিয়ে নেয়। মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন হল প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলা। যে মুহূর্তে সেই ঘটনা বাস্তবে ঘটে যায় তার জীবনে, তার মনে হতে থাকে জীবন যেন থমকে গেছে। পৃথিবীর সব কিছুই শূন্য মনে হতে থাকে। অথচ যত সময় এগিয়ে চলে, শোকের প্রাবল্য কমে আবার আসে। জীবন আবার আগের মতোই গতি লাভ করে।



class 8 বাংলা বোঝাপড়া প্রশ্ন উত্তর:


অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর


১. নিজের ছায়া মস্ত করে তোলা কথাটি কী বোঝানো হয়েছে?


নিজের ছায়া মস্ত করে তোলার অর্থ কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে চিন্তা করা ও বেঁচে থাকা।


২.'বিধি' বলতে কাকে বা কাকে বোঝানো হয়েছে?


'বিধি' বলতে বিধাতা অথবা ভাগ্যকে বোঝানো হয়েছে।


আলোচনা কবিতায় 'বিধি' বলতে বিধাতা অথবা ভাগ্যকেই বোঝানো হয়েছে।


৩.. মানুষের জীবনে আন্ধার নেমে আসে কেন?


মানুষের জীবনে নিজের দোষেই তার জীবনে আন্ধার নেমে আসে।


৪. "বিধির সঙ্গো বিবাদ করে মানুষ কী করে?


মানুষ বিধি বা ভাগ্যের সঙ্গো অথবা বিবাদ করে নিজের পায়ে কুড়ুল মারে।


৫. কবি কী ভুলে যেতে বলেছেন?


কবি ভুলে যেতে বলেছেন জীবনে পাওয়া-না পাওয়ার ক্ষেত্রে কার সঙ্গো কতটুকু অফাত হল

কবি তা ভুলে যেতে বলেছেন।

 

৫. "নিজের ছায়া মস্ত' করে তুললে কী হয় ?


নিজের ছায়া মস্ত করে তুললে অর্থাৎ  আমিত্বকে পূর্ণতা দিলে জীবনে একাকিত্বের অন্ধকার নেমে আসে।


ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন ও উত্তর

প্রতিটি প্রশ্নের পূর্ণমান ২


১. কখন আঁধার ঘরে প্রদীপ জ্বালানো সম্ভব?


আমিত্ত ও অহংবোধ পরিত্যাগ করে মানুষকে জগৎসংসারের সঙ্গে মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি ভাগ্যের প্রতি দোষারোপ বন্ধ করে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে জীবনকে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। তবেই একাকিত্বের অন্ধকার দূর করে প্রদীপ জ্বলে উঠবে, জীবনও তরে উঠবে আলোয় !


২. মনের সঙ্গে বোঝাপড়ার পর কী করা আবশ্যক ?



মনের সঙ্গে বোঝাপড়ার পর মানুষের উচিত অন্যের সৌভাগ্যে প্রতি ঈর্ষাধ্বিত না হয়ে জগতের বাস্তব সত্যের সঙ্গে নিজেকে মেনে নেওয়া। তাহলেই মনের মধ্যে জলে উঠবে উপলব্ধির প্রদীপ। সেই আলোতেই একাকিত্বের অন্ধকার দূর হবে, জীবন সহজ ও সুন্দর হয়ে উঠবে।


৩."কতটুকু তফাত হলো”— কী তফাতের কথা বলা হয়েছে?


প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রত্যেক মানুষের চরিত্রগত বা বৈশিষ্ট্যগত বা কর্মগত কিছু তফাত থাকে। এখানে সেই তফাতের কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সেই তফাতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতেও বারণ করা হয়েছে।

Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default