বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 10 || Best Online Education

Best Online Education
By -
0

 

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 10 || Best Online Education

 

বহুরূপী-গল্পের-প্রশ্ন-উত্তর



বহুরূপী

সুবোধ ঘোষ


বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর 2026


বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর এই আর্টিকেলটিতে  বহুরূপী গল্পের উৎস, বিষয়বস্তু এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।

বহুরূপী গল্পের উৎস

সুবােধ ঘােষের রচিত ‘বহুরূপী’ গল্পটি লেখকের ‘গল্পসমগ্র’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

 

বহুরূপী গল্পের বিষয়বস্তু

 

বিষয়-সংক্ষেপ

 

  শহরের সবচেয়ে সরু গলির সবচেয়ে ছােট্ট একটি ঘরে বহুরূপী হরিদার আবাস। তার সংসার বলতে সে একা। চাকরি-বাকরি করার যােগ্যতা ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা করেন না। গতানুগতিক জীবনযাপন, বাঁধাধরা নিয়মের বাঁধনে জীবনাচরণ তার স্বভাববিরুদ্ধ। মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে যৎসামান্য আয়ে দিন চালানােয় অভ্যস্ত হরিদা।

  তিনি কখনও বাউল, কখনও কাপালিক, কখনও বোঁচকা কাধে বুড়াে কাবুলিওয়ালা, একবার তাে পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর বাগানে চার স্কুলপড়ুয়া লিচু চোরকে ধরে হেডমাস্টারের কাছ থেকে সামান্য কিছু পয়সা পেয়েছিলেন। একবার তাে রূপবতী বাইজি সেজে অপূর্ব নাচের ভঙ্গিমায় শহরের পথচলতি মানুষজনকে মুগ্ধ করেছিলেন। সেবার বেশ কিছু আয়ও হয়েছিল তার। আর-একবার কোট-প্যান্ট-পরা ফিরিঙ্গি সাহেব সেজে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। 

 

  কয়েকটি কমবয়সি যুবক বহুরূপী হরিদার ঘরে সকাল-সন্ধেয় আড্ডা দিত। তারাই বহুরূপী গল্পের কথক। তারাই গল্পের ছলে ধনী জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয় থেকে আগত এক সন্ন্যাসীর কথা শুনিয়েছিল হরিদাকে। সেই সন্ন্যাসী নাকি একটিমাত্র হরিতকী খেয়ে সারাবছর কাটিয়ে দেন। তার বয়স নাকি হাজার বছরের।

হরিদা তার ২ পায়ের ধুলাে নেওয়ার প্রত্যাশী হতে, কথকরা শুনিয়েছে তার পায়ের ধুলাে নাকি খুবই দুর্লভ। তার পায়ে সােনার বােল লাগানাে খড়ম পরাতে গিয়ে জগদীশবাবু কোনােরকমে পায়ের ধুলাের অধিকারী হন। সন্ন্যাসীর বিদায়ের সময় ভক্ত জগদীশবাবু কৃপণ হওয়া সত্ত্বেও একশাে টাকা সন্ন্যাসী ঠাকুরের ব্যাগের মধ্যে দিয়ে দেন।


  গল্প শােনার পর উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত হরিদা গল্পকথক যুবকদের সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির থাকার কথা বলেন। আরও জানান যে, বহুরুপীর সাজে হাজির হয়ে তিনি এমন কিছু করবেন, যাতে তাঁর সারা বছর চলার মতাে অর্থ উপার্জিত হবে। যুবকেরা হরিদার কথা মতাে স্পাের্টসের চাদা আদায়ের অছিলায় জগদীশবাবুর বাড়ির বারান্দায় হাজির। জগদীশবাবু চেয়ারে উপবিষ্ট। হঠাৎ সিড়ির দিকে তাকিয়ে জগদীশবাবু বিস্মিত। 

 উপস্থিত কথক যুবকেরাও হতবাক। সিঁড়ির কাছে এসে যে দাঁড়িয়েছে সে ঠিক পরিচিত সন্ন্যাসীর মতাে বেশভূষায় নেই। তার জটাজুট নেই, কমণ্ডলু নেই, মৃগচর্ম নেই, গৈরিক পােশাক নেই। আদুড় গা, তার ওপর একটি সাদা উত্তরীয়, পরনে ছােটো সাদা থান, ধুলােমাখা পা, মাথায় ফুরফুর করে উড়ছে শুকনাে সাদা চুল। কথকরাও তাদের অতিপরিচিত হরিদাকে ছদ্মবেশী বলে মনে করতে পারছে না। এমন সুন্দর ও নিখুঁত সন্ন্যাসীর বেশে হরিদা হাজির। তার ঝােলায় একটি গীতা। তা ঝােলা থেকে বের করে হাতে নিয়েছেন। শান্ত-সমাহিত মূর্তির যােগী মানুষ যেন। যেন জগতের সীমার ওপর থেকে তিনি সমাগত।

 

  সন্ন্যাসীবেশী হরিদার উপস্থিতিতে জগদীশবাবুর বারান্দায় এক ভাবগম্ভীর পরিবেশ বিরাজ করছে। তার দু-চোখের শান্ত-সমাহিত দৃষ্টি, জ্ঞানগর্ভ কথা, সর্বোপরি তার নির্লোভ আচরণতার চরিত্রকে এক উন্নত মাত্রায় উন্নীত করেছে। তিনি জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর অর্থ গ্রহণ করেননি। তিনি পরে কথকদের বলেছেন জগদীশবাবুর কাছে একদিন গিয়ে বকশিশের টাকা চেয়ে আনবেন। সন্ন্যাসীর প্রণামী নয়, বহুরূপীর যেটুকু প্রাপ্য সেটুকুই।

 

বহুরূপী গল্পের নামকরণের সার্থকতা

 

নামকরণ

 

সাহিত্যেনামকরণগভীরশিল্পবােধকেতুলেধরে। চরিত্রকেন্দ্রিক, কাহিনিনির্ভর, রূপকধর্মী বা ব্যঞ্জনাময় নামকরণ মূলত সাহিত্যে লক্ষ করা যায়। সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বহুরূপী হরিদার কথাই আদ্যন্ত পরিবেশিত হয়েছে। শহরের সবচেয়ে সরু গলির ছােট্ট একটা ঘরে থাকা বহুরূপী সাজা হরিদার ঘরেই গল্পের সূচনা।

 

কথাপ্রসঙ্গে কথকেরা জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা এক সন্ন্যাসীর চমকপ্রদ কথা উত্থাপন করেন। সেই সন্ন্যাসীর প্রতি ধনী ভক্ত জগদীশবাবুর মহার্ঘ উপহার প্রদানের কথা শুনে হরিদাও কিছু বেশি প্রাপ্তির আশায় তার বাড়িতে বহুরূপী সেজে যেতে চান। এর আগে শহরে কখনও উন্মাদ সেজে, কখনও বা রূপবতী বাইজি, আবার কখনও বাউল, কাপালিক, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি সেজে হরিদা যৎসামান্য উপার্জন করতেন।

 

বিরাগী সেজে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অদ্ভুত এক ভাবগম্ভীর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। বহুরূপী হরিদার শান্ত সমাহিত দৃষ্টি, জ্ঞানগর্ভ কথাবার্তা, নির্লোভ আচরণ গল্পে এক অন্য মাত্রা আনে। জগদীশবাবুর প্রদেয় একশাে এক টাকার প্রণামীকে উপেক্ষা করেন দরিদ্র বহুরূপী হরিদা। গল্পের কথকেরাও বিরাগীর মধ্যে হরিদাকে আবিষ্কার করে চমৎকৃত হন। হরিদাও বহুরূপী সাজে বিরাগীর মধ্যে নিজের নির্লোভ মানসিকতাকে আবিষ্কার করেন।

 

কাহিনির শুরু হয়েছিল বহুরূপীর এক চিলতে ঘরে, সমাপ্তিও সেখানেই। সমস্ত কাহিনিতে বহুরূপী হরিদার বিচিত্র কার্যকলাপ পরিবেশিত হয়েছে। তাকে কেন্দ্র করে কাহিনির সূচনা, অগ্রগতি ও সমাপ্তি। তাই বহুরূপী এই চরিত্রনির্ভর নামকরণ সার্থক ও যথাযথ।

 

বহুরূপী গল্পের বড় প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্নঃ ।। “খাটি মানুষ তাে নয়, এই বহুরুপীর জীবন এর বেশি কী আশা করতে পারে?” –বহুরুপী জীবনের এই ট্র্যাজেডি পাঠ্য বহুরূপী' গল্প অবলম্বনে আলােচনা করাে।

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ ছছাটোগল্পে বহুরূপীর পেশা নেওয়া হরিদার দারিদ্র্যপূর্ণ জীবনের কথা আছে। শহরের সবচেয়ে সরু গলির মধ্যে ছােট্ট একটি ঘরে হরিদা বাস করেন। দরিদ্র এই মানুষটি প্রথাগত কোনাে পেশাকে আঁকড়ে ধরেন না। নিয়ম মেনে কাজ করা সম্ভব হয় না বলে দারিদ্র্য হরিদার নিত্যসঙ্গী। তবে বহুরূপী সেজে হরিদা জীবনে কিছু বৈচিত্র্যও আনেন। উন্মাদ, কাপালিক, ফিরিঙ্গি বা রূপসিবাইজি সেজে কায়ক্লেশেদিনতার অতিবাহিত হয়। এই হরিদাই কথকদের মুখে ধনী মানুষ জগদীশবাবুর সন্ন্যাসীপ্রীতি ও সেইসূত্রে মহার্ঘ উপহার প্রদানের কথা জানতে পেরে তার বাড়িতে এক সন্ধ্যায় যন বিরাগী সেজে।

 

বিরাগী সাজা হরিদার অদ্ভুত সাজপােশাক, আচরণ দেখে মনে হয় চেনা পৃথিবীর পরিচিত মানুষ নন তিনি। তার শান্ত অন্তর্ভেদী দৃষ্টি, উচ্চস্তরের কথাবার্তায় মােহিত হয়ে জগদীশবাবু একশাে এক টাকা তীর্থযাত্রার পাথেয় হিসেবে দিতে চাইলে বিরাগী অনায়াসে তা উপেক্ষা করে চলে যান।

 

কথকের পরে তাকে এ বিষয়ে অনুযােগ করলে হরিদা জানান বিরাগী স্যজার বকশিশ তিনি জগদীশবাবুর কাছ থেকে নিয়ে আসবেন একদিন। এই সময় বিড়ি ধরিয়ে সলজ্জ হরিদা বলেন যে যেহেতু তিনি খাটি মানুষ নন, নিতান্ত এক সাধারণ হুরূপী; তাই এর বেশি আশা করেন না। তথাকথিত উচ্চমানের পেশ না হওয়ার যন্ত্রণা বহুরুপী সাজা হরিদাকে কষ্ট দেয়।  বহুরুপীর মতাে নিতান্ত সাধারণ জীবিকা হরিদাদের কখনােই স্বপ্ন দেখায় না, সমাজে উচ্চ মর্যাদা দেয় না। কঠিন জীবন সংগ্রামে অভ্যস্ত দরিদ্র হরিদা এই বাস্তব সত্যকে বােঝেন বলেই যন্ত্রণাদায় কথাগুলি বলেন।

বহুরূপী গল্প

প্র)  “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে ।”—হরিদা কী ভুল করেছিলেন? অদৃষ্ট ক্ষমা না করার পরিণাম কী? 

 

উওর : বহুরূপী হরিদাকে বিরাগী ছদ্মবেশে দেখে, তাকে যথার্থ { বিরাগী ভেবে জগদীশবাবু তীর্থভ্রমণের জন্য যে একশাে এক টাকা দিয়েছিলেন হরিদা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর এই কাজ ক্ষমার অযােগ্য ভুল বলেছেন গল্পকথক।

 

অদৃষ্টহরিদারএইভুলকেকখনওক্ষমাকরবেনা।কারণএইভুলটাই হরিদার জীবনদর্শন। ভুলের সংশােধন আছে, কিন্তু জীবনদর্শনের পরিবর্তন সহজে ঘটে না। হরিদা স্বভাবশিল্পী মানুষ। তাই তাে কাজের একঘেয়েমি, ঘড়ির কাঁটার শাসন মেনে চলেত তাঁর প্রবল আপত্তি। পাখির গানে যেমন কোনাে অনুশাসন থাকে না, মেঘের কারুকাজ যেমন অনুশাসনমানেনা, তেমনিহরিদামুক্তপ্রাণ মানুষ।

  অর্থসওয়ের স্বার্থবুদ্ধি তার মােটেই নেই। বহুরূপীর সাজগ্রহণ তাঁর পেশা হলেও মূলত নেশা।শুধুঅর্থউপার্জনের জন্য তিনি সাজগ্রহণকরেননা।এই সাজগ্রহণ তার জীবনের শিল্প। এই শিল্পের মূল্যায়নের মধ্যেই তার জীবনের স্বার্থকতা নিহিত আছে। দারিদ্রতাকে কোনাে দিন দীন করতে পারেনি। তার সততা, ন্যায়-নিষ্ঠাকে নষ্ট করতে পারেনি।

  বস্তুত দারিদ্র্য তার খুব একটা সহ্যাতীত কিছু নয়। যার ফলে জগদীশবাবুর বাড়িতে যে ভুল ঘটে গেল সে ভুল তার বার বার ঘটবে। অর্থউপার্জনের পথগুলি চিরকাল অবরুদ্ধ থাকবেতার কাছে। সম্পদলক্ষ্মী কোনােদিন সুপ্রসন্না হবেন না। কোনাে দিন শেষ হবেনা তার দারিদ্র্যে ভরা জীবন। অদৃষ্ট ফিরবে না কখনও।

 

প্রশ্নঃ) জগদীশবাবুর-বাড়িতে হরিদা বিরাগী সেজে যাওয়ার পর যে ঘটনা ঘটেছিল তা সংক্ষেপে লেখাে। 

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা  বিশেষ উদ্দেশ্যে বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে হাজির হয়েছিলেন। আদুড় গায়ে একটি ধবধবে সাদা উত্তরীয়। পরনে ছােটো বহরের একটি গান। মাথায় ফুরফুরে শুকনাে সাদা চুল। ধুলাে মাখা পা। হাতের ঝোলায় একটি গীতা। একেবারে পুরােদস্তুর বিরাগী।

  তাঁকে দেখে জগদীশবাবু চমকে ওঠেন। চমকে ওঠেন সেখানে হাজির হরিদার বন্দুরাও। হরিদাকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন এই জগতের সীমার ওপার থেকে হেঁটে আসছেন। কিংকর্তব্যবিমূঢ় জগদীশবাবু নেমে না এসেই আহ্বান জানালে হরিদা তাকে ভৎসনা করেন। তাঁর সম্পত্তির অহংকারকে কটাক্ষ করেন।

  জগদীশবাবুপরাধ স্বীকার করে নিয়ে বিরাগীবেশী হরিদাকে রাগ করতে বারণ করেন। হরিদা জানান । যে, তাঁর রাগ নামে কোনাে রিপু নেই। জগদীশবাবু তার সেবা করতে ? চাইলে তিনি এক গ্লাস ঠান্ডা জল শুধু পান করেন। তার গৃহে কয়েকটা দিন থেকে যেতে বললে তিনি হেসে সে অনুরােধ প্রত্যাখ্যান করেন।

 

ভাবাবেগবিহ্বল জগদীশবাবু যেনতেনপ্রকারের্তাকে কিছু দিতে চেয়ে ব্যর্থ হন। জগদীশবাবুর মনের শান্তির জন্য উপদেশ হিসেবে বিক বলেন যে, ধন-জন-যৌবন আসলে কিছুই নয়, ওগুলি এক-একটি সুন্দর সুন্দর বঞ্চনা। যাকে পেলে সব পাওয়া হয়ে যায় সেই ঈশ্বরের আপন হওয়া প্রয়ােজন।

 

বিরাগী ব্যক্তিতে, জ্ঞানের গভীরতায় মহত্ত্বে আবেগের চরম সীমায় পৌঁছে গিয়ে একশাে এক টাকার প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন। জগদীশবাবু, কিন্তু বিরাগীর কাছে টাকা আর মাটিতে তফাত নেই। মাটি মাড়িয়ে যাওয়ার মতাে করে একশাে এক টাকার থলিটা সিড়ির ওপরে রেখে নানান সংশয় আর বিস্ময়ের মধ্যে সবাইকে রেখে  হরিদা বেরিয়ে আসেন।

 

প্রশ্ন)  “হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেকসময় শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না।’-অংশটির তাৎপর্য লেখাে।

 

উত্তর : শহরের সরু গলির মধ্যে থাকা অতিশয় ছােটো একটি ঘরে থাকেন বহুরূপী হরিদা। অতিশয় দরিদ্র হলেও কোনাে ধরাবাঁধা কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখেন না। কোনাে অফিস কিংবা দোকানে কাজ করার সুযােগ থাকলেও তিনি তা করেন না।

 

বহুরূপী হরিদার মধ্যে শিল্পীসত্তা প্রবলভাবে উপস্থিত। বহুরূপী সেজে সকালে কিংবা সন্ধ্যার সময় শহরের পথে বেরিয়ে পড়েন। কিছু রােজগারের আশায়। কখনও উন্মাদ সেজে বাসযাত্রীদের ভয় দেখান, কখনওবা অন্য কিছু সাজেন। একবার এক রূপবতী বাঈজী সেজে প্রায় নাচতে নাচতেশহরের পথেযখন হেঁটে যান, তখনশহরে আসা নতুন লােকেরামুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

  বাউল, কাপালিক, বোঁচকা কাধে বুড়াে কাবুলিওয়ালা, কোট-প্যান্ট পরা ফিরিঙ্গি সাহেব সাজেন বহুরূপী হরিদা। একবার পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতরে দাঁড়িয়ে স্কুল পালানাে চারটে ছেলেকে ধরে মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে সামান্য টাকাও নিয়েছিলেন হরিদা।

  এক ধরনের সৎ মনােবৃত্তি তার মধ্যে রয়েছে। তাই জগদীশবাবুর বাড়িতে ‘জবর খেলা দেখিয়েও বিপুল অর্থপ্রাপ্তির সুযােগকে দারিদ্র্য। তার উনুনে চাপানাে হাঁড়িতে অনেক সময় চাল থাকে না, হেলায় তুচ্ছ করেন। তাই বহুরূপী সাজা হরিদার জীবনে শুধুই শুধু গরম জলই ফোটে।

বহুরূপী গল্প

প্রশ্নঃ।।  “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।'—হরিদার পরিচয় দাও। তার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যের দিকটি ব্যাখ্যা করাে। 

  অথবা, খুব গরীব মানুষ হরিদা।'—হরিদা কে ছিলেন? তার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্য কী ছিল? 

 

উত্তর : প্রখ্যাত লেখক সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা। তিনি নেশা এবং পেশায় বহুরূপী। শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে ছােট্ট একটি ঘরে হরিদার বসবাস। তিনি এতটাই দরিদ্র যে অন্নাভাবে মাঝে মাঝেই উপােষ করেন। একঘেয়ে অভাবটাকে। তিনি সহ্য করতে পারেন তবুও একঘেয়ে কাজ করায় তাঁর প্রবল আপত্তি। হরিদা ইচ্ছে করলে কোনাে অফিসের কাজ কিংবা কোনাে দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ পেয়ে যেতে পারেন। কিন্তু এই ধরনের কাজ তাঁর পছন্দ নয়। ঘড়ির কাঁটার শাসন মেনে, রােজই একই কাজ করে যাওয়া স্বভাবশিল্পী হরিদার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

অভাবের নিদারুণ দংশন হরিদার হৃদয়ের শিল্পীটাকে মােটেই আহত করতে পারে না। বিচিত্র শিল্পভাবনায় তিনি তাঁর মুক্ত বিহঙ্গ হৃদয়টিকে বৈচিত্র্যের সন্ধানে বর্ণময় করে রাখেন। বহুরূপী হিসেবে সাজ এবং অভিনয়ে একদম নিখুঁত শিল্পী তিনি। দুপুরবেলা চকের বাসস্ট্যান্ডে উন্মাদ পাগলের বেশে তিনি একেবারে আতঙ্কের হল্লা বাজিয়ে দেন।

  ভয়ে যাত্রীরা চেঁচিয়ে ওঠে নতুবা পয়সা ছুড়ে দেয়। লাস্যময়ী বাইজির ছদ্মবেশে শহরে নতুন আসা মানুষদের বুকে ঢেউ তুলে ঘুঙুরে মিষ্টি রুমঝুম শব্দ তুলে নাচতে নাচতে চলে যান। পুলিশের ছদ্মবেশে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে থেকে চারটি ছাত্রকে ধরে স্কুলের মাস্টারের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করে নেন। হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যের চরমতম রূপটি দেখা যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে। 

 বিরাগীর ছদ্মবেশে ধনবান জগদীশবাবুকে তিনি মুগ্ধ করে ফেলেন, কিন্তু তাকে প্রকৃত বৈরাগী ভেবে আবেগাপ্লুত জগদীশবাবুকে একশাে এক টাকা তীর্থভ্রমণের জন্য দিলে তিনি স্পর্শ করেও দেখেননি। কারণ বিরাগী ছদ্মবেশে তিনি অর্থ স্পর্শ করতে পারেন না। এতে তার ঢং নষ্ট হয়ে যায়। তবে বকাশিশ তিনি অবশ্যই নেবেন।

 

প্রশ্নঃ) এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝেই অদ্ভুত ঘটনা সৃষ্টি করেন হরিদা।’-হরিদা যে অদ্ভুত ঘটনাগুলি সৃষ্টি করেছিলেন তার বর্ণনা দাও। 

 

উত্ত: সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা  বর্ণময় চরিত্রের একজন ভাবশিল্পী মানুষ। বহুরূপীর ছদ্মবেশ ধারণ তার নেশা এবং পেশা। যে-কোনো ছদ্মবেশে তিনি এতাে স্বাভাবিক ” বাস্তবসম্মত হয়ে ওঠেন যে তাকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে যায়।

 

চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে একদিন দুপুরবেলা উন্মাদ পাগলের ছদ্মবেশে একটা আতঙ্কের হল্লা তুলেছিলেন। মুখ থেকে লালা ঝরছে, চোখ দুটি কটকটে লাল, কোমরে একটা ছেড়া কল। জড়ানাে। গলায় টিনের কৌটোর একটা মালা। একটা থান ইট তুলে বাসের যাত্রীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। যাত্রীরা তাকে দেখে কেউ ভয়ে চেঁচিয়ে উঠছে, কেউবা দুটো-একটা পয়সা ফেলে দিচ্ছে।

 

একদিন সন্ধ্যায় ঘুঙুরের মিষ্টি রুমঝুম শব্দ তুলে এক বুক বাইজির ছদ্মবেশে দোকানে দোকানে ব্যস্ত লােকজনকে বিস্মিত করে নাচতে নাচতে হেঁটে যান। শহরে নতুন আসা মানুষগুলি চোখ বলে করে চেয়ে থাকে। তারপর তাকে একটা বহুরূপী জেনে হতাশ হয় হরিদা দোকানে দোকানে মুচকি হেসে চোখ টিপে ফুলসাজি এগিয়ে দিয়ে পয়সা তােলেন।

 

তার সাজের শেষ নেই। বাউল, কাপালিক, বুড়াে কাবুলিওয়ালা, ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব ইত্যাদি যে-কোনাে ছদ্মবেশে শহরের মানুষকে মাৎ করে দেন তিনি। পুলিশ সেজে একবার দয়ালবাবুর লি বাগানে দাঁড়িয়ে থেকে স্কুলের চারটা ছেলেকে তিনি ধরেছিলেন। ভয়ে ছেলেগুলি কেঁদে ফেলেছিল। স্কুলের মাস্টার এসে নকল পুলিশ হরিদার কাছে ক্ষমা চেয়ে, আট আনা ঘুষ দিয়ে ছেলেগুলিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। পরে প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে ক্রুদ্ধ না হয়ে বহুরূপী হরিদার প্রশংসাই করেন।

বহুরূপী গল্পের প্ৰশ্ন উত্তর 10

প্রশ্নঃ) পরম সুখ কাকে বলে জানেন? সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া।–বক্তা কখন এই উক্তি করেন? তার জীবনেও কী এই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায় যুক্তিসহ লেখাে। 

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের বহুরূপী’ গল্পে হরিদা বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হলে তার সাজ-পােশাক, ভাবমূর্তি দেখে জগদীশবাবু চমকে যান। চমকে যান স্বয়ং গল্পকথক ও তাঁর বন্ধুরাও। বিরাগীবেশী হরিদার ভাষাও তার ভূমিকাকে উজ্জ্বল করে তােলে। মুগ্ধ জগদীশবাবু এই বিরাগীকে সেবাদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গল্পকথকের বন্ধু ভবতােষও তাকে প্রকৃত বিরাগী হিসাবেই গণ্য করেন। মােট কথা সেই সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত সকলেই তাকে শান্ত-সৌম্যকান্তি, সংসারত্যাগী, সর্বত্যাগী, জ্ঞান, বিরাগী বলেই মনে করেন। এই অবস্থায় হরিদা এই উক্তি করেন।

 

হরিদার এই উক্তি ছদ্মবেশী বিরাগীর চরিত্রের মুখের মানানসই একটি উক্তি হলেও তাঁর জীবনদর্শনে এর প্রতিফলন দেখা যায়। হরি স্বভাবশিল্পী মানুষ। কাজের একঘেয়েমি, আর ঘড়ির কাঁটার শাসন মানতে পারেন না বলে দারি) নিত্যসঙ্গী। বহুরূপীর সাজ দেখিয়ে যে সামান্য উপার্জন হয় তাতে তাঁর হাঁড়ির দাবি মেতে । মাঝে মাঝে উপােষ করতে হয় তাকে। তবে সংসারের দৈন তার অন্তরকে দীন করতে পারেনি। বহুরূপী হিসেবে তার সাজের

 

প্রতিটা চরিত্রের মর্যাদা তিনি অক্ষুন্ন রেখে চলেন। কোনাে ধরনের প্রতারণা করেন না। তার বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবু যথার্থই বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। তাকে তীর্থভ্রমণের জন্য একশাে এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন। বিরাগীর সাজের মর্যাদা রাখতে গিয়ে সে টাকা তিনি গ্রহণ করেননি। যথার্থ বিরাগীর মতাে অর্থের মােহকে অগ্রাহ্য এভাবে একজন বহুরূপী থেকে তিনি উন্নীত হয়েছেন পরমজ্ঞানী বিরাগীর পর্যায়ে।




 বহুরূপী গল্পের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।


বহুরূপী গল্পের হরিদার চরিত্র

 

প্রশ্ন ) বহুরূপী হরিদার চরিত্র বৈশিষ্ট্য আলােচনা করো।

 

: উত্তর : প্রখ্যাত লেখক সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র বহুরূপী হরিদার মধ্যে বেশ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

 

প্রথমত, শহরের সবচেয়ে ছােটো গলির মধ্যে ছােট্ট একটি ঘরে থাকা হরিদা তার চেয়ে কমবয়সিদের সঙ্গে নিবিড় একটা আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তােলেন।

 

দ্বিতীয়ত, সন্ন্যাসীদের প্রতি শ্রদ্ধার মনােভাব পােষণ করেন বলে কথকদের মুখে হিমালয় প্রত্যাগত সাধুর কথা শুনে তার পায়ের ধুলাে নেওয়ার কথা বলেন।

 

 তৃতীয়ত, হরিদা বহুরূপী সেজে মানুষকে চমৎকৃত করেন সহজাত দক্ষতায়, উন্মাদ, কাপালিক, ফিরিঙ্গি সাহেব বা রূপসি বাইজির সাজে পথচলতি মানুষদের সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

চতুর্থত, শিল্পীসুলভ এক ধরনের অনিকেত মনােভাব তার মধ্যে রয়েছে। তাই ছকে বাঁধা জীবন বা জীবিকা থেকে দূরে থাকেন তিনি।

 

পঞ্চ মত , অতি সাধারণ হরিদা যখন বহুরূ পীর সাজে আবির্ভূত হন তখন অদৃশ্য এক ব্যক্তিত্ববােধ কাজ করে। তাই বিরাগী সাজা হরিদার শান্ত প্রসন্ন দৃষ্টি বা গভীর দার্শনিক কথা কথকদের কাছেও অপরিচিত মনে হয়।


ষষ্ঠত, নির্লোভ মনােভাব তার মধ্যে থাকায় বিরাগীরূপী হরিদাকে জগদীশবাবু একশাে একটাকা প্রণামী দিতে চাইলে তিনি তা ফিরিয়ে দেন। বরং পরে গিয়ে বহুরূপী সাজার জন্য সামান্য বকশিশ আনার কথা বলেন। 

 

হরিদা নির্লোভ, বন্ধুত্বপূর্ণ দরিদ্র জীবনের মধ্যে থেকেও এক অতুলনীয় উন্নত মনােভাব তার চরিত্রকে উজ্জ্বল করেছে।


বহুরূপী গল্পে হরিদার চরিত্র আলোচনা করো


বহুরূপী গল্পে হরিদার চরিত্র 


“বহুরূপী” গল্পে হরিদা হলো কাহিনির কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাঁর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক সমাজের ভণ্ডামি, অন্ধবিশ্বাস ও মানুষের সহজ-সরল মনোভাবকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন। হরিদার আচরণ, বুদ্ধি ও বহুরূপ ধারণের ক্ষমতাই গল্পটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।


• বহুরূপ ধারণের ক্ষমতা


হরিদার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো তার বহুরূপ ধারণের অসাধারণ ক্ষমতা। প্রয়োজন অনুযায়ী সে কখনো সাধু, কখনো ফকির, আবার কখনো সাধারণ গৃহস্থের রূপ ধরে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। এই ক্ষমতার মাধ্যমেই সে সহজেই মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে।


• ধূর্ত ও বুদ্ধিমান স্বভাব


হরিদা অত্যন্ত চালাক ও বুদ্ধিমান। সে মানুষের দুর্বলতা, কুসংস্কার ও লোভকে ভালোভাবে বোঝে এবং সেই সুযোগেই প্রতারণা করে। তার প্রতিটি কাজ পরিকল্পিত ও কৌশলী, যা তাকে বারবার সফল হতে সাহায্য করে।


• সমাজের প্রতিচ্ছবি


হরিদার চরিত্র শুধু একজন প্রতারকের পরিচয় দেয় না, বরং সমাজের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তার মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন, সমাজে এমন বহু মানুষ আছে যারা বাহ্যিক রূপ ও কথার মোহে সহজেই প্রতারিত হয়।


• নৈতিকতার অভাব


হরিদার চরিত্রে নৈতিকতার অভাব স্পষ্ট। সে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করে। তবে লেখক তাকে সম্পূর্ণ খলনায়ক হিসেবে না দেখিয়ে ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের দোষগুলিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।


• গল্পের শিক্ষামূলক দিক


হরিদার চরিত্রের মাধ্যমে গল্পটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে বাহ্যিক সাজসজ্জা বা কথার উপর ভরসা না করে মানুষকে বিচার করতে শেখা উচিত। অন্ধবিশ্বাস ও লোভ মানুষকে সর্বনাশের পথে নিয়ে যায়।


• চরিত্রের গুরুত্ব


হরিদা ছাড়া “বহুরূপী” গল্পটি কল্পনাই করা যায় না। সে গল্পের চালিকাশক্তি এবং তার চরিত্রের মাধ্যমেই গল্পের মূল বক্তব্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


 উপসংহার


সারসংক্ষেপে বলা যায়, “বহুরূপী” গল্পে হরিদার চরিত্রটি ধূর্ত, বুদ্ধিমান ও সমাজব্যঙ্গমূলক। তার চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক সমাজের ভণ্ডামি ও মানুষের সহজ বিশ্বাসপ্রবণতাকে দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।



 

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর সংক্ষিপ্ত

 

প্রশ্ন ।। ‘হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন? তিনি কীভাবে মাস্টারমশাইকে বােকা বানিয়েছিলেন?

 

উত্তর : কথাসাহিত্যিক সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়েছিলেন।

 

 বহুরূপী হরিদার সাজ গ্রহণের দক্ষতা ছিল তর্কাতীত। ছদ্মবেশ ধরে যে-কোনাে চরিত্রের সঙ্গে তিনি একাত্ম হয়ে যেতেন। পুলিশ সেজে দয়ালবাবুর লিচু বাগানে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি স্কুলের চারটে ছেলেকে ধরে ফেলেছিলেন। ছেলেগুলি ভয়ে কেঁদে ফেলেছিল। স্কুলের মাস্টারমশাই এসেও হরিদাকে চিনতে পারেননি। ছেলেগুলিকে তার হাত থেকে বাঁচানাের জন্য তিনি ওদের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এতেও সমস্যা না মেটায় তিনি নকল-পুলিশ হরিদাকে আট আনা ঘুষ দিয়ে ছেলেগুলিকে ছাড়িয়ে নেন।


প্ৰশ্ন।। “এই প্রণামী," -কার উদ্দেশ্যে এই প্রণামী'? বা কীভাবে এই প্রণামী প্রদান করেছিলেন? 

 

উত্তর : বিরাগীর উদ্দেশ্যে প্রণামী দিতে চান জগদীশবাবু।

 

বিরাগীর ছদ্মবেশ নেওয়া হরিদার উপস্থিতি জগদীশবাবুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এক অলৌকিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে সমর্থ হওয়া বিরাগীর উদ্দেশ্যে ধনী ভক্ত জগদীশবাবু কিছু প্রণামী দিতে চান। বিরাগীর পায়ের কাছে একশাে এক টাকা রাখা থলেটি নিবেদন করে সেই প্রণামী গ্রহণ করার জন্য তিনি কাতর প্রার্থনা করেন।

 

প্ৰশ্ন।।.... তবে কিছুউপদেশ শুনিয়ে যান বিরাগীজি।” -বক্তার অনুরােধে বিরাগীজি কোন্ উপদেশ শুনিয়েছিলেন?

 

উত্তর : বিরাগীকে নিজের বাড়িতে অবস্থানের জন্য প্রার্থনা করেও ব্যর্থ হন জগদীশবাবু। তখন তিনি তাকে অনুরােধ করেন কিছু উপদেশ দিতে। বিরাগী তার আবির্ভাবেই এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন ধন জন যৌবন হলাে অনিত্য ও নিছক সুন্দর বনা। মােহ থেকে মুক্ত হয়ে নিবিষ্ট চিত্তে ঈশ্বরকে আপন করে ভাবতে হবে। ঈশ্বর প্রাপ্তির মধ্যে সমস্ত ঐশ্বর্য প্রাপ্তি হবে বলে বিরাগী উপদেশ দেন।

বহুরূপী গল্প ক্লাস টেন প্রশ্নোত্তর

প্রশ্নঃ।। “চমকেউঠলেন জগদীশবাবু।” – জগদীশবাবুর চমকে ওঠার কারণ আনুপূর্বিক বর্ণনা করাে।

 

উত্তর : বহুরূপী হরিদা ছােটো বহরের থান পরে ও ঊর্ধ্বাঙ্গে একটা সাদা উত্তরীয় জড়িয়ে মাথায় সাদা চুল নিয়ে জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন। ধূলিধূসরিত পা, হাতের ঝােলার মধ্যে থাকা গীতা বার করে কিছু দেখে নিজের মনে হাসেন। কোনাে রহস্যলােক থেকে যেন নেমে আসা হরিদার শীর্ণ শরীরের অদ্ভুত উদাত্ত শান্তি ও উজ্জ্বল দৃষ্টি দেখে জ্ঞানী ও প্রবীণ মানুষ জগদীশবাবু চমকে ওঠেন। তাঁর বাড়ির বারান্দার সিঁড়িতে দাঁড়ানাে বহুরুপী হরিদার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।

 

প্রশ্নঃ।। কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা।’-হরিদা কোন্ অদ্ভুত কথা বলেছিলেন? কথাটিকে অদ্ভুত বলার কারণ কী? 

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের বহুরুপী গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা যে অদ্ভুত কথাটি বলেছিলেন তা হলো সে এক জন বিরাগী হয়ে তিনি টাকা-ফাকা স্পর্শ করতে পারেন না, এতে তার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।

 

 কথাটিকে অদ্ভুত মনে করার কারণ হলাে, হরিদা বস্তুত কোনাে বিরাগী নন। তিনি একজন বহুরূপী। তিনি এতই দরিদ্র যে মাঝে মাঝেই তাকে উপােষ করতে হয়। জগদীশবাবুর দেওয়া টাকাটা নিলে তার অনেক সুবিধা হতাে এবং এতে তেমন কোনাে অপরাধও হতাে না। কিন্তু বিরাগীর সাজে তিনি হয়ে উঠলেন প্রকৃতই বিরাগী। অভাবের দংশনের চেয়ে বড়াে হয়ে উঠল তার ঢং, মর্যাদা রক্ষা। এই মানসিকতা মােটেই স্বাভাবিক নয়।

 

প্রশ্ন)  “এটা কী কাণ্ড করলেন, হরিদা?” -

কান্ডটা কি?

 

 উত্তর : জগদীশবাবুর বাড়িতে এক সন্ধ্যায় বিরাগীবেশী হরিদার উপস্থিতি অসাধারণ এক পরিমণ্ডল সৃষ্টি করে। বিরাগীর অলৌকিক উপস্থিতির পাশাপাশি উচ্চ দার্শনিক কথাবার্তায় প্রভাবিত হয়ে জগদীশবাবু তাঁকে একশাে এক টাকা প্রণামী হিসেবে দিতে চেয়েও ব্যর্থ হন। অনাদি তাকেই পাঁচশাে টাকা বলে অভিহিত করেন এবং হরিদা তা গ্রহণ না করায় বিস্মিত হয়ে ঘটনাটিকে ‘কী কাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন।

 

প্রশ্ন ) আপনি বিরাগী---  বক্তার দৃষ্টিতে কীভাবে প্রমাণিত হয় যে হরিদাই বিরাগী?

 

উত্তর : জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীবেশী হরিদা উপস্থিত হয়েছিলেন এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করে। তার পরিধেয় বস্ত্রের মধ্যে অন্যতম ছিল একটা সাদা উত্তরীয়। ধুলাে ভরতি পা ও হাতে রাখা ঝােলায় ছিল একটি গীতা। হরিদার ছােট্ট ঘরের মাদুরে সেই সাদা উত্তরীয় পাশাপাশি ঝােলা আর গীতা দেখে ভবতােষ নিঃসংশয়। হন যে হরিদা সত্যিই সন্ধ্যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগী সেজে উপস্থিত হয়েছিলেন।

 

প্রশ্ন ।।  হরিদা কি ভুল করেছিলেন যা অদৃষ্ট কখনো ক্ষমা করবে না

তার সম্পর্কে এমন মন্তব্যের কারণ কী?

 

উত্তর : বহুরূপী হরিদাকে বিরাগীর ছদ্মবেশে দেখে, তাকে যথার্থ বিরাগী ভেবে জগদীশবাবু একশাে এক টাকার যে প্রণামী দিয়েছিলেন। হরিদা তা নেননি, তার এই কাজকে ভুল বলা হয়েছে।

 

হরিদা একজন বহুরুপী। অত্যন্ত দরিদ্র। মাঝে মাঝেই অর্থাভাবে তাকে উপােষ করতে হয়। তাই অর্থলাভের কোনাে সুযােগ এলে অবশ্যই সে সুযােগ তার গ্রহণ করা উচিত। বিরাগী তার ছদ্মবেশমাত্র। তিনি প্রকৃত বিরাগী নন। বিরাগীর ভূমিকা রক্ষা করতে গিয়ে এতগুলি টাকা প্রত্যাখ্যান করা এক ক্ষমাহীন ভুল। এই ধরনের ভুলে অভ্যস্ত ব্যক্তির দারিদ্র্য কোনো দিন দূর হবে না। অদৃষ্ট প্রসন্ন হবে না কোনাে দিন।

বহুরূপী গল্প ক্লাস টেন প্রশ্নোত্তর

- প্রশ্ন ) “আপনার কাছে আমার তাে কিছু চাইবার দরকার হয় না।” –‘আপনারবলতে কাকে বােঝানাে হয়েছে? বক্তার উদ্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে কিছু চাইবার দরকার হয় না কেন? 

 

উত্তর : ‘আপনার’ বলতে ধনী ভক্ত জদীশবাবুকে বােঝানাে হয়েছে।

 

বিরাগী সংসারত্যাগী মােহমুক্ত এক মানুষ। ধন-দৌলত, লােভ-লালসা কোনাে কিছুই তাঁকে স্পর্শ করে না। ঈশ্বরের তৈরি এই বিশাল পৃথিবীকে আপন করে সংসার বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করেন। ঈশ্বরের পদাশ্রিত হওয়ায় কোনাে বিষয়ীর সাহায্য প্রয়ােজন হয় না। বিষয়ী জগদীশবাবুর কাছে তাই তার চাইবার কিছু প্রয়ােজন হয় না।

 

প্রশ্ন ) “আমি এক বিষয়ীর দালান বাড়ির ঘরে থাকব কেন, বলতে পারেন?” –‘আমি’ কে? বক্তা কেন বিষয়ীর দালান বাড়ির ঘরে থাকতে চান না? 

 

উত্তর : ‘আমি’ বলতে বিরাগীরূপী হরিদা।

 

বিরাগী সংসার ত্যাগ করে মােহমুক্ত হয়ে ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন। কোনাে পার্থিব লােভ-লালসা, কামনা-বাসনা তাকে গ্রাস করে না। ঈশ্বরের সৃষ্ট এই বিশাল জগৎকে নির্মোহভাবে গ্রহণ করেন। জগদীশবাবু বিরাগীকে তার বাড়িতে অবস্থানের অনুরােধ করলে বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা বলেন মুক্ত পৃথিবীর পরিবর্তে তার মতাে এক বিষয়ীর বাড়িতে তিনি অবস্থান করতে পারেন না।

 

প্রশ্ন ) “আপনি কী ভগবানের চেয়ে বড়াে ?”—কাকে এ কথা বলা হয়েছে? 

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগীর ছদ্মবেশধারী হরিদা জগদীশবাবুকে এ কথা বলেছিলেন। অর্থাৎ জগদীশবাবুকে এ কথা বলা হয়েছে।

 

 সাজে, ভূমিকায়, অভিনয়ে পুরােদস্তুর বিরাগীর বেশে হরিদাকে  দেখে জগদীশবাবু চমকে গিয়েছিলেন। বড়াে অপার্থিব এবং  রহস্যময় ছিল তার আবির্ভাব। কিংকর্তব্যবিমূঢ় জগদীশবাবু বারান্দায় দাঁড়িয়েই তাকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার এই আচরণকে ধৃষ্টতা  বলে গণ্য করেছেন বিরাগী। বারান্দা থেকে নেমে এসে সম্মান  জানানাে উচিত ছিল জগদীশবাবুর, কিন্তু তিনি ধনবান হওয়ার দম্ভে নেমে আসেননি।ধনের গর্বে তিনি এভাবে ভগবানকে তুচ্ছ করেছেন, তাই এই উক্তি।

 

প্ৰশ্ন।। ... ঠিক দুপুরবেলাতে একটি আতঙ্কের হল্লা বেজে উঠেছিল।” -কী কারণে আতঙ্কের হল্লা? যাকে কেন্দ্র করে আতঙ্কের হল্লা তার আচরণের পরিচয় দাও। 

 

উওর : বহুরূপী হরিদা একদিন শহরের চকের বাসস্ট্যান্ডে উন্মাদ সেজে বাসযাত্রীদের ভয় দেখালে আতঙ্কের হল্লার সৃষ্টি হয়।

 

একদিন চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে দুপুরবেলা হরিদা বদ্ধ উন্মাদ সেজে উপস্থিত হন। পাগলদের মতাে তার মুখ থেকে লালা ঝরতে থাকে, চোখ হয়েছে টকটকে লাল। একটা ছেড়া কম্বলকে কোমরে জড়িয়ে, গলায় টিনের কৌটোর মালা নিয়ে উন্মাদ সেজেহরিদা হাতে থান ইট নিয়ে বাসের যাত্রীদের ভয় দেখান।


দশম শ্রেণীর বাংলা বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর

 

প্রশ্ন।।  হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।'—হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যটা কী?

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষর ‘বহুরূপী’গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা।

 

কাজের একঘেয়েমি এবং সময়ের শাসন জানতে পারেন না বলে হরিদা কোনাে পেশায় নিযুক্ত হতে পারেননি। তাই অভাব তাঁর নিত্যসঙ্গী। মাঝে মাঝেই তিনি উপোেষও করেন। কিন্তু এতে তার বর্ণময় শিল্পী মনটির মৃত্যু ঘটে না। তিনি মাঝে মাঝেই বহুরূপীর সাজগ্রহণ করে পথে বেরিয়ে পড়েন। বিচিত্র সাজে মানুষকে অবাক করে দেন। তাঁর সাজ আর অভিনয় এত নিখুঁত যে তাঁকে কেউ চিনতে পারে না। তার সাজটাকেই সত্য ভেবে নানান হাস্যকর প্রতিক্রিয়া করে। এই শিল্পীমানুষ এই সময় তার দরিদ্র -জর্জর জীবন থেকে বেরিয়ে গিয়ে অন্য ভুবনে পৌঁছে যান।

 

প্রশ্ন ।। “ওটা কি একটা বহুরূপী?”-বক্তার পরিচয় দাও। বক্তার এমন উক্তির কারণ কী? 

 

উত্তর : সুবােধ ঘােযের ‘বহুরূপী’গল্প থেকে গৃহীত এই অংশটির বক্তা বাসের জনৈক যাত্রী।

 

হরিদা একদিন বদ্ধ উন্মাদ সেজে চকের বাসস্ট্যান্ডে উপস্থিত হন। তাঁর মুখ থেকে গড়িয়ে পড়তে থাকে লালা, চোখ হয় টকটকে লাল। কোমরে ভেঁড়া কম্বল ও গলায় টিনের কৌটোর মালা জড়িয়ে হাতে থান ইট নিয়ে তিনি বাসযাত্রীদের ভয় দেখান। বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ বহুরূপী হরিদাকে চিনতে পেরে অন্যদিকে যাওয়ার কথা বললে জনৈক বাসযাত্রী বিস্মিত হয়ে কথাগুলো বলেন।

 

প্রশ্নঃ।। ‘সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।”—দুর্লভ জিনিসটি কী? কে, কীভাবে তা সংগ্রহ করেছিলেন? 

 

উত্তর : শহরের ধনবান জগদীশবাবুর বাড়িতে হিমালয়ের গুহা থেকে যে উঁচুদরের সন্ন্যাসী এসেছিলেন, তাঁর পদধূলি অত্যন্ত দুর্লভ জিনিস।

 

সন্ন্যাসী তাঁর পদধূলি যাকে তাকে দেন না। এমনকী জগদীশবাবুও সাতদিন ধরে তার সেবাযত্ন করে সহজে পদধূলি পাননি। বেশ কায়দা করেই তিনি পদধূলি নিয়েছেন। একজোড়া কাঠের খড়মে সােনার বােল লাগিয়ে তিনি সন্ন্যাসীর পায়ের কাছে ধরেন। মহার্ঘ এই খড়ম জোড়া দেখে সন্ন্যাসী পা বাড়িয়ে দিতে বাধ্য হন। তাকে  খড়ম পরানাের ছলে তার দুর্লভ পদধূলি সংগ্রহ করেন জগদীশবাবু। 

 

প্রশ্নঃ।। “অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন।”—কেচুপ করে রইলেন? কে চুপ করে রইলেন? 

 

জব : অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন হরিদা।

 

শহরের সবচেয়ে সরু গলির মধ্যে ছােট্ট ঘরে থাকা দরিদ্র হরিদা কথকদের মুখে জগদীশবাবুর বাড়িতে অবস্থানকারী সন্ন্যাসীর বৃত্তান্ত শনে চুপ করে রইলেন। সােনার বােল লাগানাে খড়ম আর একশাে টাকার নােট পাওয়া মাত্র সন্ন্যাসী তা গ্রহণ করে চলে যান। সন্ন্যাসীর এই লােভী মানসিকতা ও ধনী ভক্ত জগদীশবাবুর পুণ্য কেনার এই প্রয়াসের কথা ভেবে হরিদা চুপ করে রইলেন। 

 

প্রশ্ন ।। ‘বাঃ এতাে বেশ মজার ব্যাপার।'—কোন্ ঘটনাকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে? ঘটনাটিকে মজার ব্যাপার বলা হয়েছে কেন? 

 

উত্তর : জগদীশবাবু একজোড়া কাঠের খড়মে সােনার বােল লাগিয়ে সন্ন্যাসীকে পরিয়ে দেওয়ার সুযােগে তার দুর্লভ পায়ের ধুলাে সংগ্রহ করেছিলেন। এই ঘটনাটিকে মজার ব্যাপার বলেছেন হরিদা।

 

জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসী বস্তুত জগদীশবাবুর সাধু-সন্ন্যাসীতে অন্ধ ভক্তির সুযােগ নিয়েছেন। সারা বছরে শুধুমাত্র একটি হরীতকী খেয়ে বেঁচে থাকা, হাজার বছরের পরমায়ু সন্ন্যাসীর পদধূলি নিতে তিনি এত ব্যাকুল। ভণ্ড সন্ন্যাসীটি কাউকে এসব কিছুই সত্য নয়। কিন্তু জগদীশবাবু এসব বিশ্বাস করেন, তাই পদধূলি দেন না। অথচ সােনার বােল লাগানাে কাঠের খড়ম দেখে তিনি পা এগিয়ে দেন। তাই হরিদার কাণ্ডে ঘটনাটি বেশ মজার বলে মনে হয়েছে।

 

প্রশ্ন।। “কিন্তু এই ধরনের কাজ হরিদার জীবনের পছন্দই নয়।”—কোন্ ধরনের কাজ? তেমন কাজ কেন হরিদার ” পছন্দ নয়? 

 

উত্তর : দরিদ্র হরিদা গতানুগতিক ধরাবাঁধা কাজে অভ্যস্ত নন। তাই কোনাে অফিসের কাজ কিংবা কোনাে দোকানের বিক্রিওয়ালার কাজ হরিদার পছন্দ নয়। :

 

বহুরূপীর খেলা দেখানাে হরিদা খেয়ালি মানুষ। প্রবল দারিদ্রও মানুষটির মনােভঙ্গির কোনাে পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। নিয়ম বেঁধে ঘড়ির কাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করা হরিদার পক্ষে সম্ভব নয়। মুক্ত জীবনে বিশ্বাসী হরিদা তাই ছকে বাঁধা চাকরির নিয়মনীতিতে নিজেকে যুক্ত রাখতে পারেন না। ।

 

প্রশ্ন )  “তাতেই তঁার ভাতের হাঁড়ির দাবি মিটিয়ে দিতে চেষ্টা করেন।”—তাতেই' বলতে কী বােঝানাে হয়েছে? বক্তা কীভাবে ভাতের হাঁড়ির দাবি মেটানাের চেষ্টা করেন? 

 

উত্তর : প্রখ্যাত কথাশিল্পী সুবােধ ঘােষের বহুরূপী' গল্পে ‘তাতেই’ বলতে বহুরূপী সেজে হরিদার রােজগারের কথা বলা হয়েছে।

 

বহুরুপী হরিদাসকাল কিংবা সন্ধ্যায় বিচিত্র ছদ্মবেশে অপরূপ হয়ে পথে বের হন। কেউ চিনতে পেরে বা এক আনা-দু-আনা বকশিশ দেয়। চিনতে না পেরে বিরক্ত হয়ে কেউ বা দুটো-একটা পয়সা দেয়। একবার চকের বাসস্ট্যান্ডে উন্মত্ত পাগলের নিখুঁত অভিনয় করে যাত্রীদের ভয় পাইয়ে দিয়ে সামান্য উপার্জন করেছিলেন। কখনও বা রূপসি বাইজি সেজে মানুষকে মােহিত করে নিজের রােজগারের পথ করেন। এভাবে ভাতের হাঁড়ির দাবি হরিদা মেটান।

 

বহুরূপী গল্পের ছোট প্ৰশ্ন উত্তর

 

প্রশ্নঃ।।  হঠাৎ জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাবার জন্য হরিদার উৎসাহ কেন জেগে উঠেছিল?

 

উত্তর : দরিদ্র হরিদা বহুরুপী সেজে মােটা অর্থ আদায়ের জন্য জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখাতে উৎসাহী হন।

 

প্রশ্নঃ।। সপ্তাহে ক-দিন বহুরুপী সেজে পথে বের হন হরিদা?

 

উত্তর : সপ্তাহে খুব বেশি হলে একদিন বহুরূপী সেজে পথে বের হন হরিদা।

 

প্রশ্ন ) “চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।”—চমকে উঠে জগদীশবাবু কী করলেন?

 

উত্তর : বারন্দার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে চমকে ওঠা জগদীশবাবুর দুই চোখ বিস্ময়ে অপলক হয়ে যায়।

 

প্রশ্ন ) জগদীশবাবুর ‘মহারাজ' সম্বােধনের প্রত্যুত্তরে আগন্তুক কী বলেছিলেন?

 

উত্তর : জগদীশবাবুর ‘মহারাজ’ সম্বােধনের প্রত্যুত্তরে আগন্তুক বলেছিলেন তিনি মহারাজ নন, বরং সৃষ্টির মধ্যে সামান্য ধূলিকণা।

 

প্রশ্ন ) অনাদি বিরাগীকে হরিদা বলে ভাবতে পারল কেন?

 

উত্তর : বিরাগীর মুখে জ্ঞানদীপ্ত ভাষা শুনে অনাদি তাকে হরিদার মতাে সাধারণ মানুষ ভাবতে পারেন না।

 

প্রশ্ন ) বিরাগী ‘পরম সুখ’ বলতে কী বােঝেন?

 

উত্তর : সংসারের সমস্ত মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়াকেবিরাগী পরম সুখ বলে জানেন।

 

প্রশ্ন ) ভবতােষ বিরাগীকেহরিদা ভাবেন না কেন?

 

উত্তর : বিরাগীর অসাধারণ জ্ঞানদীপ্ত কণ্ঠস্বর শুনে ভবতােষ তাকে কখনােই হরিদার মতাে সাধারণ স্তরের মানুষ ভাবেন না।

 

প্রশ্ন ।। জগদীশবাবু সিঁড়ির ওপর বসে পড়েছিলেন

 

উত্তর : জ্ঞানদীপ্ত বিরাগীর পদপ করার জন্য আকুল । জগদীশবাবু সিঁড়ির ওপর বসে পড়েছিলেন।

 

প্রশ্নঃ ।। জগদীশবাবুর কাছে বিরাগীর কিছু চাইবার দরকার হয় না কেন?

 

উত্তর : বিরাগী ঈশ্বরের পদতলে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জগদীশবাবুর মতাে বিষয়ীর কাছে তার কিছু চাইবার নেই।

 

প্রশ্ন ।। জগদীশবাবু বিরাগীকে প্রণামী হিসেবে কী দিয়েছিলেন?

 

উত্তর : জগদীশবাবু তাঁর বাড়িতে আসা বিরাগীকে প্রণামী হিসেবে একশাে এক টাকা দিয়েছিলেন।

 

প্রশ্ন ।। কে নিজেকে খাটি মানুষ নয় বলে মনে করেন?

 

উত্তর : বহুরূপীর সাজ পরা হরিদা নিজেকে খাঁটি মানুষ নয় বলে মনে করেন।

 

প্রশ্ন ।। ‘অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না'। -হরিদার কোন ভুলের কথা এখানে বলা হয়েছে? --

 

উত্তর : বহুরূপী সাজা হরিদা বিরাগী চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করতে গিয়ে জগদীশবাবুর প্রদত্ত অর্থ প্রত্যাখ্যান করে যে ভুল করেছিলেন এখানে তার কথা বলা হয়েছে।

 

প্রশ্ন) “হরিদার জীবন এইরকম বহু রূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাছে।”—কী রকম খেলা দেখিয়ে হরিদার জীবন চলে যাচ্ছে? 

 

উত্তর : সুসাহিত্যিক সুবােধ ঘােষের লেখা বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদার পেশা হলাে বহু রূপের খেলা দেখানাে। তিনি কখনও বাউল, কাপালিক আবার কোনাে কোনােদিন কাবুলিওয়ালা, কখনওবা ফিরিঙ্গি সাজতেন, কখনও আবার পুলিশ বালকদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলেছেন। 

 

প্রশ্ন ।। “সপ্তাহে বড়ােজোর একটা দিন বহুরূপী সেজে পথে বের হন হরিদা”–‘বহুরূপী’ কাকে বলে?

 

উওর : বহুরুপী’ শব্দটির অর্থ হলাে নানা রুপ বা মূর্তি ধারণকারী। অর্থাৎ নানা ছদ্মবেশ ধারণ করে এরা মানুষের মনােরঞ্জন করে এবং জীবিকা নির্বাহ করে।

 

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর মাধ্যমিক

 

প্রশ্ন ) ‘ইচ্ছেই হলাে না।'-কার, কী ইচ্ছে হলাে না? 

 

উত্তর 

: হরিদা বহুরূপী, বিরাগী ছদ্মবেশে অভিনয় করতে গিয়ে মনে-প্রাণে বিরাগী হয়ে উঠেছিলেন, তাই জগদীশবাবুর দেওয়াটাকা নেওয়ার হচ্ছেই হয়নি তার।

 

প্রশ্নঃ।।) 'তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।'—চং নষ্ট হয়ে যায় কেন?

 

উত্তর : বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা জগদীশবাবুর দেওয়া টাকা গ্রহণ করেননি। কারণ টাকা নিলে সর্বত্যাগী বিরাগীর চরিত্র ক্ষুন্ন হয়, অর্থাৎ তার সাজের ছন্দ কেটে যায়।

 

প্রশ্ন ) হরিদা কোন্ ঘটনাকে ‘মজার ব্যাপার বলে উল্লেখ করেছেন?

 

উত্তর : জগদীশবাবুর দেওয়া সােনার খড়মে সন্ন্যাসীর পা রাখা ও জগদীশবাবুর ভক্তিভরে সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলাে নেওয়াকে হরিদা ‘মজার ব্যাপার বলেছেন।

 

প্রশ্ন ।। কী অদ্ভুত কথা বললেন হরিদা।’-অদ্ভুত কথাটি কী? 

 

উত্তর : অদ্ভূতকথাটিহলােএকজনবিরাগীরসন্ন্যাসীর বেশেতিনি টাকা ফাকা স্পর্শ করতে পারেন না। এতে তার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।

 

প্রশ্ন ।। ‘যাবই তাে।’-বক্তা কেন যাবেন?

 

উত্তর : বক্তা অর্থাৎ, বহুরূপী’ গল্পের হরিদা জগদীশবাবুকে সাজ দেখিয়ে অবাক করে দিয়েছেন, তাকে প্রকৃতই বিরাগী ভেবেছিলেন তিনি। তাই যাবেন বকশিশ আনতে।

 

প্রশ্নঃ।। ‘এর বেশি কী আশা করতে পারে?’—কেন আশা করতে পারে না?

 

উত্তর : ব্যক্তিজীবনেসামান্যবহুরূপী,আর্থিক এবংসামাজিকভাবে খুবই সাধারণ মানুষ তাই সামান্য বকশিশটুকু ছাড়া বেশি কিছু তিনি আশা করতে পারেন না।

 

প্রশ্ন ।। হরিদার পক্ষে কোন্ ধরনের কাজ করা সম্ভব নয়?

 

উত্তর : ঘড়ির কাটার সঙ্গে তাল দিয়ে ও নিয়ম করে প্রতিদিন একই কাজ করা হরিদার পক্ষে সম্ভব নয়।

 

প্রশ্নঃ।।  ‘বিশ্বাস করতে পারছি না’—কে, কী বিশ্বাস রতে পারছিলেন না?

 

উত্তর : বিরগীরছদ্মবেশেজগদীশবাবুরবাড়িতেউপস্থিতব্যক্তিটি যে স্বয়ং হরিদা, এই বিষয়টি কথক বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।

 

প্রশ্ন ) সন্ন্যাসী চলে যাওয়াতে হরিদা কেন আক্ষেপ

 

উঃ : সন্ন্যসী চলে যাওয়ায় হরিদা আক্ষেপ করেন কারণ তিনি। পায়ের ধুলাে নেওয়ার সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।


প্রশ্ন।। হরিদার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন?

 

উত্তর : শহরের সরু গলির মধ্যে ছােট্ট ঘরে থাকা হরিদার অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল খুব খারাপ।

 

প্রশ্নঃ।। হরিদার জীবনের পেশা কী? 

 

উত্তর : হরিদা যে বহুরূপীর কাজ করেন সেটাই তার জীবনের পেশা।

 

প্রশ্ন ।। বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা মােট কত টাকা রােজগার করেছিলেন?

 

উত্তর :বহুরূপী হরিদা বাইজি সেজে শহরের পথে বেরিয়ে মােট আট টাকা দশ আনা রােজগার করেছিলেন।

 

প্রশ্ন ।। হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন?

 

উত্তর : হরিদা পুলিশের ছদ্মবেশে দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতর দাঁড়িয়েছিলেন।

 

প্রশ্ন।। হরিদা পুলিশ সেজে কাদের ধরেছিলেন?

 

উত্তর : পুলিশ সেজে বহুরূপী হরিদা দয়ালবাবুর লিচু বাগানের ভিতর স্কুলের চারটি ছেলেকে ধরেছিলেন।

 

প্রশ্ন ।।  স্কুলের মাস্টারমশাই স্কুলের ছাত্রদের ছাড়ানাের জন্য কাকে কত ঘুষ দিয়েছিলেন?

 

উত্তর : মাস্টারমশাই স্কুলের ছাত্রদের ছাড়ানাের জন্য নকল পুলিশ হরিদাকে আট আনা ঘুষ দিয়েছিলেন।

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর mcq

প্রশ্ন ) আমার অপরাধ হয়েছে।’-বক্তা কী অপরাধ করেছেন?

 

উওর : বিরাগীকে দেখে সিড়ি বেয়ে নেমে এসে আহ্বান জানানাের কথা ভুলে গিয়েছিলেন জগদীশবাবু। তিনি দূরে দাঁড়িয়ে আহ্বান জানিয়েছিলেন, এটাই অপরাধ।

 

প্রশ্ন ) “সেটা পূর্বজন্মের কথা।–পূর্বজন্মের কথাটি কী?

 

উত্তর : বিরাগীর রাগ নামে কোনাে রিপু নেই। এক সময়, যখন তিনি বিরাগী হয়ে ওঠেননি তখন রাগ ছিল, এটাই পূর্বজন্মের কথা।

 

প্রশ্ন ।। ‘হতেই পারে না।'—কী হতে পারে না?

 

উত্তর : বিরাগীর বেশে যে ব্যক্তি জগদীশবাবুর বাড়িতে এসেছেন, তিনি যে ছদ্মবেশী হরিদা, এটা হতেই পারে না বলে মনে হয় ভবতােষের।

 

প্রশ্নঃ।। ‘এটা আমার প্রাণের অনুরােধ।'—প্রাণের অনুরােধটা কী?

 

উত্তর : উদ্ধৃতাংশটির বক্তা জগদীশবাবুর প্রাণের অনুরােধটি ২ হলাে, বিরাগী যেন তাঁর গৃহে কয়েকটা দিন থেকে যান।

 

প্রশ্ন ।। ‘এই যথেষ্ট।”—কী যথেষ্ট?

 

উত্তর : বিরাগীকে দেখে জগদীশবাবু আবেগাপ্লুত হয়ে সেবা দিতে চাইলে বিরাগী এক গ্লাস ঠান্ডা জল চেয়ে নিয়ে পান করেন। সেবা হিসেবে এটুকুই যথেষ্ট।

 

প্রশ্ন ।। ‘আপনার এখানে আমার পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। বক্তার পক্ষে থাকা সম্ভব নয় কেন?

 

উত্তর : বক্তা বিরাগী। তার জন্য বাইরের খােলা আকাশ আর পৃথিবীর মাটি আছে তাই জগদীশবাবুর আশ্রয়ে তার পক্ষে থাকা সম্ভব নয়।

 

প্রশ্ন।। নইলে আমি শান্তি পাব না।'—কীসে বক্তা শান্তি  পাবেন?

 

উত্তর : জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে কিছু উপদেশ শুনতে চান। এই উপদেশ শুনতে পেলে তিনি শান্তি পাবেন।

 

প্রশ্ন) বিরাগীবেশী হরিদা জগদীশবাবুকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন?

 

 

- উত্তর : বিরাগীবেশী হরিদা উপদেশ হিসেবে বলেন ধন-জনযৌবন হলাে এক-একটি বঞ্চনা। মন-প্রাণের সব আকাঙ্ক্ষা নিয়ে শুধু একজনের (ঈশ্বরের) আপন হওয়ার চেষ্টা করুন।

 

প্রশ্ন)  বিরাগী পরম সুখ বলতে কী বুঝিয়েছেন?

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্পে বিরাগী জগদীশবাবুকে পরম সুখ বলতে সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন।

 

প্রশ্ন)  ‘এই টাকা আমি দিলাম।’-বক্তা কেন টাকা দিয়েছিলেন?

 

উত্তর : বিরাগীকে দেখে আবেগাপ্লুত জগদীশবাবু তাকে তীর্থভ্রমণের টাকা দিয়ে পুণ্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন।

 

প্রশ্ন) ‘সেদিকে ভুলেও তাকালেন না। কোন্ দিকে তাকালেন না?

 

উওর: অর্থ সম্পদের মােহমুক্ত বিরাগীবেশী হরিদাজগদীশবাবুর দেওয়া একশাে একটাকা সিঁড়িতে পড়ে থাকলেও সেদিকে একবারও তাকালেন না।

 

প্রশ্ন ।। ‘চমকে ওঠে ভবতােষ।'—ভবতােষ কেন চমকে ওঠে?

 

উত্তর : জগদীশবাবুর বাড়িতে যে বিরাগীকে দেখেছিলেন তিনি আসলে যে তাদের পরিচিত হরিদা, এটা যখন ভবতােষ বুঝতে পারেন বিরাগীর সাজগুলি পড়ে থাকতে দেখে তখন চমকে  ওঠেন।

 

প্রশ্ন ।। ‘আপনিই বিরাগী?'—বক্তা কে?

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের ‘বহুরূপী’ গল্প থেকে উদ্ধৃত এই অংশ। বক্তা হলেন গল্পকথকের বন্ধু ভবতােষ।

 

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর দশম শ্রেণি বাংলা

 

প্রশ্নঃ।। ‘আমাদের দেখিয়ে আপনার লাভ কী হরিদা। —লাভ নেই কেন?

 

উত্তর : বহুরূপীর খেলা দেখিয়েহরিদাসামান্যকিছুহলেও বকশিশ পান কিন্তু গল্পকথক ও তার বন্ধুদের খেলা দেখিয়ে একটা সমাবেশে সিগারেট মাত্র পেতে পারেন, কাজেই বিশেষ কোনাে লাভ নেই।

 

প্রশ্নঃ।। জগদীশবাবুর বাড়িতে খেলা দেখানাের জন্য হরিদার উৎসাহের কারণ কী?

 

উত্তর : ধনবান জগদীশবাবুর অন্ধ ভক্তিবশত সাধু-সন্ন্যাসীদের মুক্ত হস্তে দান করেন। তার এই মানসিকতাকে কাজে লাগিয়ে মােটা কিছু কমিয়ে নেওয়ার জন্য হরিদার খেলা দেখানাের উৎসাহ।

 

প্রশ্ন ।। ‘মােটা মতন কিছু আদায় করে নেব। কীভাবে আদায় করবেন? বক্তা

 

উত্তর : বক্তা হরিদা সাধু-সন্ন্যাসীতে জগদীশবাবুর অন্ধভক্তির কথা শুনে স্বয়ং সেই ধরনের ছদ্মবেশ ধারণ করে মােটা টাকা আদায় করে নেবেন বলে ভেবেছিলেন।

 

প্রশ্ন ।। ‘পেট চালাবার মতাে রােজগার হয় না।'—কার, কেন রােজগার হয় না?

 

উত্তর : সপ্তাহে বড়ােজোর একটা দিন বহুরূপী সেজে হরিদা যে সামান্য টাকা উপার্জন করেন তাতে তাঁর সাতদিনের পেট চালানাের মতাে রােজগার হয় না।

 

প্রশ্ন ।। ‘সেদিন হরিদার রােজগার মন্দ হয়নি।' কোন্ দিনের কথা বলা হয়েছে?

 

উত্তর : যেদিন সন্ধ্যাবেলা রূপসি বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা শহরের পথে বেরিয়েছিলেন সেদিনের কথা বলা হয়েছে।

 

প্রঃ) ‘বহুরুপী’ গল্পের হরিদা কী কী ছদ্মবেশ ধারণ করতেন?

 

উত্তর : সুবােধ ঘােষের ‘বহুরুপী’ গল্পের হরিদা পাগল, বাইজি, পুলিশ, বাউল, কাপালিক, কাবুলিওয়ালা, ফিরিঙ্গি কেরামিন সাহেব ইত্যাদি নানান ছদ্মবেশ ধারণ করতেন। :

 

প্রশ্ন ) এবার মারি তাে হাতি, লুঠি তাে ভাণ্ডার’- বক্তা কেন এ কথা বলেছেন?

 

উত্তর : জগদীশবাবুর সাধু-সন্ন্যাসীতে অন্ধ-ভক্তির সুযােগ নিয়ে ছদ্দবেশী মোটা টাকা কামিয়ে নেওয়ার ছক কষে ছিলেন হরিদা তাই একথা বলেছেন।

 

প্রশ্ন  ‘চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।”—জগদীশবাবু কেন চমকে উঠলেন?

 

উত্তর : সাজে, শরীরে এবং মনে এমন নিখুঁতভাবে বিরাগীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন হরিদা যে তাঁকে মােটেই চেনা যাচ্ছিল না। বারান্দার সিঁড়ির কাছে হঠাৎ তাঁকে দেখে জগদীশবাবু চমকে ওঠেন।

 

প্রশ্ন> ‘দুই বিস্মিত চোখ অপলক হয়ে গেল।’-কার, কেন এই অবস্থা হলাে?

 

উত্তর : সাজে, শরীরে এবং মনে এমন নিখুঁতভাবে বিরাগীর ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন হরিদা যে তাকে এই জগৎসীমার বাইরের মানুষ বলে মনে হচ্ছিল, তাই তাঁকে দেখে জগদীশবাবুর এই অবস্থা হয়েছিল।

 

প্রশ্ন)  ‘আমরাও চমকে উঠেছি বই কি।’-কারা, কেন চমকে উঠেছিল?

 

উত্তর : বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা এমন নিখুঁত ছিলেন যে গল্পকথক ও তার বন্ধুরাও তাদের পরিচিত মানুষটিকে চিনতে পারেন নি। তাকে প্রকৃত বিরাগী ভেবে চমকে উঠেছেন।

 

প্রশ্ন ) ও চেহারা কী সত্যিই কোনাে বস্তুরূপীর হতে পার?'—এই সংশয়ের কারণ লেখাে।

 

উত্তর : বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা তার আদুড় গায়ে সাদা ধবধবে উত্তরীয় জড়িয়ে নিয়েছিলেন। পরনে ছিল ছােটো বহরের একটি থান, ধুনাে মাখা হাত-পা, ফুরফুর করে উড়ছে শুকনাে চুল, একেবারে পুরােদস্তুর বিরাগী, কোনাে বহুরূপী নয়।


বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর mcq দশম শ্রেণী বাংলা 


বহুরূপী mcq: পার্ট ওয়ান

১ সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো

১.১ জগদীশবাবুর বাড়িতে এসে এক সন্ন্যাসী ছিলেন— (ক) পাঁচ দিন (খ) ছয় দিন (গ) সাত দিন (ঘ) আট দিন

১.২ জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসী থাকতেন— (ক) হিমালয়ের গুহায় (গ) অমরনাথে (খ) কুমায়ুন পর্বতে (ঘ) কাশীতে

১.৩> জগদীশবাবু সন্ন্যাসীকে দেওয়া কাঠের খড়মে লাগিয়েছিলেন—

(ক) রুপোর বোল

(খ) তামার বোল

(গ) সোনার বোল

(ঘ) হিরের বোল

১.৪) সন্ন্যাসীকে বিদায় দেওয়ার সময় জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর ঝোলার ভিতর ফেলে দিয়েছিলেন

ক) হাজার টাকার একটি নোট
(খ) পাঁচশো টাকার দুটি নোট (গ) একশো টাকার দুটি নোট (ঘ) একশো টাকার একটি নোট

১.৫ হরিদার জীবনের ঘর অবস্থিত(ক) ফুটপাথের ধারে
(খ) ময়দানের পাশে (গ) প্রকৃতিঘেরা পল্লিগ্রামে (ঘ) শহরের সবচেয়ে সরু এই গলিটার ভিতরে

১.৬) “আমরাই নিয়ে আসি”—আমরাই কী নিয়ে আসি?

(ক) চা, চিনি ও বিস্কুট

(গ) চা, দুধ ও বিস্কুট

(খ) চা, চিনি ও দুধ (ঘ) চিনি, দুধ ও বিস্কুট

১.৭) ইচ্ছে করলেই হরিদা পেয়ে যেতে পারেন— (ক) কোনো অফিসে বা দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ (খ) কোনো অফিসে বা যাত্রাদলে অভিনয়ের কাজ (গ) কোনো নাটকের দলে অভিনয়ের কাজ (ঘ) কোনো হোটেলে রান্নার কাজ

১.৮ হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময়
(ক) ভাত পুড়ে যায় (খ) শুধু জল ফোটে, চা হয় না (গ) শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না (ঘ) চা উতলে যায়

১.৯ হরিদার জীবনের পেশা হলো
(ক) মাঝে মাঝে বহুরূপী সাজা (খ) নাটকে অভিনয় করা (গ) হোটেলে রাঁধুনির কাজ করা
(ঘ) বাড়িতে অলস সময় কাটানো

১.১০> হরিদা তাঁর ভাতের হাঁড়ির দাবি মেটানোর চেষ্টা করেন—
(ক) নাটকের দলে অভিনয় করে রোজগারের মাধ্যমে (খ) হোটেলে রান্না করে রোজগারের মাধ্যমে (গ) অফিসে কাজ করে রোজগারের মাধ্যমে
(ঘ) মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে রোজগারের মাধ্যমে

১.১১) একদিন দুপুরবেলাতে একটা আতঙ্কের হল্লা বেড়ে উঠেছিল—

(ক) চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে

(খ) হরিদার বাড়ির সবচেয়ে সরু গলিটার মোড়ে

(গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে

(ঘ) বাজারে মোড়ের মাথায়

১.১২) “খুব হয়েছে হরি,

(ক) ভবতোষ

(খ) জগদীশবাবু

(গ) সন্ন্যাসী

(ঘ) বাস ড্রাইভার কাশীনাথ

বহুরূপী গল্পের প্রশ্ন উত্তর
বহুরূপী গল্প ক্লাস টেন প্রশ্নোত্তর

১.১৩> “অ্যা, ওটা কি একটা বহুরূপী’’—উক্তিটির বক্তা-
(ক) জগদীশবাবুর স্ত্রী (গ) বিরাগী (খ্র) বাসের যাত্রীরা (ঘ) অনাদি

● উত্তর

১.১ (গ) সাত দিন। ১.২ (ক) হিমালয়ের গুহায়। ১.৩ (গ) সোনার বোল। ১.৪। (ঘ) একশো টাকার একটি নোট। ১.৫ (ঘ) শহরের সবচেয়ে সরু এই গলিটার ভিতরে। ১.৬ (খ) চা, চিনি ও দুধ। ১.৭ (ক) কোনো অফিসে বা দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ। ১.৮ (গ) শুধু জল ফোটে, ভাত ফোটে না। ১.৯ (ক) মাঝে মাঝে বহুরূপী সাজা। ১.১০ (ঘ) মাঝে মাঝে বহুরূপী সেজে রোজগারের মাধ্যমে। ১.১১ (ক) চকের বাসস্ট্যান্ডের কাছে। ১.১২ (ঘ) বাস ড্রাইভার কাশীনাথ। ১.১৩ (খ) বাসের যাত্রীরা ।

পার্ট টু

১.১৪ “সত্যিই, খুব চমৎকার পাগল সাজতে পেরেছে লোকটা।' -লোকটা হলো

(ক) বাস ড্রাইভার কাশীনাথ (খ) বিরাগী (স) হরিদা (ঘ) গল্পকথক

১.১৫ হরিদার জীবন একরকম চলে যাচ্ছে
(ক) বহুরূপীর খেলা দেখিয়ে

(খ) জগদীশবাবুর বাড়িতে কাজ করে (গ) অফিসে কাজ করে

(ঘ) দোকানে বিক্রিওয়ালার কাজ করে

১.১৬ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদা রোজগার করেছিল

ক) আট টাকা ছ-আনা

(খ) সাত টাকা দশ আনা

(গ) আট টাকা দশ আনা

(ঘ) আট টাকা সাত আনা

১.১৭ জগদীশবাবু বেশ ধনী মানুষ হলেও

(ক) বেশ উদার প্রকৃতির মানুষ (খ) বেশ কৃপণ মানুষ

(গ) বেশ দানশীল মানুষ

(ঘ) বেশ পরোপকারী মানুষ

১.১৮ হরিদার সন্ন্যাসী কিংবা বিরাগী সাজে খুশি হয়ে জগদীশবাবু বকশিশ দিতে পারেন

(ক) চার আনা খ) ছয় আনা গ) পাঁচ আনা ঘ) তিন আনা

১.১৯> আগন্তুকের কোনো রাগ নামে রিপু নেই, কারণ—
(ক) তিনি অহিংসবাদী (খ) তিনি বিরাগী (গ) তিনি ক্রোধ হরণের বর লাভ করেছেন (ঘ) তিনিই স্বয়ং ঈশ্বর

১.২০> বিরাগীর মতে পরম সুখ হলো—

(ক) প্রভূত পার্থিব সম্পদের অধিকারী হওয়া (খ) ভোগবিলাসে জীবনযাপন করা (গ) অপরকে বঞ্চিত করে আরও সম্পদশালী হয়ে ওঠা সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া

১.২১ বিরাগীর কাছে জগদীশবাবুর প্রাণের অনুরোধ
(ক) তাঁকে যেন বিরাগীজি আর যন্ত্রণা না দেন খ) তাঁর সেখানে বিরাগীজি যেন কয়েকটা দিন থাকেন (গ) বিরাগীজি যেন তাঁর বাড়ি থেকে তৎক্ষণাৎ চলে যান (ঘ) বিরাগীজি যেন চাঁদওয়ালাদের ভালোরকম শাস্তি প্রদান করেন।

১.২২ বিরাগীর জগদীশবাবুর কাছে কিছু চাইবার দরকার হয় না কারণ
ক)বিরাগী অগাধ সম্পত্তির অধিকারী
(খ) বিরাগী অন্য ভক্তদের নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রণামী পান

(গ) বিরাগী নির্লোভ

(ঘ) বিরাগী যাঁর কাছে পড়ে আছেন তিনি জগদীশবাবুর চেয়ে কম নন

১.২৩) জগদীশবাবু বিরাগীকে প্রণামী হিসেবে প্রদান করেছিলেন—

ক) একশো এক টাকা

(খ) দুশো এক টাকা

(গ) তিনশো এক টাকা (ঘ) পাঁচশো এক টাকা

১.২৪ জগদীশবাবু বিরাগীকে প্রণামী প্রদান করেছিলেন—

ক) বিরাগীর গ্রাসাচ্ছাদনের জন্য

(খ) বিরাগীর তীর্থভ্রমণের জন্য

(গ) বিরাগীর শিষ্যদের ভরণপোষণের জন্য

(ঘ) বিরাগীর মন জয় করার জন্য

১.২৫ হরিদা বিরাগী সন্ন্যাসী হয়ে টাকা-ফাকা স্পর্শ করতে পারেন না, কারণ

ক) তাহলে গুরু অসন্তুষ্ট হবেন (খ) সন্ন্যাসীর অপমান হয়

(গ) তাতে তার ঢং নষ্ট হয়ে যায়

(ঘ) হরিদার টাকার প্রয়োজন নেই

১.২৬ গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন—

(ক) জগদীশবাবু (গ) সন্ন্যাসী (খ) হরিদা (ঘ) সাহিল

১.২৭ ‘বহুরূপী’ গল্পটির লেখক হলেন—

(ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (গ) সুবোধ ঘোষ (খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘ) রাজশেখর বসু।

• উত্তর

১.১৪ (গ) হরিদা। ১.১৫ (ক) বহুরূপীর খেলা দেখিয়ে। ১.১৬ (গ) আট টাকা দশ আনা। ১.১৭ (খ) বেশ কৃপণ মানুষ । ১.১৮ (গ) পাঁচ আনা। ১.১৯ (খ) তিনি বিরাগী। ১.২০ (ঘ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া। ১.২১ (খ) তাঁর সেখানে বিরাগীজি যেন কয়েকটা দিন থাকেন। ১.২২ (ঘ) বিরাগী যাঁর কাছে পড়ে আছেন তিনি জগদীশবাবুর চেয়ে কম নন। ১.২৩ (ক) একশো এক টাকা। ১.২৪ (খ) বিরাগীর তীর্থভ্রমণের জন্য। ১.২৫ (গ) তাতে তার ঢং নষ্ট হয়ে যায়। ১.২৬ (খ) হরিদা। ১.২৭ (গ) সুবোধ ঘোষ।

পার্ট থ্রী

১.২৮ অনেক ধোঁয়া উড়িয়ে নিয়ে এইবার আমাদের কথার জবাব দিলেন

(ক) সন্ন্যাসী খ) হরিদা

(গ) ভবতোষ ঘ)অনাদি

১.২৯ জগদীশবাবুর বাড়িতে খান একটি মাত্র(ক) হরীতকী (খ) বেল আগত সন্ন্যাসী সারা বছরে (গ) আমলকী (ঘ) কলা

১.৩০ ‘বহুরূপী' গল্পে উল্লিখিত সন্ন্যাসীর বয়স ছিল—
(ক) পাঁচশো বছরেরও বেশি

(খ) হাজার বছরের বেশি

(গ) সত্তর বছরের বেশি

(ঘ) নব্বই বছরের বেশি

১.৩১ জগদীশবাবু সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো নিয়েছিলেন— ক) পা মুছে দেওয়ার ছলে (খ) পায়ে খড়ম পরানোর ছলে (গ) পায়ে জুতো পরানোর ছলে (ঘ) সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম পরানোর ছলে

১.৩২ ‘তা পেতেন না হরিদা।’-হরিদা যা পেতেন না তা হলো(ক) চাকরি (গ) সন্ন্যাসীর পদধূলি (ঘ) জগদীশবাবুর পদধূলি (খ) বকশিশ্ ‘

১.৩৩। আমরা কী বলছি বা না বলছি, সেদিকে হরিদার কান নেই'।—কারণ

(ক) হরিদা চা বানাচ্ছিলেন

(খ) সন্ন্যাসীর গল্প শুনে হরিদা মনে মনে কোনো ছক কষছিলেন

(গ) হরিদা উনানে ফুঁ দিচ্ছিলেন (ঘ) হরিদা ভাত ফুটেছে কিনা দেখছিলেন

১.৩৪ বহুরূপী গল্পে হরিদার ঘরে আড্ডা দিত(ক) পাঁচজন (গ) সাতজন (খ) ছয়জন (ঘ) চারজন

১.৩৫ হরিদার ভয়ানক আপত্তি ছিল— (ঈ) একঘেয়ে কাজ করতে

(খ) একঘেয়ে অভাব সহ্য করতে

(গ) পুলিশের কাজ করতে (ঘ) বহুরূপীর সাজগ্রহণ করতে

১.৩৬ পাগল সেজে হরিদা বাসযাত্রীদের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন—

(ক) হাতে একটা লাঠি নিয়ে (খ) হাতে একটা দা নিয়ে (গ) হাতে এক থান ইট নিয়ে (ঘ) হাতে একটা পাথর নিয়ে

১.৩৭ একা জগদীশবাবু ছাড়া আর কাউকে পায়ের ধুলো নিতে দেননি
ক) বৈরাগী

(খ) সন্ন্যাসী গ) ভবতোষ ঘ) গল্পকথক

১.৩৮ হরিদার সবচেয়ে বেশি রোজগার হয়েছিল

(ক) পুলিশ সেজে

(গ) কাবুলিওয়ালা সেজে

(স) বাইজি সেজে (ঘ) বিরাগী সেজে

১.৩৯ হরিদা বহুরূপী সেজে পথে বের হতেন—

(ক) সপ্তাহে দু-দিন

(খ) সপ্তাহে তিনদিন

(গ) সপ্তাহে একদিন

(ঘ) সপ্তাহে প্রতিদিন

১.80 ‘এবার মারি তো হাতি লুঠি তো ভাণ্ডার।'— বলেছেন—

(খ) হরিদা

(ক) গল্পকথক (গ) জগদীশবাবু

(ঘ) ভবতোষ

১.৪১ ‘আজ ঠিক সন্ধ্যাতেই জগদীশবাবুর কাছে যাব।'— বক্তা জগদীশবাবুর কাছে যাবেন—

(ক) হরিদার খেলা দেখতে (খ) স্পোর্টের চাঁদা আনতে

(গ) দুর্গাপুজোর চাঁদা আনতে (ঘ) জগদীশবাবুকে দেখতে

১.৪২ ‘চমকে উঠলেন জগদীশবাবু।'—কারণ— (ক) হঠাৎ একটি বাঘ এসে পড়েছে (খ) পাগলের ছদ্মবেশে হরিদা এসে দাঁড়িয়েছেন (গ) বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা এসে দাঁড়িয়েছেন (ঘ) হরিদা প্রচণ্ড জোরে চেঁচিয়ে উঠেছেন

১.৪৩ ‘বিরাগীর বেশধারী হরিদার হাতে ছিল'(ক) একটি কমণ্ডলু (খ) একটি চিমটে (গ) একটি মৃগ চর্মের আসন (ঘ) একটি ঝোলা

উত্তর

১.২৮ (খ) হরিদা। ১.২৯ (ক) হরীতকী। ১.৩০ (খ) হাজার বছরের বেশি। ১.৩১ (ঘ) সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম পরানোর ছলে। ১.৩২ (গ) সন্ন্যাসীর পদধূলি। ১.৩৩ (খ) সন্ন্যাসীর গল্প শুনে হরিদা মনে মনে কোনো ছক কষছিলেন। ১.৩৪ (ঘ) চারজন। ১.৩৫ (ক) একঘেয়ে কাজ করতে। ১.৩৬ (গ) হাতে এক থান ইট নিয়ে। ১.৩৭ (খ) সন্ন্যাসী। ১.৩৮ (খ) বাইজি সেজে। ১.৩৯ (গ) সপ্তাহে একদিন। ১.৪০ (খ) হরিদা। ১.৪১ (খ) স্পোর্টের চাঁদা আনতে। ১.৪২ (গ) বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদা এসে দাঁড়িয়েছেন। ১.৪৩ (ঘ) একটি ঝোলা।

পার্ট ফোর

১.৪৪ বিরাগীর বেশধারী হরিদার হাতের ঝোলায় ছিল
(ক) একটি মহাভারত(খ) একটি গীতা

(গ) একটি ভাগবত

(ঘ) একটি পঞ্জিকা

১.৪৫ ‘কী অদ্ভুত উদাত্ত শান্ত ও উজ্জ্বল একটা দৃষ্টি এই আগন্তুকের চোখ থেকে ঝরে পড়ছে।'—এ কথা বলা হয়েছে

(ক) বিরাগীবেশী হরিদা সম্পর্কে (খ) জগদীশবাবু সম্পর্কে

(গ) হিমালয়ের গুহা থেকে আগত সন্ন্যাসী সম্পর্কে (ঘ) ভবতোষ সম্পর্কে

১.৪৬ ‘কেন? কেন আপনি এ কথা কেন বলছেন মহারাজ?'— এই মহারাজ হলেন

(ক) হিমালয় থেকে আগত সন্ন্যাসী

(খ) রাজা কৃষ্ণচন্দ্র (গ) বিরাগী

(ঘ) জটাজুটধারী এক সন্ন্যাসী

১.৪৭ বিরাগীর বেশে হরিদা জগদীশবাবুর বাড়িতে খেয়েছিলেন—
ক)মোহনভোগ (খ) মিষ্টান্ন লুচি

(গ) ঠান্ডা জল

(ঘ) গরম জল

১.৪৮> পাগলবেশী হরিদার গলায় কীসের মালা ছিল?

(ক) তামার

(খ) লোহার

(গ) টিনের কৌটোর

(ঘ) কাঠের

১.৪৯> বিরাগী সুন্দর সুন্দর এক-একটা বঞ্চনা বলেছেন—
(ক) স্নেহ প্রেম ভালোবাসাকে (খ) ধন জন যৌবনকে (গ) স্ত্রী পুত্র সন্তানকে (ঘ) স্নেহ মমতা করুণাকে

১.৫০ বিরাগীর বেশধারী হরিদার মতে সব তীর্থ

(ক) তাঁর বুকের ভিতরে

(গ) পর্বতের উপত্যকায়

(খ) গঙ্গানদীর তীরে

(ঘ) তাঁর বাড়ির কাছে

১.৫১ সম্পত্তির অহংকারে নিজেকে ভগবানের চেয়ে বড়ো মনে করেন।—কত টাকার সম্পত্তি?—

(ক) নয় লক্ষ টাকার

(খ) দশ লক্ষ টাকার

(ঘ) বারো লক্ষ টাকার

১.৫২ হরিদা পুলিশ সেজে কোন্ বাগানে দাঁড়িয়ে ছিলেন?
(ক) লিচু বাগানে (খ) আম বাগানে

(গ) জাম বাগানে

(ঘ) কলা বাগানে

১.৫৩ ‘এটা কি কাণ্ড করলেন হরিদা।'-হরিদা যা করেছিলেন তা হলো

(ক) চায়ে চিনি দেননি
খ)জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকা নেননি

গ) জগদীশবাবুর ওপর রেগে গেছেন

ঘ) বিরাগীর বেশে বিড়ি ধরিয়েছেন

১.৫৪ ‘চমকে ওঠে ভবতোষা'—ভবতোষ চমকে উঠেছিল কারণ—

(ক) সশব্দে বাজ পড়েছিল

(খ) জগদীশবাবু চেঁচিয়ে উঠেছিলেন (গ) হরিদা চেঁচিয়ে উঠেছিল

(ঘ) হরিদাই যে বিরাগীর ছদ্মবেশ ধরেছিলেন এটা জানতে পেরেছিলেন

১.৫৫ 'ইচ্ছেই হলো না।'—কী ইচ্ছে হলো না?

ক) প্রণামীর টাকা নিতে

(খ) বাইজির বেশে নৃত্য করতে

(গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে যেতে

(ঘ) বন্ধুদের চা খাওয়াতে

১.৫৬ ‘অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।'—এই ভুলটি হলো—

(ক) জগদীশবাবুর বাড়িতে না থাকা

(খ) অফিসের চাকরি না নেওয়া

(গ) জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকা না নেওয়া

(ঘ) জগদীশবাবুর কাছে বকশিশ আনতে না যাওয়া।

১.৫৭ জগদীশবাবু হরিদাকে বকশিশ হিসেবে দিতে পারেন বড়োজোর

(ক) আট আনা কিংবা দশ আনা (খ) চার আনা কিংবা আট আনা (গ) ছ-আনা কিংবা দশ আনা (ঘ) আট টাকা কিংবা দশ টাকা

উত্তর

১.৪৪ (খ) একটি গীতা। ১.৪৫ (ক) বিরাগীবেশী হরিদা সম্পর্কে। ১.৪৬ (গ) বিরাগী। ১.৪৭ (গ) ঠান্ডা জল। ১.৪৮ (গ) টিনের কৌটোর। ১.৪৯ (খ) ধন জন যৌবনকে। ১.৫০ (ক) তাঁর বুকের ভিতরে। ১.৫১ (গ) এগারো লক্ষ টাকার। ১.৫২ (ক) লিচু বাগানে। ১.৫৩ (খ) জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকা নেননি। ১.৫৪ (ঘ) হরিদাই যে বিরাগীর ছদ্মবেশ ধরেছিলেন এটা জানতে পেরেছিলেন। ১.৫৫ (ক) প্রণামীর টাকা নিতে। ১.৫৬ (গ) জগদীশবাবুর দেওয়া প্রণামীর টাকা না নেওয়া। ১.৫৭ (ক) আট আনা কিংবা দশ আনা।

পার্ট ফাইভ

১.৫৮ পাগলবেশী হরিদার কোমরে জড়ানো ছিল একটি—

(ক) গামছা

(ঘ) ফুলের মালা

(খ) লুঙ্গি

(ঘ) ছেঁড়া কাঁথা

(গ) ছেঁড়া কম্বল

১.৬৫> বাইজিরূপী হরিদার হাতে কী ছিল?

(খ) ফুলসাজি

১.৫৯ হরিদা পুলিশ সেজে ক-টি ছাত্রকে ধরেছিল?

(ক) চারটি

(খ) পাঁচটি

(গ) ছয়টি

(ঘ) দশটি

১.৬০ পাগলবেশী হরিদার মুখ থেকে লালা ঝরে পড়ছে, চোখ দুটো—

(ক) মোটা

(খ) ভয়ংকর

(গ) টকটকে লাল

(ঘ) কটকটে লাল

১.৬১> গীতা বের করে কী যেন দেখলেন

(ক) জগদীশবাবু

খ) আগন্তুক

(গ) রামবাবু

(ঘ) দয়ালবাবু

১.৬২ জগদীশবাবুর বাড়ির বারান্দায় মস্ত বড়ো একটি—

(ক) ছবি আছে

(খ) সাপ আছে

(গ) পাখি আছে

(ঘ) আলো জ্বলছে

১.৬৩) ‘আগত বিবাগীর পরনে ছোটো বহরের একটি সাদা

(ক) থান

(খ) কাপড়

(গ) লুঙ্গি

(ঘ) পাজামা

১.৬৪ জগদীশবাবুর হাতে থলির ভিতরে ছিল—

(ক) গীতা

(খ ) নোটের খাতা (ঘ) অলংকার

(গ) সোনার জিনিস


১.৬৬) নকল পুলিশ সেজে হরিদা কত ঘুষ নিয়েছিলেন?
(ক) আট আনা (খ) দশ আনা

(গ) এক টাকা (ঘ) আট টাকা

১.৬৭ স্কুলের মাস্টার এসে সেই নকল পুলিশের কাছে—
(ক) অভিযোগ করেন (খ) অনুযোগ করেন (ঘ) তিরস্কার করেন ক্ষমা চান

১.৬৮ বাইজির ছদ্মবেশে হরিদার রোজগার হয়েছিল

ক) আট টাকা দশ আনা

(খ) আট টাকা আট আনা

(গ) দশ টাকা চার আনা

(ঘ) দশ টাকা দশ আনা

১.৬৯ সপ্তাহে হরিদা বহুরূপী সেজে বাইরে যান—

ক) একদিন (গ) তিনদিন

(খ) দুদিন (ঘ) চারদিন

উত্তর

১.৫৮ (গ) ছেঁড়া কম্বল। ১.৫৯ (ক) চারটি। ১.৬০ (ঘ) কটকটে লাল। ১.৬১ (খ) আগন্তুক। ১.৬২ (ঘ) আলো জ্বলছে। ১.৬৩ (ক) থান। ১.৬৪ (খ) নোটের খাতা। ১.৬৫ (খ) ফুলসাজি। ১.৬৬ (ক) আট আনা। ১.৬৭ (গ) ক্ষমা চান। ১.৬৮ (ক) আট টাকা দশ আনা। ১.৬৯ (ক) একদিন।

📘 বহুরূপী গল্পের MCQ প্রশ্ন–উত্তর

1️⃣ “বহুরূপী” গল্পটির মূল বিষয় কী?

A. প্রেম
B. সমাজসংস্কার
C. ভণ্ডামি ও প্রতারণা
D. দেশপ্রেম

সঠিক উত্তর: C. ভণ্ডামি ও প্রতারণা


2️⃣ গল্পে বহুরূপী কাদের বেশি প্রতারিত করে?

A. শিশুদের
B. সাধারণ মানুষকে
C. শিক্ষিত সমাজকে
D. রাজাকে

সঠিক উত্তর: B. সাধারণ মানুষকে

3️⃣ “বহুরূপী” নামকরণের প্রধান কারণ কী?

A. সে অনেক ভাষা জানে
B. সে বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে
C. সে অভিনেতা
D. সে ভ্রমণপ্রিয়

সঠিক উত্তর: B. সে বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে

4. গল্পে বহুরূপীর প্রধান অস্ত্র কী?

A. শক্তি
B. অস্ত্র
C. বুদ্ধি ও ছলনা
D. টাকা

সঠিক উত্তর: C. বুদ্ধি ও ছলনা


5️⃣ বহুরূপী গল্পের মাধ্যমে লেখক কী বোঝাতে চেয়েছেন?

A. মানুষ সহজেই ধনী হতে পারে
B. সমাজে ন্যায় নেই
C. মানুষ সহজেই প্রতারিত হয়
D. শিক্ষা বৃথা

সঠিক উত্তর: C. মানুষ সহজেই প্রতারিত হয়

6️⃣ বহুরূপীর চরিত্র কেমন?

A. সৎ ও ন্যায়পরায়ণ
B. সাহসী
C. ধূর্ত ও চালাক
D. নিরীহ

সঠিক উত্তর: C. ধূর্ত ও চালাক

7️⃣ গল্পটির শিক্ষা কী?

A. সবাইকে বিশ্বাস করা উচিত
B. বাহ্যিক রূপ দেখে মানুষ বিচার করা উচিত নয়
C. ধনই সব
D. ভয়ই সেরা অস্ত্র

সঠিক উত্তর: B. বাহ্যিক রূপ দেখে মানুষ বিচার করা উচিত নয়

8️⃣ বহুরূপী গল্পটি কোন ধরনের গল্প?

A. রোমান্টিক
B. হাস্যরসাত্মক
C. সামাজিক ব্যঙ্গ
D. ঐতিহাসিক

সঠিক উত্তর: C. সামাজিক ব্যঙ্গ

9️⃣ বহুরূপীর আচরণ সমাজের কোন দিকটি তুলে ধরে?

A. মানবতা
B. কুসংস্কার
C. ভণ্ডামি ও অজ্ঞতা
D. দেশপ্রেম

সঠিক উত্তর: C. ভণ্ডামি ও অজ্ঞতা

🔟 গল্পে বহুরূপী বারবার সফল হওয়ার কারণ কী?

A. তার ভাগ্য
B. মানুষের লোভ ও অন্ধবিশ্বাস
C. তার শক্তি
D. তার বন্ধু

সঠিক উত্তর: B. মানুষের লোভ ও অন্ধবিশ্বাস


✍️ পরীক্ষার জন্য এক লাইনের নোট

“বহুরূপী” গল্পে লেখক সমাজের ভণ্ডামি ও মানুষের সহজ বিশ্বাসপ্রবণতাকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরেছেন।

Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default