মাকু গল্পের প্রশ্ন উত্তর 10 অধ্যায় Class 7
মাকু লীলা মজুমদার
দশম পরিচ্ছেদ
মাকু গল্পের প্রশ্ন উত্তর
মাকু গল্পের প্রশ্ন উত্তর 10 অধ্যায় এই আর্টিকেলটিতে মাকু গল্পের প্রশ্ন উত্তর আলোচনা করা হয়েছে।
মাকু প্রশ্ন উত্তর:
বিষয়সংক্ষেপ
মাকু গল্পের বিষয়বস্তু:
টিয়া তার তৈরি গোলাপি কানখুশকি দিয়ে চাবি ঘুরিয়ে মাকুকে চালু করে দেয়। মাকুর সঙ্গে ঘড়িওয়ালার আশ্চর্য খেলা দেখে সবাই অবাক হয়ে যায়। সবার মুখে হাসি ফোটে। ঘাসজমিতে } খেলা শুরু হয়। হোটেলওয়ালাকে সবাই রিং মাস্টার হতে বলে। সে রাজি হয় না। তখন ঘড়িওয়ালার নির্দেশে মাকু তাকে এমন জাপটে ধরে যে, সে বাধ্য হয়ে রাজি হয়ে যায়।
নানা ধরনের খেলার পর সোনা-টিয়া নাচ দেখায়। এরপর হয় মাকুর খেলা। তারপর আসে পরিরানি। পরিরানির সঙ্গে মাকুর বিয়ে দেয় জাদুকর। খেলা শেষ হয়ে গেলেও কেউ বাড়ি যেতে চায় না। আরও খেলা দেখতে চায়। অবশেষে বড়ো আলো নিবিয়ে তবে সকলকে বাড়ি ফেরাতে হয়।
মাকু গল্পের প্রশ্ন উত্তর:অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
একমুখী তথ্যানুসন্ধানী প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
১. ঘাসজমির কাছে আসতে আসতে সোনা, ও টিয়া কী শুনতে পাচ্ছিল।?
। ঘাসজমির কাছে আসতে আসতে সোনা, টিয়া চাপা গোলমালের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল।
বাদকদের ট্যাম কুড় কুড় বাজনার শব্দ তাদের কানে আসছিল।
২. বড়ো মেম কীভাবে বসেছিল ?
• বড়ো মেম চোখে রুমাল দিয়ে গাছের গুঁড়ির উপর সাদা জুতো-মোজা - পায়ে দিয়ে বসেছিল।
৩. মাকু কেমনভাবে পড়েছিল ?
ছাউনির তলায় কম আলো বলে বড়ো ডে-লাইটের নীচে শতরঞ্জির উপর হাত-পা এলিয়ে মাকু পড়েছিল।
৪. মাকুকে চেনা যাচ্ছিল না কেন ?
মাকুকে সং-রা রং মাখিয়েছিল, মেম তাকে নতুন পোশাক পরিয়েছিল, তাই মাকুকে চেনা যাচ্ছিল না।
৫. কী করলে মাকুকে সচল করা যাবে ?
মাকুর নাকে কালো তিলের নীচে টেপা কল আছে; আগে চাবি ঘুরিয়ে তারপরে কলে চাপ দিলেই মাকু আবার সচল হবে।
৬. সোনার বুক ঢিপঢিপ করছিল কেন?
সোনা ভাবছিল যে টিয়ার কাছে যদি চাবি না থাকে বা চাবি দিয়ে কল টেপার পরেও যদি মাকু উঠে না বসে, চোখ না মেলে—এইসব ভাবনাতেই সোনার বুক ঢিপঢিপ করছিল।
৭.কারা মাকুকে ধরে উপুড় করেছিল ?
ঘড়িওয়ালা, সং, জাদুকর, আরও দুজন ষণ্ডা মতো লোক মিলে হেঁইও হেঁইও করে মাকুকে ধরে উপুড় করেছিল।
৮. মাকুর চাবির ছ্যাঁদা কোথায় ছিল?
মাকুর ঘাড়ের নীচে, দুই ডানির মাঝখানে চাবির ছ্যাঁদা ছিল।
৯ জাদুকর মাকুকে কী বলেছিল?
জাদুকর এগিয়ে এসে মাকুকে বলেছিল—সে প্রতিদিন মহা ধুমধাম করে পরিদের রানির সঙ্গে তার বিয়ে দেবে।
১০. সবার মুখে হাসি ফুটলেও সোনা-টিয়ার মন খারাপ হয় কেন ?
মাকুর চাবি ফুরিয়ে যাওয়ার পর থেকে মাকু সোনা ও টিয়াকে চিনতেই পারে না, তাদের কোনো কথাই মাকু শোনে না। এই কারণেই সোনা-টিয়ার মন খারাপ হয় ।
মাকু লীলা মজুমদার:
১১ মাকু কেন ঘড়িওয়ালার কথাই শুনছিল?
ঘড়িওয়ালাই মাকুকে বহু যত্নে তৈরি করেছে, সে-ই হল মাকুর জন্মদাতা, তাই সে শুধুমাত্র ঘড়িওয়ালার কথাই শুনেছিল।
১২. ঘড়িওয়ালা কী বলায় মাকু হোটেলওয়ালাকে জাপটে ধরেছিল?
ঘড়িওয়ালা মালিককে দেখিয়ে যেই মাকুকে বলে—‘ওই ইঁদুর, ধরো,’,, অমনি মাকু হোটেলওলাকে জাপটে ধরেছিল।
১৩. মাকু হোটেলওয়ালাকে ছাড়ল কেন ?
• ঘড়িওয়ালা মাকুকে বলেছিল— 'ছাগল ছাড়ো'; সেই কথাতেই মাকু হোটেলওয়ালাকে ছেড়ে দিয়েছিল।
১৪. খেলা শুরু হলে মাকুকে কোথায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল?
মাকুকে চাটাইয়ের আড়ালে টুলের উপর বসিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে কেউ দেখতে পাচ্ছিল না, কিন্তু সে সবাইকে দেখতে পাচ্ছিল।
১৫. সংএর কোন্ আচরণে গাঁয়ের লোকেরা
সং-হাসছিল ?
সং গাধার টুপি মাথায় দিয়ে একটার পর একটা উলটো দিকে ডিগবাজি
খাচ্ছিল এবং কীসব যেন বলছিল; সং-এর এমন আচরণেই গাঁয়ের লোকেরা হাসছিল।
১৬ বাজনদাররা কোথায় বসেছে?
উত্তর
চাটাইয়ের বেড়ার মাঝখান দিয়ে ভিতরে ঢোকার পথ, সেইখানে মস্ত বড়ো নীল মখমলের ছেঁড়া পর্দা ঝুলছে; তারই একপাশে মাচা বেঁধে বাজনদাররা বসেছে।
১৭ সোনা, টিয়ার নাচ-গান শেষ হলে সং কী করেছিল ?
সোনা, টিয়ার নাচ-গান শেষ হতেই সং পরপর পাঁচটি ডিগবাজি খেয়ে নীচ থেকে এক লাফে বড়ো দোলনায় উঠে বড়ো বড়ো করতাল দিয়ে হাততালি দিয়েছিল।
১৮ দর্শকরা আরও খেলা দেখাতে বললে - জাদুকর কী বলেছিল ?
দর্শকরা মাকুকে আরও খেলা দেখানোর জন্য চিৎকার শুরু করলে জাদুকর বলেছিল মাকুর খেলা শেষ হয়নি, সবাই যেন ধৈর্য ধরে বসে, না হলে কল বিগড়ে যাবে।
১৯ পরিদের রানিকে দেখে গাঁ-এর লোক তাদের ছেলেমেয়েদের কী বলেছিল?
পরীদের রানীকে দেখে গাঁ এর লোক তাদের ছেলেমেয়েদের বলেছিল ওরে গরম কর গড় কর কর আকাশ থেকে পরী এসেছে। আর আমাদের কোন দুঃখই থাকবে না।
২০ দর্শকরা কখন বাড়ির পথে গেল ?
জাদুকর যখন বুদ্ধি নিজেদের বাড়ির পথে ফিরল। বড় আলো নিবিয়ে দিল, তখন দর্শকরা নিজেদের বাড়ির পথে ফিরল।
২১ খেলা শেষ হলে সং-এর দল কী করেছিল?
খেলা শেষ হলে সং-এর দল চারদিকে ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্র, পয়সা কুড়িয়ে মালিকের পাশে জমা করতে শুরু করেছিল।
২২ মাকু ঘড়িওয়ালাকে কী বলে ডেকেছিল ?
মাকু ঘড়িওয়ালাকে ‘বাপ’ বলে ডেকেছিল।
২৩. ঘাসজমিতে কোথায় সার্কাসদল খেলা দেখিয়েছিল ?
ঘাসজমিতে পুরোনো শিরীষ গাছের তলায় সার্কাসদল বিভিন্ন রকমের খেলা দেখিয়েছিল।
২৪. রিং মাস্টার কে হয়েছিল?তার কাজ কি?
হোটেলওয়ালা রিং মাস্টার হয়েছিল।
তার কাজ হল বেত হাতে সুন্দরভাবে খেলা পরিচালনা করা।
মাকু গল্পের অনুশীলনী প্রশ্ন উত্তর:
বোধমূলক প্রশ্নোত্তর
১. ঘাসজমিতে এসে সোনা, টিয়া কী দেখেছিল ?
উত্তর ঘাসজমিতে পৌঁছে সোনা, টিয়া দ্যাখে—বাদ্যকররা ট্যাম কুড় কুড় করে বাজনা অভ্যাস করছে, কিন্তু কারো মনে ফুর্তি নেই। কুকুরদের ছাউনির বাইরে তেলো হাঁড়ির মতো মুখ করে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। বড়ো মেম চোখে রুমাল দিয়ে গাছের গুঁড়ির উপরে সাদা জুতো-মোজা পায়ে দিয়ে বসে আছে; তার চোখ-মুখের রং লেগে রুমালে লাল-কালো ছোপ ধরেছে। ছাউনির নীচে আলো কম বলে বড়ো ডে-লাইট জ্বালানো হয়েছে। ওই ছাউনির নীচেই ময়লা শতরঞ্জির উপরে হাত-পা এলিয়ে মাকু পড়ে আছে ।
২. মাকুকে দেখে কান্না পাচ্ছিল কেন ?
উত্তর ঘাসজমিতে মাকুর দুরবস্থা দেখে সকলেরই কান্না পাচ্ছিল। নেতিয়ে পড়া মাকুকে দেখে সোনা, টিয়া বিস্মিত হয়। একটু আগেও সে কত কথা বলেছে, ধুপধাপ করে জঙ্গলের মধ্যে কেমন হেঁটে বেড়িয়েছে; আর এখন সে চক্ষু মুদে ময়লা শতরঞ্জির উপর মড়ার মতো পড়ে রয়েছে। মাকুর সম্পূর্ণ চেহারাটা কেমন বদলে গেছে! এখন তার হাত-পা কাঠ কাঠ। তার উপর নাকে-মুখে-চোখে রং দেওয়ার লোকেরা এমনভাবে তুলি বুলিয়েছে যে, তাকে আর চেনাই যাচ্ছে না। মাকুর এমন করুণ অবস্থা দেখেই কান্না পাচ্ছিল সকলের।
৩. টিয়ার মাথা ঠুকে গেল কীভাবে? তবু তার কাঁদা হল না কেন ?
উত্তর
নাকের টিপকলটায় চাপ দিতেই মাকু হাত-পা নেড়ে উঠে বসলে, টিয়া আনন্দে তাকে জড়িয়ে ধরে। তখন মাকু টিয়াকে ঝেড়ে ফেলে উঠে দাঁড়াতেই টিয়া মাটিতে পড়ে যায় এবং তার মাথা ঠুকে যায় ।
এইসময় ঘড়িওয়ালা ‘ছেলে’বলে ডাকতেই মাকু তাকে ‘বাপ’ বলে প্রশ্নের উত্তর দেয়, এরপর সম্বোধন করে এবং ঘড়িওয়ালা তাকে নাচতে-গাইতে বলায় সে এক হাত কোমরে আর-এক হাত আকাশে উড়িয়ে বিলিতি কায়দায় গান গেয়ে ওঠে। মাকুর এমন আচরণে অবাক হয়ে গিয়ে টিয়ার আর কাঁদা হয় না ।
৪ সোনা, টিয়াকে সং কী বলে ভোলাতে চায়? মেম ওদের কীভাবে সাজায় ?
উত্তর
চাবি ফুরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই মাকু সোনা, টিয়াকে চিনতে পারছিল না। তাই সোনা, টিয়ার মনে খুব কষ্ট হয়। ওদের দুঃখ দেখে সং-এরও কষ্ট হয়। তখন সং সোনা, টিয়াকে ভোলানোর জন্য বলে—প্রচুর টিকিট বিক্রি হয়েছে, মালিক ওদের জন্য দুটো বড়ো বড়ো প্যাঁ প্যাঁ পুতুল কিনে দেবে বলেছে। এভাবে সংওদের ভোলাতে চেষ্টা করে।
মেম ওদের মুখে পাউডার মাখিয়ে, মাথায় রেশমি ফিতে বেঁধে, গলায় মালা দিয়ে, সেন্ট মাখানো রুমাল দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দেয় ৷
৫. মাকুকে সচল দেখে মেম কী করেছিল?
উত্তর। মাকু সচল হয়ে উঠেই ঘড়িওয়ালার কথামতো নাচ-গান শুরু করে দেয়। মাকুর এমন অবস্থা দেখে আনন্দে মেমের চোখের জল শুকিয়ে, তার মুখে হাসি ফোটে গালে কপালে লাল-কালো রং লেগে যায়। মেম সবাইকে ডেকে বলল—“আর দেরি নয়, বেড়ার বাইরে লোকজন আসতে আরম্ভ করেছে, মাকু রেডি, আমি মুখটা মেরামত করলেই রেডি, তোমরাও সেজেগুজে নাও।”
সোনা-টিয়াকে উদ্দেশ করে মেম বলল—“লক্ষ্মী মেয়েরা, এসো, তোমাদের নতুন জামা পরিয়ে, মালা পরিয়ে, পাউডার মাখিয়ে, মাথার চুলে বো বেঁধে, রুমালে সেন্ট ঢেলে দিই, তোমরাও যে নাচবে-গাইবে।”
৬ সোনা, টিয়া কীভাবে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছিল ?
উত্তরা সবাই মিলে ঠেলেঠুলে পর্দার তলা দিয়ে সোনা, টিয়াকে দর্শকদের সামনে ঠেলে দিলে, প্রথমে অনেক দর্শক দেখে ভয়ের চোটে সোনার হাত-পা ঠান্ডা এবং গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। টিয়া তখন ভয় না পেয়ে দিদির হাত ধরে টেনে মাঝখানের বড়ো আলোর নীচে দাঁড়িয়ে সকলের উদ্দেশে নমস্কার করেই ‘ফুল কলি আসে অলি গুন্গুন্ গুঞ্জনে'—গানটি গাইতে শুরু করলে সোনার ভয় কেটে যায়।
তখন সোনাও টিয়ার সঙ্গে সঙ্গে নাচতে-গাইতে শুরু করে দেয়। তাই দেখে গাছের উপর থেকে দড়াবাজির ছেলেরা ছোটো ছোটো সাদা ফুলের বৃষ্টি করতে থাকে। এই দৃশ্য দেখেই দর্শকরা হাসতে শুরু করল। এভাবেই সোনা ও টিয়া আনন্দ করে গাঁয়ের লোক অর্থাৎ দর্শকদের আনন্দ দেয় ৷
৭. সং যখন মালিককে দর্শকের সামনে দাঁড় করায় তখন কেমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল ?
হোটেলওয়ালার জন্মদিনে খেলা দেখানোর পরে সকলের সঙ্গে হোটেলওয়ালার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য সং বড়ো আলোর নীচে তাকে এনে দাঁড় করালে লজ্জায় তার গাল পাকা আমের মতো লাল হয়ে ওঠে। দাড়ি-গোঁফ প্রায় এক বিঘত ঝুলে পড়ে, সিন্ধুঘোটকের মতো দেখতে লাগে তাকে । হোটেলওয়ালাকে দেখে দর্শকরা তখন উপহার হিসেবে যে যা পারে ছুঁড়ে দিতে থাকে।
ফুল, ফল, লাঠি, মাথায় দেওয়ার টোকা, বাতাসার ঠোঙা, রুমাল, গামছা, পয়সা প্রভৃতি যার কাছে যা ছিল, তাই তাকে উপহার দেয় ৷ তখন আনন্দে-আবেগে হোটেলওয়ালা অর্থাৎ মালিকের চোখ দিয়ে জল ঝরতে থাকে। একটাও কথা সে বলতে পারে না। এমনই এক মনোমুগ্ধকর আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল তখন।
৮ ঘাসজমিতে খেলা দেখানোর পরিবেশের বর্ণনা দাও।
উত্তর
ঘাসজমির খেলা দেখানোর স্থানটি ছিল খুব সুন্দর। সেখানে দেয়াল, চেয়ার, গ্যালারি, টিকিট দেখার লোক কিছুই ছিল না। যারা আসছিল তারা যেখানে পারছিল বসছিল। দর্শকদের কথায়বার্তায় চারদিকটা যেন গমগম করছিল। ঘাসজমির মাঝখানে পুরানো শিরীষ গাছ অনেক উঁচুতে ডালপালা মেলে প্রায় তাঁবুই বানিয়ে ফ্যালে।
ওই গাছের নীচেই খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গুঁড়ির দু-পাশে কিছুটা স্থান চাটাই দিয়ে আড়াল করা হয়েছিল। তার পিছনেই সার্কাস দলের লোকজন সেজেগুজে অপেক্ষা করছিল। ঘাসজমির খেলা দেখানোর স্থানটি বেশ মনোরম হয়ে উঠেছিল।
৯ হেটেলওয়ালাকে কীভাবে রিং-মাস্টার হতে রাজি ....... করানো হয়েছিল ?
প্রথমে সং হোটেলওয়ালাকে রিং-মাস্টার হতে অনুরোধ করেছিল, কিন্তু হোটেলওয়ালা রাজি হয়নি। ঘড়িওয়ালাও অনেক করে অনুরোধ করে তবে, তার কথাও শোনে না হোটেলওয়ালা ।
তখন ঘড়িওয়ালা রেগে গিয়ে মালিককে দেখিয়ে মাকুকে যেই বলে—“ওই ইঁদুর ধরো, অমনি মাকু লাফিয়ে হোটেলওয়ালাকে এমনভাবে জাপটে ধরে যে, বেচারা প্রাণপণে চেঁচিয়ে বলতে থাকে—‘হব, হব, রিং-মাস্টার হব'।
অর্থাৎ ঘড়িওয়ালার কৌশল আর মাকুর শক্ত করে জাপটে ধরাই হোটেলওয়ালাকে রিং-মাস্টার হতে বাধ্য করে।
১০ কেমনভাবে পরিদের রানির সঙ্গে মাকুর বিয়ে হয়েছিল ?
উত্তর পরিদের রানির খেলা দেখানো শেষ হলেই, রানিকে পিঠে নিয়েই দুই ঘোড়া বড়োবড়ো আলোর নীচে এসে হাঁটু গেড়ে বসে। তখন অধিকারীমশাই পরিদের রানিকে হাত ধরে নীচে
নামায়। এরপর বাজনার সঙ্গে সঙ্গে মাকুও নাচতে শুরু করে।
সং বেতের ঝুড়িতে দুই গাছি মোটা গোড়ের মালা আর বরের মাথার টোপর নিয়ে আসে। খুব জোরে জোরে বাজনা বাজাতে { থাকে বাজনদাররা। গাছ থেকে থোকা থোকা ফুল ঝরে পড়তে থাকে। এইসময় মহা ধুমধামে মাকুর সঙ্গে পরিদের রানির বিয়ে হয়।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
মাকু গল্পের প্রশ্ন উত্তর : রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর
১. হোটেলওয়ালার জন্মদিনে ঘাসজমিতে কেমন খেলা দেখানো হয়েছিল?
উত্তর
হোটেলওয়ালার জন্মদিনে ঘাসজমিতে বিভিন্ন প্রকারের খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রথমেই সং গালে চুনকালি মেখে গাধার টুপি মাথায় নিয়ে উলটো দিক দিয়ে ডিগবাজি খেতে থাকে। এরপর দড়াবাজির লোকেরা উপরের দোলনা থেকে লাফিয়ে নীচে নামে আর সং নীচ থেকে লাফিয়ে { উপরের দোলনায় উঠতে চেষ্টা করছিল। এই কাণ্ড দেখে দর্শকরা হেসে হাততালি দেয়।
এরপর সোনা, টিয়া নাচ-গান করে সকলকে আনন্দ দিয়েছিল। গান শেষ হতেই সং পরপর ডিগবাজি খেয়ে নীচ থেকে এক লাফে বড়ো দোলনায় উঠে পড়ে। তারপর দুটো বড়ো বড়ো করতাল দিয়ে হাততালি দিতে থাকে। এরপর মাকু নাচ করে, গান গায়, পেরেক ঠোকে, সাইকেল চালায়, ঘড়িওয়ালার সঙ্গে কুস্তি লড়ে—এইসব কাণ্ড দেখে সবাই অবাক হয়ে যায় ।
চারদিকে ঘন অন্ধকার নেমে আসে কিন্তু ঘাসজমির আলোকময় পরিবেশে খেলা চলতে থাকে। এরই মধ্যে জাদুকরের শাকরেদ কখন গিয়ে ডবল ঘোড়া সাজিয়ে আনে কেউ বুঝতেই পারে না। জাদুকর সেই ঘোড়ার পিঠে পরিদের রানিকে নামায়। সঙ্গে সঙ্গে মাকু বাজনার তালে তালে আবার নাচতে শুরু করে।
গাছের ডালে যে ছেলেরা বসেছিল তারা তখন লাল-হলুদ রঙের রাশি রাশি ফুল নীচে ছড়াতে থাকে। নাচ শেষ হলে এমন সুন্দর পরিবেশে জাদুকর পরিদের রানির সঙ্গে ধুমধাম করে মাকুর বিয়ে দেয়, তা দেখে সবাই আনন্দে ভেসে যেতে থাকে এবং এভাবেই সেদিনের খেলা শেষ হয় ৷
মাকু ক্লাস 7:
২. মাকুকে কীভাবে জীবন্ত করে তোলা হয়েছিল লেখো।
খরগোশ ধরার ফাঁদে যখন মাকুকে পাওয়া যায় তখন চাবি ফুরিয়ে মাকু মড়ার মতো নেতিয়ে পড়েছিল। ঘড়িওয়ালাও মাকুর চাবি কাছে রাখেনি। টিয়া জানায়, সে কানখুশকি বানিয়েছে, তড়বড়িয়ে মাকুর মাথার কাছে উবু হয়ে বসে। ঘড়িওয়ালা, সং, তা দিয়েই মাকুর চাবি ঘোরাতে পারবে। সে পুঁটুলি হাতে করে জাদুকর, আরও দু-একজন মিলে মাকুকে ধরে উপুড় করে দেয়। ঘড়িওয়ালা মাকুর জামার বোতাম খুলে ঘাড়টাকে খালি করে দেয়।
মাকুর দুই ডানির মাঝখানের ছ্যাদায় একটা গোলাপি কাঠি ঢুকিয়ে টিয়া পাক দিতে থাকে। ঘড়িওয়ালা কাঠিটা নিয়ে পাক দিতে চাইলেও টিয়া কনুইয়ের গুঁতো দিয়ে তাকে সরিয়ে দেয় । তখন ঘড়িওয়ালা খুশি হয়ে সরে যায়। যখন চাবি আর ঘোরে না, টিয়া তখন ঘড়িওয়ালার দিকে তাকায় এবং আঙুলের আগা দিয়ে চেপেচুপে দ্যাখে, সত্যই পুরো চাবি দেওয়া হয়েছে কি না । সোনা হাত বাড়িয়ে চাবিটাকে নেওয়ার চেষ্টা করলে, টিয়া ছোঁ মেরে সেটাকে নিয়ে আবার পুঁটুলির মধ্যে গুঁজে রাখে ।
এরপর মাকুকে চিত করা হয়। ঘড়িওয়ালা কিছু বলার আগেই টিয়া পুট করে মাকুর নাকের টিপকলটা টিপে দেয় আর মাকুর মাথার মধ্যে খ-র্-র্-র্-খ্-র্-র্-র্ শব্দ হতে থাকে। মাকুর চোখের পাতা কেঁপে ওঠে, হাত-পা নড়ে, মাকু উঠে বসে। এইভাবে নেতিয়ে পড়া মাকু আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে।

