সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা আলোচনা কর Best 0nline Education

Best Online Education
By -
0

 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা আলোচনা কর Best 0nline Education

সম্মিলিত-জাতিপুঞ্জের-সাফল্য-ও-ব্যর্থতা



 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা। 

সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে সহজ ও বিস্তারিত আলোচনা। আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমালোচনামূলক দিক বিশ্লেষণ করে পরীক্ষামুখী উত্তর প্রস্তুত।

 

 সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল্যায়ন করো।


সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য


উত্তর। ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে যুদ্ধমুক্ত করে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তাকে সুনিশ্চিত করা এবং সাম্য ও সমানাধিকারের ভিত্তিতে বিশ্বজুড়ে সমৃদ্ধির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করার মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ নামক বিশ্ব সংস্থাটির জন্ম হয়। 


 এই বিশ্ব সংস্থাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভগ্নস্তুপের ওপর শুধু একটি শান্তির সৌধ নির্মাণ করেই ক্ষান্ত হবে না, সমগ্র মানবজাতির এক মহাসংসদরূপে (Parliament of man) অথবা একটি বিশ্ব-যুক্তরাষ্ট্র (federation of the world) হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবে—এই উচ্চাশা সেদিন সকলের মনে উঁকি দিয়েছিল।


 

এখন প্রশ্ন হল এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানটি কতখানি তার লক্ষ্যের দিকে এগােতে পেরেছে, আর মানবজাতির আশা-আকাঙ্খকে কতখানি বাস্তবায়িত করতে পেরেছে? এই প্রশ্নটিকে ঘিরে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতবিরােধের অন্ত নেই। সুম্যান (Schuman), পামার ও পারকিনস (Palmer and Perkins), নিকোলাস (Nicholas) প্রমুখ চিন্তাবিদদের মতে,


 

জাতিপুঞ্জ তার উদ্দেশ্য রূপায়ণে পুরােপুরি ব্যর্থ। সুম্যান তাে বলেছেন, “সম্মিলিত “ জাতিপুঞ্জ হল নতুন মােড়কে পুরনাে জাতিসংঘ” ("The United Nations is a League of Nations in a new guise.")। বস্তুতপক্ষে জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে আজ অবধি যেভাবে জাতিতে জাতিতে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, সংকট মুহূর্তে যেভাবে জাতিপুঞ্জকে প্রায় অচল করে দেবার চেষ্টা চালানো হয়েছে, সর্বোপরি জাতিপুঞ্জকে যেভাবে বৃহৎ শক্তিবর্গের (বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের) ক্রীড়নকে পরিণত করার চেষ্টা হয়েছে, তাতে জাতিপুঞ্জ সম্পর্কে গভীর হতাশার সঞ্চার হওয়া আশ্চর্যের নয়।


  তারপর একদল লেখক ও বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যর্থতা, হতাশা ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। নিম্নে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ তুলে ধরা হল :



সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য : কারণ গুলি আলোচনা করা হলো 


(১) আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কোরিয়া সমস্যা, সুয়েজ সমস্যা, কঙ্গো সমস্যা, ভিয়েতনাম সমস্যা, সাইপ্রাস সমস্যা, সিরিয়া ও লেবাননের সমস্যা, কিউবা সমস্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জ উল্লেখযােগ্য অবদান রাখে।



(২) যুদ্ধ প্রতিরােধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়া থেকে আজ পর্যন্ত এই পাঁচ দশকে পৃথিবীতে ছােটখাটো বিবাদ লেগে থাকলেও আন্তর্জাতিক স্তরে কোন বড় বিবাদ বাধে নি। এটি জাতিপুঞ্জের সাফল্যেরই দ্যোতক। বস্তুত সুয়েজ সমস্যা, কোরিয়া সমস্যা, কঙ্গো সমস্যা, আরব-ইস্রায়েল যুদ্ধ প্রভৃতির যে-কোনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বযুদ্ধ বেধে যেতে পারত। কিন্তু প্রধানত জাতিপুঞ্জের হস্তক্ষেপের ফলেই তা ঘটে নি।


(৩) অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সাফল্য ও শুধুমাত্র বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনুন্নত দেশগুলির প্রগতি সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের অবদান কম নয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, ইউনেস্কো (UNESCO), বিশ্ব ব্যাঙ্ক (IBRD), আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)—জাতিপুঞ্জের অধীনস্থ এই সমস্ত সংস্থা অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যথেষ্ট গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। 


(৪) মানবাধিকার রক্ষা ও মানবিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের অবদান কম নয়। ১৯৪৮ সালে জাতিপুঞ্জের উদ্যোগে মানবিক অধিকারের সার্বিক ঘােষণা (Universal Declaration of Human Rights) একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এছাড়া আন্তর্জাতিক ‘ শিশুবর্য, নারীবর্ষ’, ‘প্রতিবন্ধীবর্য’, ‘ বিশ্ব খাদ্য ও আবাসন দিবস’ প্রভৃতি পালনের মাধ্যমে জাতিপুঞ্জ মানবাধিকার সংরক্ষণে এবং সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের যথাযথ মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


(৫) নিরস্ত্রীকরণ ও জাতিপুঞ্জ তার জন্মলগ্ন থেকে নিরস্ত্রীকরণের ক্ষেত্রে, আণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ সভার অধিকাংশ অধিবেশনেই নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে এবং অস্ত্র প্রতিযােগিতার বিপক্ষে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।


(৬) ঔপনিবেশিকতার অবসান : জাতিপুঞ্জের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এশিয়া, আফ্রিকা। ও লাতিন আমেরিকার বহু উপনিবেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা না করে। এছাড়া অছি পরিষদের ১১টি অছি অঞ্চলের মধ্যে ১টি বাদে সবকটি অঞ্চল যত হতন করেছে।


(৭) অন্যান্য ক্ষেত্রে সাফল্য ও বিশের জনগণের বৌদ্ধিক বিকাশে, আন্তর্জাতিকতাবাদের এসারে, বিশ্বের দেশগুলির মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে, অনুন্নত শনির কারিগরি ও প্রযুক্তি বিদ্যাগত দক্ষতার প্রসারে জাতিপুঞ্জের উৎসাহ ও উদ্যোগের ঘাটতি নেই।


সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা ।


জাতিপুঞ্জের সাফল্য ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ করার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে। জাতিপুঞ্জের মূল উদ্দেশ্য হল ভবিষ্যৎ পৃথিবীকে যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে মুক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তি ও নিরাপত্তাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। এই ক্ষেত্রে জাতিপুঞ্জের সাফল্যের থেকে ব্যর্থতাই বেশি।


  মধ্যপ্রাচ্যে আরব-ইস্রায়েল বিরােধ, কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারত পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধ, কিউবা, গুয়েতমালা ও ভিয়েতনামে মার্কিন হস্তক্ষেপ, লেবাননে ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ আক্রমণ, সাম্প্রতিককালে (১৯৯১) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে বহুজাতিক সৈন্যবাহিনী কর্তৃক ইরাক আক্রমণ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতা লক্ষণীয়। 


 ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা। আন্দোলনকালে পাকিস্তানের ব্যাপক নরহত্যা ও নৃশংস অত্যাচারের বিরুদ্ধে জাতিপুঞ্জ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়। হাইতিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে গদিচ্যুত করে সামরিক শাসন কায়েম হল, সােমালিয়ায় মার্কিন হেলিকপ্টার বােমা ফেলে অজস্র নরীহ সামালিকে নিহত অথবা পঙ্গু করল, অথচ জাতিপুঞ্জ থেকে কোন প্রতিবাদ শােনা গেল না। নিরস্ত্রীকরণ তথা অস্ত্র প্রতিযােগিতা রােধে জাতিপুঞ্জ আলােচনা চালিয়েছে বা প্রস্তাব নিয়েছে সত্য, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় নি।


 পৃথিবীতে আণবিক মারণাস্ত্রের ভার রয়েছে, তা দিয়ে পৃথিবীকে কয়েকশ বার ধ্বংস করা যায়। বিশ্বব্যাঙ্ক, হতর্জাতিক অর্থভাণ্ডার প্রভৃতি সংস্থাগুলি অর্থনৈতিক সাহায্যের নামে অনুন্নত দেশের হনতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে, এমনকি তাদের স্বাধীনতাকেও বিপন্ন করে তুলেছে। দক্ষিণ কা, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, প্রিটোরিয়া, জিম্বাবােয়ে প্রভৃতি দেশে মানবাধিকারের চরম • ঘটে চলেছে, অথচ জাতিপুঞ্জ এসব ক্ষেত্রে নীরব। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ •? ?করপে দেখা দিয়েছে। সলােমান রুশদি, তসলিমা নাসরিন প্রমুখ ব্যক্তিদের দে সাদের হীন চক্রান্ত চলেছে, অথচ জাতিপুঞ্জের কোন ইতিবাচক ভূমিকা চোখে পড়ে না।


 জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতার কারণগুলি আলোচনা করা হলো 


জাতিপুঞ্জের এই ব্যর্থতার পশ্চাতে যে কারণগুলি বর্তমান সেগুলি হল নিম্নরূপ : প্রথমত, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা  রক্ষার মূল দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। নিরাপত্তা পদে নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা আবার বৃহৎ শক্তির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পঞ্চশক্তি ঐক্যমতে পেছাতে পারে নি। ফলে শান্তিরক্ষার ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদ যখন ঐ কোন পদক্ষেপ নিতে উদ্যত হয়েছে তখনই পঞ্চশক্তির মধ্যে কেউ না কেউ ভেটো প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদকে অচল করে দিয়েছে।



দ্বিতীয়ত, ভেটো ব্যবস্থা ছাড়াও সনদের বিশেষ কয়েকটি ধারা জাতিপুঞ্জের ব্যর্থতার জন্য দায়ী। উদাহরণস্বরূপ আত্মরক্ষার প্রয়ােজনে যুদ্ধ করার সম্মতি, আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার নীতি' প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য।


তৃতীয়ত, নিজস্ব কোন সৈন্যবাহিনী না থাকা জাতিপুঞ্জের দুর্বলতার অন্যতম কারণ। 


চতুর্থত, জাতিপুঞ্জের নিজস্ব কোন আয়ের উৎস নেই। সদস্য রাষ্ট্রগুলির বিশেষ করে পশ্চিমী দেশগুলির অর্থসাহায্যের ওপর জাতিপুঞ্জকে নির্ভর করতে হয়। জাতিপুঞ্জব নিজের পায়ে দাঁড়ান যত তাসম্ভব হয়ে উঠেছে, পশ্চিমী দেশগুলি ততই তাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগিয়েছে।


পঞ্চমত, অনেকের মতে, আঞ্চলিক শক্তিজোট এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলির উগ্র জাতীয়তাবাদ জাতিপুঞ্জকে দুর্বল করে দিয়েছে।


যষ্ঠত, জাতিপুঞ্জের দুর্বলতার অপর একটি কারণ এর স্বেচ্ছামূলক সদস্যপদ ।

 সপ্তমত, সােভিয়েত ইউনিয়ন সহ বিশ্বের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলির বিপর্যয়ের আগে পর্যন্ত ধনতান্ত্রিক জোট এবং সমাজতান্ত্রিক জোটের মধ্যে যে ঠাণ্ডা লড়াই (Cold War) চলেছিল, তা জাতিপুঞ্জকে ভীষণভাবে দুর্বল করে দেয়।



অষ্টমত, সােভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর (১৯১১) থেকে বিশ্বরাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আর এটাই জাতিপুঞ্জকে আগের থেকেও বেশি স্থবির করে দিয়েছে। পানামা, নিকারাগুয়া, আইভরি কোস্ট, ইকোয়েডর প্রভৃতি দেশে হাজার মানবাধিকার লঙ্নের ঘটনা ঘটছে ; কিন্তু এগুলি জাতিপুঞ্জের নজরে পড়ছে । কী করে পড়বে? টিকি যে আমেরিকার কাছে বাঁধা। নিরাপত্তা পরিষদে ইরাকের ব্যাপারে নেতিবাচক ভােট দেওয়ার অপরাধে ইয়েমেনে সমস্ত রকম মার্কিন সাহায্য বন্ধ হয়ে গেল।

 

উপসংহার :

ওপরের আলােচনা থেকে দেখা যাচ্ছে জাতিপুঞ্জের সাফল্য যেমন আছে, ব্যর্থতাও তেমনি কম নয়। এই সাফল্য ও ব্যর্থতাকে সঙ্গী করেই জাতিপুঞ্জ অর্ধশতাব্দী পার করে দিল। এইভাবেই জাতিপুঞ্জ আরও অনেকদিন টিকে থাকবে। কারণ এর প্রয়ােজন যে এখনও ফুরায়নি। তাই পল লুসাকার সঙ্গে একমত হয়ে বলতে পারি, যে প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক শান্তির স্বার্থে জাতিগুলি একসময় সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠা করেছিল, সে প্রেরণার আজও সমান প্রয়ােজন ।



সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা ১০ নম্বরের উত্তর


✍️ ১০ নম্বরের উত্তর


সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা


সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ১৯৪৫ সালে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক সংস্থা।


সাফল্য :

জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কোরিয়া, কঙ্গো, সাইপ্রাস প্রভৃতি অঞ্চলে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করেছে। মানবাধিকার ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছে। WHO, UNICEF ও UNESCO-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিশু কল্যাণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। উপনিবেশবাদের অবসানেও জাতিসংঘ সহায়তা করেছে।


ব্যর্থতা :

তবে জাতিসংঘ সব ক্ষেত্রে সফল নয়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায় না। ভিয়েতনাম, ইরাক, সিরিয়া ও ইউক্রেনের মতো যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। নিজস্ব সেনাবাহিনী না থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হয়।


উপসংহার :

সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবকল্যাণে জাতিসংঘ একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান।



---


সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা আলোচনা কর ১৫ নম্বরের উত্তর



✍️ ১৫ নম্বরের উত্তর


সম্মিলিত জাতিপুঞ্জের সাফল্য ও ব্যর্থতা আলোচনা কর


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এর সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩টি।


সাফল্য :

জাতিসংঘের অন্যতম সাফল্য হলো আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা। বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠিয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রতিরোধে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৪৮ সালের সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। WHO, UNICEF, FAO ও UNESCO-এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও শিশু কল্যাণে উন্নয়ন ঘটেছে। এছাড়া বহু উপনিবেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে জাতিসংঘের সহায়তায়।


ব্যর্থতা :

অন্যদিকে, নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ব্যবস্থার কারণে বড় শক্তিগুলির আধিপত্য বেড়েছে। অনেক সময় ছোট ও দরিদ্র দেশের সমস্যা উপেক্ষিত হয়েছে। ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ইরাক যুদ্ধ, সিরিয়া ও ইউক্রেন সংকটে জাতিসংঘ কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। নিজস্ব সামরিক শক্তির অভাবও একটি বড় দুর্বলতা।


উপসংহার :

সাফল্য ও ব্যর্থতা মিলিয়ে বিচার করলে বলা যায়, জাতিসংঘ নিখুঁত না হলেও আন্তর্জাতিক শান্তি, মানবাধিকার ও সহযোগিতা রক্ষায় এটি বিশ্বের সবচে১য়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা।




Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default