ইতিহাস রচনার বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা: একটি পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা
ভূমিকা
ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনাবলির বিবরণ নয়; এটি হলো অতীতের ঘটনার বিচার-বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যা। একজন ঐতিহাসিক যখন ইতিহাস লেখেন, তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি বা দর্শনের দ্বারা প্রভাবিত হন। একেই বলা হয় ইতিহাস দর্শন বা Historiography। উনিশ ও বিশ শতকে ইতিহাস চর্চায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে কেবল রাজা-বাদশাহদের যুদ্ধবিগ্রহের কথা লেখা হতো, আধুনিক যুগে সেখানে সাধারণ মানুষ, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতি প্রাধান্য পাচ্ছে।
আজকের এই নিবন্ধে আমরা ইতিহাস রচনার বা ইতিহাস চর্চার বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি (Approaches to the Study of History) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এই আলোচনাটি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং স্নাতক স্তরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেতে পারে।
১. ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি (Religious Perspective)
প্রাচীন ও মধ্যযুগে ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল প্রধান। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাসকে দেখা হতো ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা’ বা দৈবশক্তির প্রকাশ হিসেবে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
কেন্দ্রীভূত বিশ্বাস: এই ধারার ঐতিহাসিকরা মনে করতেন, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ঈশ্বরের নির্দেশে ঘটে। মানুষের কাজ কেবল সেই দৈব পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা।
পাপ-পুণ্যের বিচার: ইতিহাসের ঘটনাগুলিকে নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিচার করা হতো। রাজার উত্থানকে ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং পতনকে ঈশ্বরের অভিশাপ বা পাপের ফল হিসেবে দেখা হতো।
অলৌকিকতা: এই ধরণের ইতিহাসে অলৌকিক ঘটনা, মিথ এবং কিংবদন্তির প্রাধান্য দেখা যায়।
উদাহরণ:
প্রাচীন ভারতের পুরাণ, বৌদ্ধ জাতকের গল্প কিংবা মধ্যযুগের জিয়াউদ্দীন বারানীর লেখা ‘তারিখ-ই-ফিরোজশাহী’-তে এই ধর্মীয় সুর লক্ষ্য করা যায়। ইউরোপে মধ্যযুগে সেন্ট অগাস্টিন বিশ্বাস করতেন যে ইতিহাস হলো "ঈশ্বরের নগরী" (City of God) প্রতিষ্ঠার কাহিনি।
২. যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি (Rationalist Perspective)
অষ্টাদশ শতকে ইউরোপে 'জ্ঞানদীপ্তির যুগ' (Age of Enlightenment) শুরু হওয়ার সাথে সাথে ইতিহাস চর্চায় এক বিশাল পরিবর্তন আসে। ধর্মীয় কুসংস্কারের পরিবর্তে যুক্তি ও বিজ্ঞানমনস্কতা ইতিহাসের প্রধান উপজীব্য হয়ে ওঠে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
কার্যকারণ সম্পর্ক: যুক্তিবাদী ঐতিহাসিকরা মনে করেন, কোনো ঘটনাই অকারণে ঘটে না। প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার পেছনে নির্দিষ্ট কার্যকারণ (Cause and Effect) থাকে।
প্রামাণিক তথ্য: অলৌকিক কাহিনী বর্জন করে কেবল প্রামাণিক দলিল-দস্তাবেজ ও শিলালিপির ওপর ভিত্তি করে ইতিহাস রচনার ওপর জোর দেওয়া হয়।
মানবকেন্দ্রিকতা: এখানে ঈশ্বর নন, মানুষই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের বুদ্ধি, প্রগতি এবং সমাজ বিবর্তনই এখানে মুখ্য।
উদাহরণ:
ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার (Voltaire), ইংরেজ ঐতিহাসিক এডওয়ার্ড গিবন (Edward Gibbon) প্রমুখ ছিলেন এই ধারার পথিকৃৎ। ভারতে উনিশ শতকে পাশ্চাত্য শিক্ষার সংস্পর্শে এসে অনেক ঐতিহাসিক যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিহাস চর্চা শুরু করেন।
৩. সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি (Imperialist Perspective)
আধুনিক ভারতের ইতিহাস চর্চায় সাম্রাজ্যবাদী বা ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রভাবশালী। ব্রিটিশরা ভারত দখল করার পর নিজেদের শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য এবং ভারতীয়দের হীন প্রতিপন্ন করার জন্য এই ধারায় ইতিহাস রচনা শুরু করে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
শ্বেতাঙ্গদের শ্রেষ্ঠত্ব: এই দৃষ্টিভঙ্গির মূল কথা হলো—ইউরোপীয়রা সভ্য এবং এশীয় বা ভারতীয়রা অসভ্য ও বর্বর। তাই ভারতকে সভ্য করার দায়িত্ব ব্রিটিশদের (White Man's Burden)।
প্রাচীন ভারতের সমালোচনা: সাম্রাজ্যবাদী ঐতিহাসিকরা প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতের সমাজ, সংস্কৃতি ও ধর্মকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতেন। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করতেন যে, ব্রিটিশ শাসনের আগে ভারতে কোনো সুশাসন ছিল না।
বিভাজন ও শাসন: জেমস মিল (James Mill) তাঁর 'History of British India' গ্রন্থে ভারতের ইতিহাসকে হিন্দু, মুসলিম ও ব্রিটিশ—এই তিন যুগে ভাগ করেন, যা ছিল সাম্প্রদায়িক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উদাহরণ:
জেমস মিল, ভিনসেন্ট স্মিথ, এলফিনস্টোন প্রমুখ ছিলেন এই ধারার প্রধান ঐতিহাসিক। ভিনসেন্ট স্মিথ আকবরকে 'বিদেশি' এবং সমুদ্রগুপ্তকে 'ভারতের নেপোলিয়ন' বলে ইউরোপীয় মানদণ্ডে বিচার করার চেষ্টা করেছেন।
৪. জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি (Nationalist Perspective)
সাম্রাজ্যবাদী ইতিহাস চর্চার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উনিশ শতকের শেষ দিকে এবং বিশ শতকের শুরুতে ভারতে জাতীয়তাবাদী ইতিহাস চর্চার উদ্ভব ঘটে। ভারতীয় পন্ডিতরা ব্রিটিশদের অপপ্রচারের জবাব দেওয়ার জন্য কলম ধরেন।
মূল বৈশিষ্ট্য:
অতীত গৌরব পুনরুদ্ধার: জাতীয়তাবাদী ঐতিহাসিকরা ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য, বেদ, উপনিষদ এবং মৌর্য-গুপ্ত যুগের শৌর্যবীর্যকে তুলে ধরেন। তারা প্রমাণ করেন যে, ব্রিটিশরা আসার বহু আগেই ভারত সভ্য ও উন্নত ছিল।
দেশপ্রেম: এই ইতিহাস রচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতবাসীর মনে দেশপ্রেম ও আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলা।
ঔপনিবেশিক শোষণের সমালোচনা: তারা দাদাভাই নওরাজির 'ড্রেন থিওরি' বা সম্পদের নির্গমন তত্ত্বের মাধ্যমে দেখান কীভাবে ব্রিটিশরা ভারতকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিচ্ছে।
সীমাবদ্ধতা:
অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে এই ধারার ঐতিহাসিকরা প্রাচীন ভারতের কিছু কুপ্রথা (যেমন জাতিভেদ) এড়িয়ে গেছেন বা অতিরঞ্জিত প্রশংসা করেছেন।
উদাহরণ:
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রমেশচন্দ্র দত্ত (R.C. Dutt), যদুনাথ সরকার, আর. সি. মজুমদার (R.C. Majumdar), কে. পি. জয়সওয়াল প্রমুখ। কে. পি. জয়সওয়াল প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে প্রাচীন ভারতেও প্রজাতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল।
৫. মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি (Marxist Perspective)
বিশ শতকে ইতিহাস চর্চায় সবচেয়ে প্রভাবশালী ধারাগুলোর মধ্যে একটি হলো মার্কসবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। কার্ল মার্কসের 'ঐতিহাসিক বস্তুবাদ' (Historical Materialism)-এর ওপর ভিত্তি করে এই ধারা গড়ে উঠেছে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
অর্থনৈতিক ভিত্তি: মার্কসবাদীরা মনে করেন, ইতিহাসের চালিকাশক্তি কোনো রাজা বা মহাপুরুষ নন, বরং তা হলো অর্থনীতি বা উৎপাদন ব্যবস্থা।
শ্রেণি সংগ্রাম: "আজ পর্যন্ত বিদ্যমান সকল সমাজের ইতিহাস হলো শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস।" অর্থাৎ, শোষক ও শোষিতের দ্বন্দ্বই ইতিহাসের চাকা ঘোরায়।
সামাজিক বিবর্তন: তারা ইতিহাসকে আদিম সাম্যবাদী সমাজ, দাস সমাজ, সামন্ততান্ত্রিক সমাজ, পুঁজিবাদী সমাজ এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ—এই পর্যায়ক্রমিক বিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন।
রাজার বদলে প্রজা: এই দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজার যুদ্ধের চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ব্যবস্থা, এবং কারিগরি প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদাহরণ:
ভারতে রজনী পাম দত্ত (R.P. Dutt)-এর 'India Today' গ্রন্থটি এই ধারার একটি ধ্রুপদী সৃষ্টি। এছাড়াও ডি. ডি. কোসাম্বি (D.D. Kosambi), রামশরণ শর্মা (R.S. Sharma), রোমিলা থাপার, সুমিত সরকার, বিপান চন্দ্র প্রমুখ মার্কসবাদী ঐতিহাসিক হিসেবে খ্যাত। ডি. ডি. কোসাম্বি প্রাচীন ভারতের ইতিহাসকে পুরোপুরি নতুন অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন।
৬. নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চার দৃষ্টিভঙ্গি (Subaltern Perspective)
১৯৮০-এর দশকে ইতিহাস চর্চায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়, যা 'নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চা' বা 'Subaltern Studies' নামে পরিচিত। প্রথাগত ইতিহাস (তা সে জাতীয়তাবাদী হোক বা মার্কসবাদী) সবসময় অভিজাত বা উচ্চবিত্ত শ্রেণির কথা বলেছে। নিম্নবর্গের ইতিহাস সেই প্রথা ভাঙার চেষ্টা করে।
মূল বৈশিষ্ট্য:
তৃণমূল স্তরের মানুষ: এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কৃষক, শ্রমিক, আদিবাসী, নারী এবং সমাজের অবহেলিত অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।
' এলিট' বনাম 'সাবলটার্ন': এরা মনে করেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে কেবল কংগ্রেস বা গান্ধী-নেহেরুর অবদান ছিল না; সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিদ্রোহ করেছিল।
চেতনার স্বাতন্ত্র্য: নিম্নবর্গের ঐতিহাসিকরা দেখান যে, গরিব মানুষের নিজস্ব রাজনীতি ও চেতনার জগত আছে, যা অভিজাতদের থেকে আলাদা। তারা কেবল নেতাদের আজ্ঞাবহ ছিল না।
উদ্ভব ও বিকাশ:
রণজিৎ গুহ (Ranajit Guha) কে এই গোষ্ঠীর জনক বলা হয়। ১৯৮২ সালে 'Subaltern Studies' নামক গ্রন্থমালা প্রকাশের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়।
উদাহরণ:
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শাহিদ আমিন, গৌতম ভদ্র, সুমিত সরকার (পরবর্তী পর্যায়ে), দীপেশ চক্রবর্তী প্রমুখ। গৌতম ভদ্রের 'মুঘল যুগে কৃষি অর্থনীতি ও কৃষক বিদ্রোহ' সংক্রান্ত গবেষণা এই ধারার অনন্য নজির।
৭. অন্যান্য দৃষ্টিভঙ্গি (Other Perspectives)
উপরোক্ত প্রধান ধারাগুলো ছাড়াও আধুনিক যুগে আরও বেশ কিছু দৃষ্টিভঙ্গি ইতিহাস চর্চায় যুক্ত হয়েছে:
ক. নারীবাদী দৃষ্টিভঙ্গি (Feminist Perspective)
আগে ইতিহাসে নারীদের ভূমিকা প্রায় উহ্য থাকত। ১৯৭০-এর দশক থেকে নারীবাদী ইতিহাস চর্চা শুরু হয়। এতে সমাজ, পরিবার ও রাজনীতিতে নারীদের অবদান, পিতৃতান্ত্রিক শোষণ এবং লিঙ্গ বৈষম্যের ইতিহাস তুলে ধরা হয়। জোয়াকিম কেলি, গের্ডা লার্নার এবং ভারতে তনিকা সরকার, উমা চক্রবর্তী প্রমুখ এই ধারার উল্লেখযোগ্য নাম।
খ. পরিবেশগত ইতিহাস (Environmental History)
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সচেতনতার যুগে পরিবেশের ইতিহাস খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মানুষ কীভাবে প্রকৃতির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করেছে, অরণ্য ধ্বংস, নদীমাতৃক সভ্যতা এবং পরিবেশ আন্দোলনের ইতিহাস এখানে আলোচিত হয়। রামচন্দ্র গুহ (Ramachandra Guha), মহেশ রঙ্গরাজন প্রমুখ এই ক্ষেত্রে পথিকৃৎ।
গ. উত্তর-আধুনিকতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি (Post-modernist Perspective)
এই ধারাটি বেশ জটিল। এরা মনে করেন, কোনো ইতিহাসই ধ্রুব সত্য নয়। সব ইতিহাসই আপেক্ষিক এবং ঐতিহাসিকের নিজস্ব ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। মিশেল ফুকো (Michel Foucault) এবং জ্যাক দেরিদা এই মতবাদের প্রবক্তা।
ব্যক্তিগত পরামর্শ (Tips for Students)
প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, ইতিহাস রচনার এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো পড়ার সময় তোমাদের মনে হতে পারে কোনটি সঠিক? আসলে ইতিহাসের কোনো একক 'সঠিক' দৃষ্টিভঙ্গি হয় না। প্রতিটি দৃষ্টিভঙ্গিই সত্যের একটি বিশেষ অংশকে আলোকিত করে।
উত্তর লেখার কৌশল: পরীক্ষায় যখন এই টপিক থেকে প্রশ্ন আসবে, তখন নিরপেক্ষভাবে প্রতিটি পয়েন্ট ব্যাখ্যা করবে। কোনো একটি মতবাদকে শ্রেষ্ঠ বলার প্রয়োজন নেই।
তুলনামূলক আলোচনা: মার্কসবাদী ও জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে পার্থক্য বা মিল দেখাতে পারলে উত্তরে গভীরতা আসবে।
বই পড়ার অভ্যাস: কেবল নোটবুক না পড়ে, মূল ঐতিহাসিকদের কিছু বইয়ের ভূমিকা বা সারাংশ পড়ার চেষ্টা করো। এতে তোমার ধারণা আরও স্বচ্ছ হবে।
উপসংহার
ইতিহাস চর্চার এই বিবর্তন প্রমাণ করে যে, ইতিহাস একটি জীবন্ত বিষয়। এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রাচীনকালের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে শুরু করে আজকের নিম্নবর্গের ইতিহাস চর্চা—এই দীর্ঘ পথচলায় ইতিহাস মানুষের মুক্তির কথা, সাধারণের কথা এবং যুক্তির কথা বলতে শিখেছে। একজন সচেতন পাঠক হিসেবে আমাদের উচিত সব ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে জানা এবং নিজস্ব একটি যুক্তিনির্ভর মতামত গড়ে তোলা।
ইতিহাস আমাদের অতীতকে জানতে সাহায্য করে, যাতে আমরা বর্তমানকে বুঝতে পারি এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।
আরও জানুন (External Resources)
Call to Action: এই আর্টিকেলটি যদি আপনার পড়াশোনায় সাহায্য করে থাকে, তবে অবশ্যই আপনার সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করুন। ইতিহাসের আরও কোনো জটিল বিষয় সম্পর্কে সহজ ব্যাখ্যা চাইলে নিচে কমেন্ট করে জানান। আমরা শীঘ্রই সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিয়ে আসব। নিয়মিত শিক্ষামূলক আপডেটের জন্য আমাদের পেজটি বুকমার্ক করে রাখুন!

