দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন প্রথম অধ্যায় বড় প্রশ্ন উত্তর || Best Online Education

Best Online Education
By -
0

 

দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন প্রথম অধ্যায়: যুক্তি (Argument) – বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর (২০২৬ সাজেশন)

দ্বাদশ-শ্রেণীর-দর্শন-প্রথম-অধ্যায়-বড়-প্রশ্ন-উত্তর



দ্বাদশ শ্রেণীর (Class 12) ছাত্রছাত্রীদের জন্য দর্শন বা Philosophy বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে গণিতের মতো পুরো নম্বর পাওয়া সম্ভব। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন প্রথম অধ্যায় (যুক্তি) নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করব।

এখানে আমরা যুক্তির স্বরূপ, অবরোহ ও আরোহ যুক্তির পার্থক্য এবং যুক্তির বৈধতা ও সত্যতার মতো জটিল বিষয়গুলো খুব সহজ সরল ভাষায় বুঝিয়ে দেব। পাশাপাশি, পরীক্ষায় আসার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্ন ও উত্তর (Broad Questions and Answers) নিয়ে আলোচনা করব।

দর্শন বা যুক্তিবিজ্ঞান কী? (Introduction to Logic)

দর্শনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো চিন্তা বা অনুমান। আর এই চিন্তাকে যখন ভাষায় প্রকাশ করা হয়, তখন তাকে বলা হয় যুক্তি। যুক্তিবিজ্ঞান হলো এমন একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান, যা সত্যকে অর্জন করতে এবং মিথ্যাকে বর্জন করতে আমাদের চিন্তার নিয়মকানুন শিক্ষা দেয়।

এই অধ্যায়টি মূলত অবরোহ যুক্তি (Deductive Logic)-এর ভিত্তি। তাই এই অধ্যায়টি ভালো করে না বুঝলে পরবর্তী অধ্যায়গুলো (যেমন: বচন, অমাধ্যম অনুমান, ন্যায়) বোঝা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই অধ্যায় থেকে সাধারণত MCQ, SAQ এবং অনেক সময় ৪ বা ৮ নম্বরের বর্ণনামূলক প্রশ্নও এসে থাকে।

যুক্তির স্বরূপ ও গঠন (Nature and Structure of Argument)

একটি যুক্তি সাধারণত দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত হয়: ১. আশ্রয়বাক্য বা হেতুুুুবাক্য (Premises) ২. সিদ্ধান্ত (Conclusion)

যে বচন বা বচনগুলোর ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত গঠন করা হয়, তাদের বলা হয় আশ্রয়বাক্য। আর আশ্রয়বাক্য থেকে যে নতুন বচনটি নিঃসৃত হয়, তাকে বলা হয় সিদ্ধান্ত।

উদাহরণ:

  • সকল মানুষ হয় মরণশীল। (প্রধান আশ্রয়বাক্য)

  • রাম হয় মানুষ। (অপ্রধান আশ্রয়বাক্য)

  • ∴ রাম হয় মরণশীল। (সিদ্ধান্ত)

এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে আপনারা <a href="https://www.google.com/search?q=https://bn.wikipedia.org/wiki/%25E0%25A6%25af%25E0%25A7%2581%25E0%25A6%2595%25E0%25A7%258D%25E0%25A6%25A4%25E0%25A6%25BF" target="_blank" rel="noopener noreferrer">উইকিপিডিয়া (যুক্তি)</a> পেজটি দেখতে পারেন।

যুক্তির প্রকারভেদ: অবরোহ ও আরোহ

যুক্তিকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এই পার্থক্যটি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (V.V.I)

১. অবরোহ যুক্তি (Deductive Argument)

যে যুক্তিতে সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং সিদ্ধান্তটি কখনই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হয় না, তাকে অবরোহ যুক্তি বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: এখানে আকারগত সত্যতাই প্রধান। আশ্রয়বাক্য সত্য হলে সিদ্ধান্ত মিথ্যা হতে পারে না (যদি যুক্তিটি বৈধ হয়)।

২. আরোহ যুক্তি (Inductive Argument)

যে যুক্তিতে কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং সিদ্ধান্তটি সর্বদাই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়, তাকে আরোহ যুক্তি বলে।

  • বৈশিষ্ট্য: এখানে সিদ্ধান্তের সত্যতা 'সম্ভাব্য' হয়, নিশ্চিত নয়।

গুরুত্বপূর্ণ বড় প্রশ্ন ও উত্তর (Long Answer Type Questions)

নীচে এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো আলোচনা করা হলো যা পরীক্ষায় আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশ্ন ১: অবরোহ ও আরোহ যুক্তির মধ্যে পার্থক্য আলোচনা করো। (৪+৪ নম্বর)

উত্তর: অবরোহ এবং আরোহ যুক্তি উভয়ই অনুমানের প্রকারভেদ হলেও এদের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। নিচে পার্থক্যগুলো আলোচনা করা হলো:

  1. সিদ্ধান্তের ব্যাপকতা:

    • অবরোহ: অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি কখনই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। এটি হয় আশ্রয়বাক্যের সমান বা কম ব্যাপক হবে।

    • আরোহ: আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্তটি সর্বদা আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়। অর্থাৎ, এখানে বিশেষ থেকে সার্বিকে যাওয়া হয়।

  2. নিঃসরণের প্রকৃতি:

    • অবরোহ: অবরোহ যুক্তিতে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। অর্থাৎ আশ্রয়বাক্য স্বীকার করে সিদ্ধান্ত অস্বীকার করলে স্ববিরোধিতা দেখা দেয়।

    • আরোহ: আরোহ যুক্তিতে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না।

  3. সত্যতা:

    • অবরোহ: অবরোহ যুক্তির লক্ষ্য হলো আকারগত সত্যতা (Formal Truth) প্রতিষ্ঠা করা। বস্তুগত সত্যতা এখানে গৌণ।

    • আরোহ: আরোহ যুক্তির লক্ষ্য হলো বস্তুগত সত্যতা (Material Truth) প্রতিষ্ঠা করা।

  4. সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা:

    • অবরোহ: অবরোহ যুক্তির সিদ্ধান্ত সুনিশ্চিত হয়।

    • আরোহ: আরোহ যুক্তির সিদ্ধান্ত সর্বদা সম্ভাব্য (Probable) হয়।

প্রশ্ন ২: যুক্তির বৈধতা বলতে কী বোঝো? বৈধতা ও সত্যতার মধ্যে সম্পর্ক আলোচনা করো। (৩+৫ নম্বর)

উত্তর:

যুক্তির বৈধতা (Validity of Argument): বৈধতা হলো অবরোহ যুক্তির একটি ধর্ম। একটি যুক্তি তখনই 'বৈধ' হয় যখন তার আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং যুক্তির গঠনের নিয়মগুলো সঠিকভাবে মানা হয়। আর যদি নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়, তবে যুক্তিটি 'অবৈধ' হয়।

বৈধতা ও সত্যতার সম্পর্ক: যুক্তিবিজ্ঞানে 'বৈধতা' এবং 'সত্যতা' দুটি ভিন্ন ধারণা। এদের সম্পর্ক নিচে আলোচনা করা হলো:

১. প্রয়োগক্ষেত্র:

  • 'বৈধতা' বা 'অবৈধতা' কথাটি কেবল যুক্তির (Argument) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

  • 'সত্যতা' বা 'মিথ্যাত্ব' কথাটি কেবল বচনের (Statement/Proposition) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। একটি যুক্তিকে 'সত্য' বলা যায় না, আবার একটি বচনকে 'বৈধ' বলা যায় না।

২. স্বাধীন অস্তিত্ব: যুক্তির বৈধতা বচনের সত্যতার ওপর নির্ভর করে না। একটি যুক্তির আশ্রয়বাক্য মিথ্যা হয়েও যুক্তিটি বৈধ হতে পারে।

  • উদাহরণ:

    • সকল পশু হয় দ্বিপদ। (মিথ্যা)

    • সকল মানুষ হয় পশু। (মিথ্যা)

    • ∴ সকল মানুষ হয় দ্বিপদ। (সত্য) (এটি একটি বৈধ যুক্তি, যদিও আশ্রয়বাক্য মিথ্যা)

৩. সত্য আশ্রয়বাক্য ও মিথ্যা সিদ্ধান্ত: একটি বৈধ যুক্তির ক্ষেত্রে কখনই এমন হতে পারে না যে, আশ্রয়বাক্য সত্য কিন্তু সিদ্ধান্ত মিথ্যা। যদি আশ্রয়বাক্য সত্য হয় এবং যুক্তিটি বৈধ হয়, তবে সিদ্ধান্ত অবশ্যই সত্য হবে।

৪. সিদ্ধান্তের সত্যতা: যুক্তির বৈধতা সিদ্ধান্তের সত্যতার গ্যারান্টি দেয় না। কেবল তখনই সিদ্ধান্ত সত্য হবে, যখন যুক্তিটি বৈধ হবে এবং আশ্রয়বাক্যগুলো বস্তুগতভাবে সত্য হবে।

যুক্তিবিদ্যার মৌলিক ধারণা সম্পর্কে আরও জানতে <a href="https://plato.stanford.edu/entries/logic-classical/" target="_blank" rel="noopener noreferrer">Stanford Encyclopedia of Philosophy</a>-এর এই আর্টিকেলটি দেখতে পারেন।

প্রশ্ন ৩: যুক্তি ও যুক্তির আকারের মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণসহ লেখো।

উত্তর: যুক্তি এবং যুক্তির আকারের ধারণাটি দর্শনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তি (Argument): যুক্তি হলো বচনের সমষ্টি, যেখানে একটি বচন (সিদ্ধান্ত) অন্য বচনগুলো (আশ্রয়বাক্য) থেকে নিঃসৃত হয়। যুক্তি হলো বিষয়বস্তু বা কনটেন্ট।

  • উদাহরণ: সকল ফুল হয় সুন্দর। গোলাপ হয় ফুল। সুতরাং, গোলাপ হয় সুন্দর।

যুক্তির আকার (Form of Argument): যুক্তির আকার হলো যুক্তির কাঠামো বা ছাঁচ। এটি হলো প্রতীকী রূপ, যেখানে বিষয়বস্তু থাকে না। যুক্তির উপাদানগুলো সরিয়ে নিলে যা অবশিষ্ট থাকে, তাই হলো যুক্তির আকার।

  • উদাহরণ:

    • সকল S হয় P

    • সকল M হয় S

    • ∴ সকল M হয় P

পার্থক্য: ১. যুক্তি হলো মূর্ত বা বাস্তব উদাহরণ, কিন্তু যুক্তির আকার হলো বিমূর্ত কাঠামো। ২. যুক্তির আকার দিয়ে আমরা যুক্তির বৈধতা নির্ণয় করি। একই আকারের একাধিক যুক্তি হতে পারে।

ছাত্রদের জন্য কিছু ব্যক্তিগত পরামর্শ (Personal Tips for Students)

দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন পরীক্ষায় ৯০% এর বেশি নম্বর পেতে হলে নিচের টিপসগুলো মেনে চলুন:

  1. সংজ্ঞা মুখস্ত করবেন না, বুঝুন: যুক্তির অধ্যায়টি বোঝার বিষয়। বৈধতা, অবৈধতা, সত্যতা—এই ধারণাগুলো পরিষ্কার না থাকলে পরে ন্যায়ের অধ্যায়ে সমস্যা হবে।

  2. উদাহরণ প্র্যাকটিস করুন: প্রতিটি সংজ্ঞার সাথে একটি করে বাস্তব এবং একটি করে সাঙ্কেতিক উদাহরণ মনে রাখবেন।

  3. পার্থক্য ছক করে লিখুন: পরীক্ষায় পার্থক্য আসলে সবসময় ছক (Table) করে লিখবেন। এতে পরীক্ষক খুশি হন এবং পূর্ণ নম্বর দেন।

  4. ছোট প্রশ্নে জোর দিন: এই অধ্যায় থেকে প্রচুর ছোট প্রশ্ন আসে। যেমন—"বৈধতা কার ধর্ম?", "অনুমান ও যুক্তির পার্থক্য কী?"। এগুলো ভালো করে পড়ুন।

  5. হাতের লেখা: দর্শন পরীক্ষায় প্রচুর লিখতে হয় না, কিন্তু যা লিখবেন তা স্পষ্ট হতে হবে। লজিক অংশটি পরিষ্কারভাবে ধাপে ধাপে করবেন।

উপসংহার (Conclusion)

দ্বাদশ শ্রেণীর দর্শন প্রথম অধ্যায় অর্থাৎ 'যুক্তি' বিষয়টি খুব কঠিন নয়, যদি আপনি সঠিক পদ্ধতিতে এটি অধ্যায়ন করেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা চেষ্টা করেছি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সহজ ভাষায় তুলে ধরার। আশা করি, এই নোটসগুলো আপনাদের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় দারুণভাবে সাহায্য করবে।

আপনার যদি কোনো নির্দিষ্ট প্রশ্ন থাকে বা দর্শনের অন্য কোনো অধ্যায় নিয়ে নোটস চান, তাহলে নিচে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন। পড়াশোনা চালিয়ে যান, সাফল্য আসবেই!

Call to Action (CTA): প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা, আর্টিকেলটি ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। দর্শনের সম্পূর্ণ সিলেবাসের ফ্রি নোটস পেতে আমাদের টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হোন অথবা বুকমার্ক করে রাখুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে লিখুন, আমরা দ্রুত উত্তর দেব।

(সতর্কীকরণ: এই আর্টিকেলের সমস্ত তথ্য শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে তৈরি। পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সর্বদা আপনার পাঠ্যবই এবং শিক্ষকের পরামর্শ অনুসরণ করুন।)

Tags:

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default