ভারতের সংবিধান মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতি - সম্পূর্ণ আলোচনা ও পার্থক্য | Indian Constitution Fundamental Rights & DPSP Notes

Best Online Education
By -
0

 ভারতের সংবিধান: মৌলিক অধিকার ও নির্দেশমূলক নীতি - সম্পূর্ণ আলোচনা ও পার্থক্য | Indian Constitution Fundamental Rights & DPSP Notes

ভারতের-সংবিধান-মৌলিক-অধিকার-ও-নির্দেশমূলক-নীতি



ভারতের সংবিধানের মৌলিক অধিকার (Part III) এবং রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (Part IV) সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন। ধারা অনুযায়ী ব্যাখ্যা, গুরুত্ব এবং দুটির মধ্যে পার্থক্য—ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ নোটস।


ভারতের সংবিধান: মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি

ভারতের সংবিধান হলো দেশের সর্বোচ্চ আইন এবং গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের সার্বিক বিকাশ এবং জনকল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান প্রণেতারা দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংবিধানে যুক্ত করেছেন। একটি হলো 'মৌলিক অধিকার' (Fundamental Rights) এবং অন্যটি হলো 'রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি' (Directive Principles of State Policy বা DPSP)। গ্র্যানভিল অস্টিন (Granville Austin) এই দুটি অংশকে সংবিধানের "বিবেক" (Conscience of the Constitution) বলে অভিহিত করেছেন।


আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই দুটি বিষয় নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করব, যা স্কুল-কলেজের পরীক্ষা থেকে শুরু করে WBCS, UPSC বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত সহায়ক হবে।


প্রথম পর্ব: মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights)

সংবিধানের তৃতীয় অংশে (Part III) ১২ থেকে ৩৫ নম্বর ধারার মধ্যে মৌলিক অধিকারগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই ধারণাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান (Bill of Rights) থেকে গৃহীত হয়েছে। একে ভারতের সংবিধানের 'ম্যাগনা কার্টা' (Magna Carta) বলা হয়।


মৌলিক অধিকার হলো সেই সকল অধিকার যা নাগরিকদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ, মর্যাদা রক্ষা এবং সমতার জন্য অপরিহার্য। এই অধিকারগুলো রাষ্ট্র হরণ করতে পারে না এবং এগুলো ক্ষুন্ন হলে নাগরিক সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারেন।


বর্তমানে ৬টি মৌলিক অধিকার রয়েছে:

মূল সংবিধানে ৭টি মৌলিক অধিকার ছিল। কিন্তু ১৯৭৮ সালের ৪৪তম সংশোধনীতে 'সম্পত্তির অধিকার'কে (Right to Property) মৌলিক অধিকারের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ৩০০-এ (300A) ধারায় সাধারণ আইনি অধিকারে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান ৬টি অধিকার নিচে আলোচনা করা হলো:


১. সাম্যের অধিকার (Right to Equality) [ধারা ১৪-১৮]

গণতন্ত্রে আইনের চোখে সবাই সমান। এই অধিকারটি বৈষম্য দূর করে।


ধারা ১৪: আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং আইন কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার। অর্থাৎ, ধনী-দরিদ্র, উচ্চ-নিচ নির্বিশেষে আইন সবার জন্য সমান।


ধারা ১৫: ধর্ম, জাতি, বর্ণ, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করতে পারবে না।


ধারা ১৬: সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা। (তবে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা ব্যতিক্রম নয়)।


ধারা ১৭: অস্পৃশ্যতা বিলোপ (Abolition of Untouchability)। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্পৃশ্যতা পালন করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।


ধারা ১৮: খেতাব বা উপাধি বিলোপ। সামরিক বা শিক্ষাগত খেতাব ছাড়া রাষ্ট্র অন্য কোনো খেতাব (যেমন—রায়বাহাদুর, খানবাহাদুর) দিতে পারবে না।


২. স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom) [ধারা ১৯-২২]

ব্যক্তি স্বাধীনতার রক্ষাকবচ হলো এই অংশটি।


ধারা ১৯: এখানে ৬টি স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে:


বাক্ ও মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা।


শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্রে সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা।


সমিতি বা সংঘ গঠনের স্বাধীনতা।


ভারতের সর্বত্র চলাফেরা করার স্বাধীনতা।


ভারতের যেকোনো অংশে বসবাস করার স্বাধীনতা।


যেকোনো পেশা বা ব্যবসা করার স্বাধীনতা।


ধারা ২০: অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া সংক্রান্ত সুরক্ষা। একজন ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য একাধিকবার শাস্তি দেওয়া যাবে না।


ধারা ২১: জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার (Protection of Life and Personal Liberty)। আইনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট এই ধারাটিকে অত্যন্ত ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করেছে (যেমন—গোপনীয়তার অধিকার, নির্মল পরিবেশের অধিকার)।


ধারা ২১(এ): শিক্ষার অধিকার। ২০০২ সালে ৮৬তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি যুক্ত করা হয়। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের কর্তব্য।


ধারা ২২: গ্রেপ্তার ও আটকের বিরুদ্ধে সুরক্ষা। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।


৩. শোষণের বিরুদ্ধে নাগরিকের অধিকার (ধারা ২৩ ও ২৪)

দুর্বল ও অসহায় মানুষদের রক্ষার জন্য এই অধিকার।


ধারা ২৩: মানুষ ক্রয়-বিক্রয় (Human Trafficking) এবং বেগার খাটানো (Forced Labour) নিষিদ্ধ।


ধারা ২৪: ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের কলকারখানা, খনি বা অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা নিষিদ্ধ।


৪. ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার (Right to Freedom of Religion) [ধারা ২৫-২৮]

ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, তাই এখানে সব ধর্মের সমান মর্যাদা রয়েছে।


ধারা ২৫: বিবেক অনুযায়ী ধর্ম গ্রহণ, আচরণ ও প্রচারের স্বাধীনতা।


ধারা ২৬: ধর্মীয় কার্যাবলি পরিচালনার স্বাধীনতা।


ধারা ২৭: কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রসারকল্পে কর বা চাঁদা দিতে বাধ্য করা যাবে না।


ধারা ২৮: সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা যাবে না।


৫. সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক অধিকার (Cultural and Educational Rights) [ধারা ২৯-৩০]

সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই অধিকার দেওয়া হয়েছে।


ধারা ২৯: সংখ্যালঘুরা তাদের নিজস্ব ভাষা, লিপি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করতে পারবে।


ধারা ৩০: ধর্মীয় বা ভাষাগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে।


৬. সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার (Right to Constitutional Remedies) [ধারা ৩২]

ডঃ আম্বেদকর এই ধারাটিকে সংবিধানের "হৃদয় ও আত্মা" (Heart and Soul) বলেছেন।


যদি ওপরের কোনো মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, তবে নাগরিক সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন।


নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য সুপ্রিম কোর্ট ৫ ধরনের লেখ বা রিট (Writs) জারি করতে পারে: বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus), পরমাদেশ (Mandamus), প্রতিষেধ (Prohibition), অধিকার পৃচ্ছা (Quo-Warranto) এবং উৎপ্রেষণ (Certiorari)।


দ্বিতীয় পর্ব: রাষ্ট্রপরিচালনার নির্দেশমূলক নীতি (Directive Principles of State Policy)

সংবিধানের চতুর্থ অংশে (Part IV) ৩৬ থেকে ৫১ নম্বর ধারায় নির্দেশমূলক নীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে। এই ধারণাটি আয়ারল্যান্ডের সংবিধান থেকে নেওয়া হয়েছে।


এই নীতিগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতে একটি 'জনকল্যাণকর রাষ্ট্র' (Welfare State) প্রতিষ্ঠা করা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করা। সরকার যখন কোনো আইন তৈরি করবে বা দেশ পরিচালনা করবে, তখন এই নীতিগুলোকে নির্দেশিকা হিসেবে মেনে চলবে।


বিষয়বস্তু অনুযায়ী এই নীতিগুলোকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়:


১. সমাজতান্ত্রিক নীতি (Socialist Principles)

এই নীতিগুলোর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা।


ধারা ৩৮: রাষ্ট্র জনগণের কল্যাণের জন্য একটি সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলবে।


ধারা ৩৯: নারী-পুরুষ সবার জন্য সমান জীবিকার সুযোগ, সম্পদের সুষম বণ্টন এবং একই কাজের জন্য একই বেতনের ব্যবস্থা করা।


ধারা ৪১: বেকার, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য কাজের ও সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করা।


ধারা ৪২: কাজের জায়গায় মানবিক পরিবেশ এবং প্রসূতিদের জন্য ছুটির ব্যবস্থা (Maternity Relief) নিশ্চিত করা।


২. গান্ধীবাদী নীতি (Gandhian Principles)

মহাত্মা গান্ধীর স্বপ্ন ও আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য এই নীতিগুলো যুক্ত হয়েছে।


ধারা ৪০: গ্রাম পঞ্চায়েত গঠন এবং তাদের স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা প্রদান।


ধারা ৪৩: গ্রামিণে কুটির শিল্পের প্রসার ঘটানো।


ধারা ৪৬: তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি উপজাতি (ST) এবং দুর্বল শ্রেণির মানুষের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষা।


ধারা ৪৭: জনস্বাস্থ্যর উন্নতি এবং মাদকদ্রব্য বা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর পানীয় নিষিদ্ধকরণ।


ধারা ৪৮: কৃষি ও পশুপালনের উন্নতি এবং গো-হত্যা বন্ধ করা।


৩. উদারনৈতিক ও বুদ্ধিবাদী নীতি (Liberal-Intellectual Principles)

আধুনিক ও প্রগতিশীল ভারত গড়ার লক্ষ্যে এই নীতিগুলো গৃহীত হয়েছে।


ধারা ৪৪: সমগ্র ভারতের নাগরিকদের জন্য একটি 'অভিন্ন দেওয়ানি বিধি' (Uniform Civil Code) প্রবর্তন করা। (বর্তমানে এটি নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে)।


ধারা ৪৫: ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের যত্ন ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা (প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা)।


ধারা ৪৮(এ): পরিবেশ রক্ষা এবং বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ। (এটি ৪২তম সংশোধনীর মাধ্যমে যুক্ত)।


ধারা ৫০: বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে আলাদা বা পৃথক রাখা।


ধারা ৫১: আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা এবং অন্যান্য দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। ভারতের বিদেশ নীতির ভিত্তি হলো এই ধারাটি।


মৌলিক অধিকার বনাম নির্দেশমূলক নীতি: পার্থক্য কী?

পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য এই পার্থক্যটি ছক আকারে বা পয়েন্ট আকারে লেখা খুব জরুরি।


বিষয় মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) নির্দেশমূলক নীতি (DPSP)

উৎস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) আয়ারল্যান্ড (Ireland)

অবস্থান সংবিধানের তৃতীয় অংশ (Part III) সংবিধানের চতুর্থ অংশ (Part IV)

প্রকৃতি এগুলো ন্যায়বিচারযোগ্য (Justiciable)। অর্থাৎ অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালতে যাওয়া যায়। এগুলো ন্যায়বিচারযোগ্য নয় (Non-justiciable)। এগুলোর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা যায় না।

উদ্দেশ্য রাজনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। সামাজিক ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং জনকল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

বাধ্যবাধকতা এগুলো রাষ্ট্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে (রাষ্ট্রকে কিছু কাজ করা থেকে বিরত রাখে)। এগুলো রাষ্ট্রের ওপর ইতিবাচক নির্দেশ (রাষ্ট্রকে কিছু কাজ করতে বলে)।

আইনি বল এর পেছনে আইনি শক্তি রয়েছে। এর পেছনে নৈতিক ও জনমতের শক্তি রয়েছে।


সম্পর্ক ও উপসংহার

মৌলিক অধিকার এবং নির্দেশমূলক নীতি—উভয়েই একে অপরের পরিপূরক। 'মিনার্ভা মিলস মামলা' (১৯৮০)-তে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল যে, ভারতের সংবিধান মৌলিক অধিকার এবং নির্দেশমূলক নীতির মধ্যে ভারসাম্য বা 'Harmonious Construction'-এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। একটি হলো গাড়ির চাকার মতো, একটি ছাড়া অন্যটি অচল।


ব্যক্তির বিকাশের জন্য যেমন মৌলিক অধিকার প্রয়োজন, তেমনি সমাজের সামগ্রিক উন্নতির জন্য নির্দেশমূলক নীতি অপরিহার্য। ছাত্রছাত্রীদের মনে রাখতে হবে, নির্দেশমূলক নীতি আদালতে বলবৎযোগ্য না হলেও, দেশ শাসনের ক্ষেত্রে এগুলোই হলো মৌলিক ভিত্তি।


ছাত্রছাত্রীদের জন্য টিপস (Exam Tips):

ধারা মনে রাখা: ধারা ১৪, ১৭, ১৯, ২১, ৩২ (মৌলিক অধিকার) এবং ধারা ৪০, ৪৪, ৫১ (নির্দেশমূলক নীতি) খুব গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মুখস্থ রাখবে।


সংশোধনী: ৮৬তম সংশোধনী (শিক্ষার অধিকার) এবং ৪৪তম সংশোধনী (সম্পত্তির অধিকার বাদ) উল্লেখ করলে উত্তরে গুণগত মান বাড়ে।


রিট: ধারা ৩২-এর অধীনে ৫টি রিটের নাম 


ভারতের সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় ৫টি বিশেষ আদেশ বা 'রিট' (Writs) জারি করতে পারে। নিচে এগুলোর বিস্তারিত নাম এবং সহজ অর্থ দেওয়া হলো:


সুপ্রিম কোর্টের ৫টি রিট (Writs of Supreme Court)

১. বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ (Habeas Corpus): এর আক্ষরিক অর্থ হলো 'সশরীরে হাজির করা'। কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হলে, আদালত এই রিট জারি করে আটক ব্যক্তিকে সশরীরে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। যদি আটক করার কারণ বৈধ না হয়, তবে আদালত তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয়।


২. পরমাদেশ (Mandamus): এর অর্থ হলো 'আমরা আদেশ দিচ্ছি'। কোনো সরকারি আধিকারিক বা প্রতিষ্ঠান যদি তাদের আইনি কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত এই রিট জারি করে তাকে সেই নির্দিষ্ট কাজটি করার নির্দেশ দেয়।


৩. প্রতিষেধ (Prohibition): এর অর্থ 'নিষেধ করা'। উচ্চ আদালত যখন দেখে যে কোনো নিম্ন আদালত তার এক্তিয়ার বা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কোনো মামলার বিচার করছে, তখন সেই মামলার কাজ বন্ধ করার জন্য এই রিট জারি করা হয়।


৪. অধিকার পৃচ্ছা (Quo-Warranto): এর অর্থ হলো 'কোনো অধিকারে'। কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে কোনো সরকারি পদ দখল করে রাখেন, তবে আদালত এই রিটের মাধ্যমে জানতে চায় তিনি কোন অধিকারে বা যোগ্যতায় ওই পদে আসীন আছেন। সঠিক উত্তর দিতে না পারলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়।


৫. উৎপ্রেষণ (Certiorari): এর অর্থ হলো 'বিশেষভাবে জ্ঞাত হওয়া' বা 'প্রমাণিত হওয়া'। নিম্ন আদালতের কোনো মামলার রায় যদি ভুল হয় বা ক্ষমতার বাইরে গিয়ে দেওয়া হয়, তবে উচ্চ আদালত সেই রায় বাতিল করে মামলাটি নিজের কাছে নিয়ে আসার জন্য এই রিট জারি করে।




আশা করি এই নোটসটি তোমাদের পড়াশোনায় সাহায্য করবে। যদি আরও কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে নোটস প্রয়োজন হয়, তবে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারো!

Post a Comment

0 Comments

Post a Comment (0)
3/related/default